Skip to content

মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে শুনলাম এক কাটমোল্লার গালি

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি




মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে শুনলাম এক কাটমোল্লার গালি
সাইয়িদ রফিকুল হক

মানুষ বড় আশা নিয়ে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যায়। আর বড় আশা থাকে মানুষের মনে। আজ হয়তো নতুন কিংবা ভালো কোনো কথা সে শুনবে। কিন্তু সে আশায় গুড়ে বালি।
আজ আমিও মসজিদে গিয়ে বড় আশাহত আর মর্মাহত হয়েছি। আর মনে মনে ভীষণভাবে লজ্জিত হয়েছি। আমাদের দেশের আজকালকার এইসব মসজিদের ইমাম কি পাগল? এদের কথাবার্তার কোনো লাগাম নাই। এরা দিন-রাত পাগলের মতো প্রলাপ বকে যাচ্ছে। আর নিজের মনগড়া কথাকে আজ নিজের স্বার্থে ধর্ম বলে প্রচার করছে।

জুম্মার নামাজে মসজিদের ইমামদের নামাজের ও খুতবার আগে খুব সংক্ষেপে আর সামান্য-কিছু কথা বলার নিয়ম আছে। এটি সাধারণভাবে খুতবার ‘বয়ান’-নামে অভিহিত। অর্থাৎ, খুতবার আগে আরবি-খুতবার কথাগুলো বাংলায় বলা। কিন্তু এইসব ইমাম-নামধারী জাহেল আল্লাহ-রাসুলের কথা বাদ দিয়ে নিজের মনগড়া কথাকে আজ ধৃষ্টতার সঙ্গে ধর্ম বলে প্রচার করছে।

আজ মসজিদে বসতে-না-বসতেই মসজিদের ইমাম ওরফে মোল্লা বলতে লাগলো: “মাদ্রাসায় পড়তে হবে। আর মাদ্রাসায় না পড়লে রক্ষা নাই। এখনও সময় আছে আপনাদের ছেলে-মেয়েদের মাদ্রাসায় পড়ান। নইলে পরকালে আল্লাহর আজাব থেকে কেউই বাঁচতে পারবেন না! একমাত্র মাদ্রাসাশিক্ষাই হলো ইসলামীশিক্ষা। আর বাদ-বাকী সবই ইসলামবিরোধী—ইহুদী-নাসারাদের শিক্ষা। মুসলমানের জন্য স্কুলে-কলেজে পড়া ঠিক নয়। আর এটি জায়েজও নয়। এব্যাপারে শরীয়তী-ব্যাখ্যা আছে। মুসলমান পড়বে মাদ্রাসায়। আর মাদ্রাসায় পড়লে ঈমান-রক্ষা করতে পারবেন। তা-না-হলে কাইল কিয়ামতে আল্লাহর কাছে ধরা খাবেন। আপনার ছেলে-মেয়েকে চরিত্রবান বানাতে চাইলে তাদের এখনই মাদ্রাসায় পড়ানোর কথা ভাবেন। নইলে আর ভাবাভাবির সময় পাবেন না। স্কুল-কলেজে পড়ে আপনার ছেলে-মেয়ে কিছুই হতে পারবে না। আর সেখানে তারা শুধু বেআদবি শিখবে। কিন্তু এরা মাদ্রাসায় পড়লে আলেম হতে পারবে।”
এরা প্রতিনিয়ত এভাবে, দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় সাধারণ শিক্ষিত-মানুষদের গালিগালাজ করছে। আর বর্তমান-বিশ্বের কাঙ্ক্ষিত-শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে।
আজ আমার নিজেরও মনটা খারাপ হয়ে গেল। মসজিদে নামাজ পড়তে এসে এইরকম একটা অর্বাচীনের গালিগালাজ শুনতে হলো! আজ এদের বিরুদ্ধে বিচার চাইবো কার কাছে?

এইসব সস্তা-মোল্লা তথা কাটমোল্লাদের কতবড় ধৃষ্টতা! এরা পরের খেয়ে গান গাইছে অন্যের। আর নিজের স্বার্থে ইসলামের দোহাই দিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষার কথা বলে নিজেদের আখের গোছানোর কথা বলছে। পবিত্র কুরআনের কোথাও মাদ্রাসাশিক্ষার কথা নাই। এমনকি আল-কুরআনের কোথাও ‘মাদ্রাসা’শব্দটি একবারও উচ্চারণ করা হয়নি। ইসলামের নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর সমগ্র-জীবনে একবারও ‘মাদ্রাসা’শব্দটি উচ্চারণ করেননি। আর হাদিসে কোথাও ‘মাদ্রাসা’শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায় না। ইসলামে মাদ্রাসাশিক্ষার কোনো স্বীকৃতি নাই। এটি একটি বিদআতীশিক্ষা। অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার অনেক পরে এইসব ‘মাদ্রাসা’ বা ‘মাদ্রাসাশিক্ষাব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে। আর তা-ই নিয়ে এইসব দেড়-টাকা আর দুই-টাকা দামের মৌলোভীদের এতো বড়াই! আর এরা যে-ভাবে গায়ের জোরে আর নিজের দুনিয়াবীস্বার্থে সবসময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার বিরুদ্ধে, আর মাদ্রাসাশিক্ষার পক্ষে কথা বলে—তাতে মনে হয় এদের কাছে যেন এইমাত্র ওহীনাজিল হয়েছে! এরা এমনই মিথ্যাবাদীভণ্ড! আর এরাই বলে মসজিদের ইমাম!


