Skip to content

দোস্ত তোমার ঐ প্যান্টা আছে?

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার হাই স্কুল লাইফের বন্ধু হান্নান। তার সাথে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি, এসএসসি পরীক্ষাও দিয়েছি একসাথে। আমার চেয়ে ভাল রেজাল্ট করেছিল সে। তারপর সাধারণত যা হয় সবাই যে যার মতো তাদের পছন্দের কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়। এইচএসসির পর আবারো দলে ভাঙ্গন তারপর পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবনে যে যার মতো হারিয়ে যাওয়া। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যায় অচেনা। নাম মনে আসলেও চেহারা মনে পড়েনা, আবার কাউকে দেখে চিনতে পারলেও নাম না জানায় কথা বলতে আন্তরিক হওয়া যায় না। এমনও হয় যে, সে আমার নামটা ঠিকই মনে রেখেছে কিন্তু আমি তার নাম মনে করতে পারছিনা। আবার তাকে যে জিজ্ঞাসা করবো দোস্ত তোর নাম ভুলে গেছি, তাও নিজেকে আড়ষ্ট করে।

দুই একজনের সাথে তবুও যোগাযোগ থেকে যায়। মন চায় অন্তত একদিনের জন্য হলেও আবার একসাথে মিলি। একটা মিলনমেলা হোক বন্ধুদের/সহপাঠীদের। হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে একটু উপলব্ধি করার আকাঙ্খা নিয়ে ছোট্ট একটা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কয়েকজন বন্ধু মিলিত হই আমাদের সেই ফেলে আসা পি.এন. স্কুলের নারকেল গাছের সারি ঘেরা বিশাল মাঠের ছোট্ট এক কোণে। সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিই আমাদের আবার একত্রিত হবার একটা আয়োজন স্থায়ীভাবে করার। এখানেই আলোচনার এক পর্যায়ে জানতে পারি আমাদের সহপাঠী বন্ধু হান্নান এর দুটো কিডনীই ড্যামেজ। এই সুন্দর পৃথিবীর মায়া তাকে শীঘ্রই যে কোন দিন ত্যাগ করতে হবে। যদিও আমরা সবাই এই পথের যাত্রী। তবুও মনের কোণে কেমন যেন আলোছায়া খেলা করে। নামটা শুনেই চেহারা মনে করার চেষ্টা করলাম কিন্তু চিনতে না পারায় বড় অপরাধী মনে হলো। কত সহজেই আমরা আমাদের কাছের মানুষদের এভাবেই ভুলে যাই।

সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম আজকেই তার বাসায় যাব আমরা। অন্তঃত জীবিত থাকতেই তার সাথে একবার দেখা করা দরকার, তাকে একটু সময় দেয়া দরকার যে বন্ধু আমরা কেউ কেউ তোকে মনে রেখেছি। হয়তো তার অন্তিম ক্ষণের কিছু সময় আমাদের সাহচার্যে তার ভাল লাগতে পারে। আমরা আর তার জন্য কি বা করতে পারি স্বল্প পরিসরে। কিছু ফল-ফলাদি হাতে নিয়ে তাকে দেখতে গেলাম। এক সময়ের প্রাণোচ্ছল হান্নান আর আগের মতো নেই। ডায়ালাইসিস আর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার বিপযস্ত-ভগ্ন শরীর কিন্তু তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা আমাদের ভাল লাগে। অনেক সময় ধরে তার সাথে কথা হলো আমরা কে কি করছি, পরিবার পরিজনের খবর আদান প্রদান। আমরা ২২ জন গিয়েছিলা তাকে দেখতে এর মধ্যে দুই বন্ধুর সন্তান ক্লাস টেনে পড়ে, কেউ প্রথম স্ত্রীর সাথে বনিবনা না করতে পেরে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এমন সংখ্যা তিনজন আবার হান্নানসহ চারজন এখনো অবিবাহিত। কথায় সান্নিধ্যে তাকে মনের জোর ধরে রাখতে বললাম।

জীবন চলে জীবনের নিয়মে। হাসি ঠাট্টার এক পর্যায়ের এক বন্ধু হান্নানকে জিজ্ঞেস করলো দোস্ত তোমার ঐ প্যান্টা আছে। আমরা অবাক হলাম। হঠাৎ প্যান্টের প্রসঙ্গ আসায়। পরে যা জানলাম তা হচ্ছে- বন্ধু হান্নান ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় একটা প্যান্ট বানিয়েছিল, প্যান্টা নাকি দারুন লাকি। এটা সে শুধু যে কোন পরীক্ষার প্রথম দিন পরতো। এটা পইরে পরীক্ষা শুরু করলে তার বাকী পরীক্ষাগুলো নাকি খুব ভাল হতো। বন্ধু জানালো- সে ডিগ্রি পরীক্ষা পর্যন্ত প্যান্টটা পরেছে। ডিগ্রি সে ভালভাবেই পাস করেছে কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের কোন পরীক্ষায় সে ভাল করতে পারেনি বলে প্যান্টা সে ফেলে দিয়েছে।

দেখতে দেখতে রাত ৯ টা বেজে যায়। আমরা যে যার মতো ঘরে ফেরার জন্য উদগ্রীব হই। সৃষ্টিকর্তার কাছে বন্ধুর আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে ঘরে ফিরে আসি। মনে মনে আওড়াতে থাকি বন্ধু তুমি সুস্থ্য হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ক্লাস সেভেন থাইকা ডিগ্রি পর্যন্ত আপনের দোস্তেরে একই সাইজে প্যান্ট হৈছে ক্যামনে

______________________________________________________________________
স্বাক্ষরঃ দিশাহারা লালে লাল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওয়ান সাইজ ফিট ফর অল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার বন্ধুটি মারা গেছেন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভালো লাগলো।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ আপনাকে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অন্যরকম ভাললাগা।

‍‍‌‍‍‍‍**********
স্বপ্নের কারিগর


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বন্ধুর জন্য দোয়া করবেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুভকামনা থাকল আপনার বন্ধুর জন্য।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি ঘরে ফিরবো, কিন্তু ফিরতে গিয়ে দেখলাম আমি বাড়ি ফিরেছি। আমার ঘরে ফেরা আর হল না...(সংগৃহীত)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও শুভ কামনা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অ্যাঁ , এত্তদিন সেইম সাইজ ছিল !!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ছিল বৈকি

glqxz9283 sfy39587p07