Skip to content

হেফাজতে ইসলামের ভাষ্কর্য অপসারণ বনাম ইসলাম

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গত কিছুদিন ধরে ভাষ্কর্য নির্মাণ বৈধ না অবৈধ, এটি রাখা যাবে কি যাবে না- এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। প্রতিক্রিয়াশীল হুজুররা সাধারণ মুসলমানদের সরলতা ও ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতির সুযোগ নিয়ে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখিয়েই যাচ্ছেন। তাই এখন এ বিষয়ে ‘ধৰ্মজগতের সুপ্রিমকোর্ট তথা ‘পবিত্র কোরআনের রায় সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে তুলে

ধরা হচ্ছে। মনোযোগ দিয়ে লেখাটি পড়ে নিলেই সাধারণ পাঠকরা বিষয়টি সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।
মনে রাখবেন, কোরআন শরীফ আল্লাহর বিধান! এটি চূড়ান্ত ও অলঙ্ঘনীয়! প্রথমত জানা আবশ্যক, আল্লাহ তা’লা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন নবী-রসূলের বৃত্তান্ত ও ঘটনা কেন বর্ণনা করেছেন? এর উত্তর মহান আল্লাহ নিজেই বর্ণনা করে বলছেন: ‘লাকাদ কানা ফী কাসাসিহিম ইবরাতুল লি উলিল আলবাব’ (সূরা ইউসুফ, আয়াত ১১১)। অর্থ: 'নিশ্চয়ই এদের (অর্থাৎ নবীদের) বৃত্তান্তে বুদ্ধিমানদের জন্য এক বিরাট শিক্ষা নিহিত আছে'। অর্থাৎ নবী-রসূলদের বৃত্তান্তগুলো নিছক গল্পাকারে নিরর্থক বর্ণনা করা হয় নি। বরং এগুলো থেকে শিক্ষা নেয়ার উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ও বৃত্তান্ত পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’লা নিজে তুলে ধরেছেন।
দ্বিতীয়ত জানা আবশ্যক, নবী-রসূলদের সবাই পূত-পবিত্র জীবনের অধিকারী ছিলেন। এদের কেউই শিরক তথা আল্লাহর সাথে কখনও কাউকে সমকক্ষ দাঁড় করান নি। বরং এরা সবাই এক-অদ্বিতীয় খোদার উপাসনা করানাের জন্যই জগতে প্রেরীত হয়েছিলেন। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা হচ্ছে: ‘ওয়া লাকাদ বাআসনা ফি কুল্লি উম্মতির রাসূলান আনি’বুদুল্লাহা ওয়াজিতানিবুত তাগূত' (সূরা নাহল: আয়াত ৩৬)। অর্থাৎ "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতিতে এ মর্মে রসূল প্রেরণ করেছি— তোমরা এক আল্লাহর উপাসনা করবে। আর শয়তানকে পরিহার করে চলবে। স্পষ্ট বুঝা গেল, নবী-রসূলদের কেউই কখনও শিরকের কাজ করেন নি। বরং এদের প্রত্যেকে আল্লাহর তাওহীদ জগতে প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। উপরোক্ত দুটি মূলনীতি অনুধাবন করার পর এবার সূরা সাবার ১৩ নম্বর আয়াতটি ভালভাবে পড়ুন। এতে হজরত সুলায়মান (আ.)-এর সাফল্য ও বৈশিষ্ট সম্বন্ধে বলতে গিয়ে স্পষ্ট লেখা আছে: "ইয়া মালুনা লাহু মা ইয়াশাউ মিম মাহারীবা ওয়া তামাসীল’... অর্থাৎ "তারা তার (অর্থাৎ হজরত সুলায়মানের) ইচ্ছে অনুযায়ী প্রাসাদ ও ভাস্কৰ্যনির্মাণ করত।'...। দেখা গেল, আল্লাহর নবী হজরত সুলায়মান (আ.) অন্যান্য জিনিষের পাশাপাশি ভাস্কর্যও নিমাণ করাতেন। আয়াতটির পরের অংশে আল্লাহ তা’লা বলছেন: “ই মালু আলা। দাউদা শুকরান অর্থাৎ “(আমি বলেছিলাম) হে দাউদ পরিবার! তােমরা কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করে যাও"। স্বয়ং আল্লাহ্ তা'লা অন্যান্য সাফল্যের পাশাপাশি ভাস্কর্য নির্মাণ নির্মিত মূর্তি নয়। যে ক্ষেত্রে কোরআন এত স্পষ্ট করে বলছে হজরত সুলায়মান (আ.) ভাস্কর্য নির্মাণ করাতেন। সেক্ষেত্রে এটি অবশ্যই শিরকের কাজ ছিল না। এটি শিরকের কাজ হলে আল্লাহ তা’লা হজরত সুলায়মান (আ.)-কে কখনও এ কাজ সম্পাদনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা বলতে পারতেন না!
হুজুররাও এসব কথা খুব ভালই জানেন। প্রশ্ন দাঁড়ায়, যে শিল্পশৈলী শিরুক নয়। সেটার বিরুদ্ধে হঠাৎ এত বাড়াবাড়ি কেন? মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সা)-এর ঘরে হযরত আয়েশা(রা) পুতুল দিয়ে খেলা করতেন কোন কোন বর্ণনায় আছে একটি পাখাওয়ালা ঘোড়াও ছিল। কিন্তু মহানবী(সা) এসবকে ঘরথেকে অপসারণ করার কোন কাজ তো হাতে নেন নি বা বারণও করেন নি। কেন করেন নি? কেননা এগুলো শিরকের উদ্দেশ্যে ছিল না।
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় কেন বর্তমান যুগের হেফাজতের আলেমরা ভাষ্কর্যের পিছনে লেগেছেন। এর উত্তরে এতটুকুই অনুমান করা যায়, ভাস্কর্য নিয়ে মোল্লাদের বাড়াবাড়ির নেপথ্যে মূল কারণ ধর্মরক্ষা নয়, বরং এসবের নেপথ্যে একটি বিরাট নোংরা রাজনীতি কার্যকর! এরা আমাদের মুসলমানদেরকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছে। তাই এদেরকে সুপ্রিমকোর্ট তথা পবিত্র কুরআন দেখানো এখন আমাদের সবার কাজ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কেন বর্তমান যুগের হেফাজতের আলেমরা ভাষ্কর্যের পিছনে লেগেছেন। এর উত্তরে এতটুকুই অনুমান করা যায়, ভাস্কর্য নিয়ে মোল্লাদের বাড়াবাড়ির নেপথ্যে মূল কারণ ধর্মরক্ষা নয়, বরং এসবের নেপথ্যে একটি বিরাট নোংরা রাজনীতি কার্যকর! 


ধর্ম কে হাতিয়ার করে রাজনীতি নিদারুন..... Shock

........


........
"সুন্দর হয় যার অন্তর,
পৃথীবিতে সেই হয় বেশী সুন্দর।।"


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুর্তিতে ইসলাম ভেঙ্গে দেয়, আর ইসলাম রক্ষা করে আই এস , ঐযে, এর জন্য তো হেফাজত কোন প্রতিবাদ করেনা।-- ঐযে----

কাবুলে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ৮০

http://bangla.bdnews24.com/world/article1342594.bdnews

glqxz9283 sfy39587p07