মাদ্রাসাশিক্ষা নিয়ে ইতঃপূর্বে ইস্টিশন-ব্লগে আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছিলো। লেখাটির শিরোনাম ছিল: পবিত্র ইসলামধর্মে ‘মাদ্রাসা’ বা ‘মাদ্রাসাশিক্ষা’ বলে কোনো শিক্ষা নাই। এগুলো ইংরেজ-আমলে ইংরেজদের আবিষ্কৃত-প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা (প্রথম পর্ব)। এখানে, পাঠকের সুবিধার্থে ওই লেখাটির একটি লিংক সংযুক্ত করা হলো। আশা করি, পাঠকমহল মাদ্রাসাশিক্ষাবিষয়ে অবগত হতে পারবেন।

পবিত্র কুরআনের কোথাও স্কুল-কলেজ নিয়ে কোনোরকম কথাবার্তা নাই। এগুলো ইসলামের আবির্ভাবের অনেক পরে গড়ে উঠেছে। এগুলো মানুষের প্রয়োজনে মানুষের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার অনন্য প্রতিষ্ঠান। পবিত্র কুরআনে কিংবা রাসুলের কোনো কথায় কখনও স্কুল-কলেজের শিক্ষাকে কটূক্তি করা হয়নি। কিন্তু এইসব পরের খাওয়া, দেড়টাকা-দুইটাকা দামের মোল্লারা আজ নিজের স্বার্থে হাদিস বানিয়ে মাদ্রাসাশিক্ষাকে জায়েজ ও একমাত্র ইসলামীশিক্ষাব্যবস্থা, আর স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষাকে ইসলামবিরোধী ও নাজায়েজ শিক্ষা বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। আর একশ্রেণীর মূর্খ-মুসলমান কোনোকিছু না বুঝে তা-ই কানপেতে শুনছে। আর এই মূর্খদেরই বাহবা দিচ্ছে!

মসজিদের একশ্রেণীর মূর্খ-ইমাম নিজের খেয়াল-খুশিমতো আজকাল যা-খুশি তা-ই বলছে, আর করছে। আর এব্যাপারে আমাদের সরকার একেবারে নির্বিকার! ভাবখানা দেখে মনে হয়: এরা যেন সরকারের বেয়াই। তাই, মসজিদের মতো পবিত্র জায়গায় বসে এইসব মূর্খ-ইমাম আজ জাতির শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এতোটা নগ্ন-কথা বলার সাহস পাচ্ছে। এরা আমাদের মূলধারার শিক্ষা নিয়ে মসজিদের ভিতরে হাসি-ঠাট্টা-মশকরা করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। কিন্তু এদের প্রতিহত করার দায়িত্ব কাদের? নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের। আর রাষ্ট্র আর-কতকাল হাত-পা-গুটিয়ে এভাবে বসে থাকবে?

মাদ্রাসায় পড়ে আজ পর্যন্ত কাউকে বিজ্ঞানী হতে দেখিনি। আর কাউকে দার্শনিক হতেও দেখিনি। সবাই সাধারণ শিক্ষাগ্রহণ করে এই জগতে মনীষী আর মহামনীষী হয়েছেন। আর আধ্যাত্মিক-সাধকও হয়েছেন। পক্ষান্তরে, মাদ্রাসায় পড়ে তৈরি হয়েছে একশ্রেণীর টাউট-বাটপাড়-ভণ্ড—এরা শুধু পরের জিনিস খেতে জানে। এই দেশে বিনা-কাজে খাওয়ার একটি রাস্তা হচ্ছে মাদ্রাসাশিক্ষা। আর তা-ই নিয়ে মসজিদে সমবেত মুসল্লীদের সামনে বড়াই করছে এক চ্যাংড়াগোছের ইমাম-নামধারী জাহেল! আর সেই চ্যাংড়ার কথা শুনে সস্তা-ঈমানদার মুসল্লীরা চুপচাপ বসে আছে!

