Skip to content

আপনার চাদাবাজি মামলাগগুলো গেল কোথায়?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন দুর্নীতি মামলা ও ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরীর দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলা ছিল ১৫টির মধ্য অন্যতম। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের দুর্নীতির মামলায়, এই ফাউন্ডেশনের তহবিলে ৩০০ কোটি টাকা জমা হয়েছিলো, ব্যবসায়ী নূর আলী চেকের মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় শেখ ফজলুল করিম সেলিম তা আদালতে স্বীকারও করেছিলেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছিল। চেকের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের প্রমাণসহ চার্জশিট দাখিলের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি মামলার বিচার কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল আদালতে। শেখ হাসিনা মামলায় জামিন না নিয়ে তখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশে বিদেশে গিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিগ-২৯ ক্রয়ে ৭৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলার বিচার কার্যক্রম নিম্ন আদালতে চলতে পারে বলে সুপ্রিমকোর্টও নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই মামলার বিরুদ্ধে দায়ের করা শেখ হাসিনার কোয়াশমেন্ট আবেদন খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিমকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫টি মামলার মধ্যে একটিতে খুনের সহযোগিতা করা এবং বাকি ১৪টিতে মোট চৌদ্দ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছিল। প্রায় ২০ কোটি টাকার ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ব্যবসায়ীদের দায়ের করা কয়েকটি মামলায়। টাকার অংকে সর্বাধিক আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল নাইকো দুর্নীতি মামলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল মিগ-২৯ ক্রয় সংক্রান্ত মামলায়। বিচারাধীন এসব মামলায় তখন জামিন ছাড়া নির্বাহী আদেশে মুক্তি নিয়ে আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেনসহ দেশ থেকে দেশান্তরে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তখন বিচারাধীন ১৫টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে তার জামিন ছিল। বাকি কোনো মামলায় তখনও জামিন হয়নি। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতায় থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে হাজার কোটি টাকার বেশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়, চাঁদাবাজি। এর মধ্যে মিগ-২৯ ক্রয়ে দুর্নীতি মামলাটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে কোয়াশমেন্ট আবেদন করেছিলেন। এ আবেদন হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি শেষে খারিজ করে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছিলেন। আপিল আবেদনও খারিজ করে দেন সুপ্রিমকোর্ট। উচ্চ আদালতের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে মামলাটি তার বিরুদ্ধে চলতে পারে। উচ্চ আদালতে শেখ হাসিনার আবেদন খারিজ হওয়ার পর মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে বিচারের জন্য নির্ধারণ করা হয় তখন। এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৭৫০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল দুদক। আজম জে চৌধুরীর দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলাটিতেও চার্জশিট দাখিলের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে চার্জ গঠন করা হয়েছিল। এ মামলায় ৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। প্রমাণসহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আদালত চার্জ গঠনের শুনানি শেষে চার্জশিট গ্রহণ করে এবং শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। মামলাটির বিচার চলে বিশেষ জজ আদালতে। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছিল।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা নাইকো দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৩ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। এ মামলায়ও চার্জশিট দাখিল করেছিল দুদক। চার্জশিট দাখিলের পর শুরু হয়েছির বিচার কার্যক্রম।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করে। আওয়ামী লীগ নেতা ব্যবসায়ী নূর আলীর দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় ৫ কোটি টাকাসহ কয়েকটি চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছিল শেখ হাসিনার ওপর। ওয়েস্টমন্ট গ্রুপের কাজী তাজুল ইসলাম ফারুক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
ফ্রিগেট কেনায় দুর্নীতি সংক্রান্ত তেজগাঁও থানার ৩৪(৮)২০০২নং মামলা ও মেঘনা ঘাট বিদ্যুত্ কেন্দ্র দুর্নীতি সংক্রান্ত রমনা থানার ৫৪ (১২)২০০১ নং মামলা, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতি সংক্রান্ত তেজগাঁও থানার ৯৫(৩)২০০২নং মামলা, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পে আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তেজগাঁও থানার ৯৬(৩)২০০২নং মামলা, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার প্রকল্পে দুর্নীতি সংক্রান্ত তেজগাঁও থানার ৯৭(৩)২০০২নং মামলা, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাত্ সংক্রান্ত রমনা থানার ৬(৭)২০০৪ নং মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য দুদকের কাছে সুপারিশ করেছে সরকার। বিষয়টি দুদকের বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে। বিএনপি সরকারের শেষ দিনে ২৮ অক্টোবর পল্টনে প্রকাশ্যে লগি-বৈঠা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ৬ নেতাকর্মী হত্যার সরাসরি ইন্ধনদাতা হিসেবে এ মামলা হয়েছিল। কারণ লগি-বৈঠা নিয়ে মাঠে নামার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এ মামলায় হাসিনার নামে চার্জশিটও হয়েছিল।
২০০৭-২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা হল চারটির মধ্য একটি! জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট একটা দাতব্য প্রতিষ্ঠান। দলের লিডার ও এক্টিভিষ্টদের চাদার টাকায় এই প্রতিষ্টান চলে!
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়ছিল। এই মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ খান। এই মামলাটি হল রাজনৈনিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা। যার রায় আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী হওয়ার কথা রয়েছে।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলে যাবার পর ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ সরকার। তারা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা বলে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো হ্যান্ডলিং করে রায় পর্যন্ত নিয়ে এসেছে আওয়ামীলীগ সরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নিলেন। আর বিরোধীদলের নেত্রীর মামলাগুলো হ্যান্ডেলিং করে রায় পর্যন্ত নিয়ে আসলেন? এটা কেমন রাজনীতি?
আর আপনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো গেল কোথায়?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

৫ বছরের সাজার কারণে ১৯ সালের নির্বাচনে খালেদা অংশ নিতে পারবেনা । তার দলের কেষ্টরা অভিমানে নির্বাচন বর্জনের আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। সেই মতে ২০২৪ সালের নির্বাচনে খালেদা বিবি যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তবে ২০২৫ সাল থেকেই এই মামলা শুরু হতে পারে। চার বছর মামলা টানাটানির পর সম্ভবত ২০২৯ সালে হাসিনাকে জেলে নেয়া যেতে পারে। তখন আবার বয়স, সুস্থতা - এসবের বিচারে ৫ বছরের সাজা কমিয়ে ২ বছর করা হবে এবং সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ২০৩০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোন বাধা থাকবেনা।

কথা কেউ শুনতে চায়না - সবাই কেবল বলতে চায়। তাই কাজও কিছু হয়না।

glqxz9283 sfy39587p07