এই ইমামের কথা আমার হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। তাই, নামাজশেষে তাকে ধরলাম কোথায় লেখা আছে মুসলমানদের জন্য স্কুলে-কলেজে পড়া ঠিক নয়? সে এতোটাই পাষণ্ড যে আমতা-আমতা করে তখন বলতে লাগলো: না, আসলে, সবচেয়ে উত্তম শিক্ষা হলো মাদ্রাসাশিক্ষা। তারপর স্কুল-কলেজ। বুঝতে পারলাম, এই ভণ্ড পালানোর পথ খুঁজছে। আর তখনই দৌড়ে এসে তাকে সাহায্য করলো মসজিদের সেক্রেটারি নামক এক বেশরম আদমসন্তান—যার কোনো চরিত্র নাই। জানি, সে কিছুকাল আগে ঘুষ খেতে–খেতে একেবারে আধাপাগল হয়ে সরকারি-চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেছে। আর সে এখন নাকি মসজিদের সেবা করছে! ভণ্ড আর কাকে বলে। এই পাষণ্ড আমার কথা বলার ভঙ্গি দেখে বুঝতে পারলো, আজ ইমাম-ব্যাটার কপালে দুঃখ আছে। তাই, সে তাড়াতাড়ি বাধা দিয়ে বললো, “হুজুর আলেম মানুষ! তার কথার বিরোধিতা করা ঠিক নয়!”
কতবড় লম্পট এই সেক্রেটারি নামক ভণ্ড! সে মসজিদের এই ভণ্ডইমামের পক্ষে সাফাই গাইছে। আর
মসজিদগুলো আজ এই মূর্খদের দ্বারাই শাসিত হচ্ছে। আর সেখানে ইমাম নামক কিছু অযোগ্যমানুষ ইসলামের দোহাই দিয়ে নিজেকে আলেম বলে অপপ্রচার করে বিশেষ সুবিধাভোগ করে আজ বাংলাদেশরাষ্ট্রের বারোটা বাজানোর জন্য নানারকম শয়তানী-ফন্দিফিকির করছে। এদের এখনই শায়েস্তা করা দরকার। এব্যাপারে রাষ্ট্রকে এখনই উদ্যোগী হয়ে কঠোর ব্যবস্থাগ্রহণ করতে হবে।
এরা, মানে এইসব মসজিদের ইমাম-নামধারী-মূর্খগুলো আমাদের আধুনিকশিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তদস্থলে তাদের খয়রাতি শিক্ষা—মাদ্রাসাশিক্ষার ভিত-রচনা করতে চাইছে। আর এব্যাপারে তারা এই দেশের একশ্রেণীর মুর্খ-মুসলমানদের টার্গেট করে আধুনিক-বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষাকে অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। এটি কোনো মামুলি বা সাধারণ ঘটনা নয়। এগুলো আধুনিক-শিক্ষাব্যবস্থাবিরোধী একটি গভীর চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। আর এরা চাইছে—তাদের আফগানী-মোল্লাতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে। তাহলে, এরা নিজের ইচ্ছেমতো ধর্মের কথা বলে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে নিজেদের আখের গোছাতে পারবে। আর ভোগের ক্ষেত্রে অবাধে নারীসম্ভোগ করতে পারবে। আফগানিস্তানের দুর্ধর্ষ-লম্পট মোল্লা ওমরের মতো এরা অসংখ্য বিয়ে করতে পারবে। আর তাই, এরা আজ মানবজীবনের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী স্কুল-কলেজকেন্দ্রিক আধুনিকশিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র করছে। আর মসজিদের মাইকে জুম্মার নামাজের আগে আর মাঠে-ঘাটে ওয়াজের নামে আওয়াজ করে আধুনিক-বিজ্ঞানসম্মতশিক্ষাব্যবস্থাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে চাইছে। জরুরিভিত্তিতে এদের এখনই দমন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মসজিদের এইসব ইমাম আসলে জঙ্গি। আর এদের বাইরে রেখে কখনও জঙ্গিদমন সম্ভব নয়।
আর মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আমরা আর-কতকাল এইসব ইমাম নামক জাহেলদের গালি শুনবো?


সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৩/০১/২০১৭


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এদের পিছনে দাড়িয়ে নামাজ পড়াও বোধ হয় ঠিক নয়। এরা বিজ্ঞানের সমস্ত সূত্রকেও জন সাধারণকে কোরানের ভূল ব্যাক্ষা করে কোরানের মধ্যে দেখিয়ে দিয়ে থাকেন। ভয়ংকর ব্যাপার!!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সত্য বলেছেন। আসলে তা-ই। এরা কুরআনের অপব্যাখ্যাকারী।
আর এদের থেকে সাবধান থাকাই ভালো।
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পড়লাম।

“হুজুর আলেম মানুষ! তার কথার বিরোধিতা করা ঠিক নয়!”

Laughing out loud

________________________
বিজ্ঞান হলো প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চলমান প্রক্রিয়া।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এরা আলেম হলে তো ভালোই হতো। এরা শুধুই কাটমোল্লা। এদের জন্যই এই দেশটার আজ এই অবস্থা।
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ বন্ধু। আর সঙ্গে একরাশ শুভেচ্ছা।

glqxz9283 sfy39587p07