Skip to content

রাকিব ও তার নিরস ভালোবাসা দিবস- মাহবুব সুয়েদ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

#বিদ্যুত চলে গেছে।পড়ার টেবিলে বসে সুমি পড়ছে উচু গলায়।রাকিব ও পড়ছে আর আড়চোখে সুমির মুখের দিকে তাকাচ্ছে।সুমি!তার খেলার সাথী ক্লাশমেট।সেই ছোটবেলা থেকে এক সাথে বড় হয়েছে।এখন সে ক্লাশ নাইনে পড়ে।সুমিও ক্লাশ নাইনে।ছোটবেলা থেকে ই পড়ার টেবিক হোক বা ক্লাশে অথবা বিকেল বেলা গুল্লাছোটের মাঠে।তাদের ঝগড়া লেগে ই থাকে।কিন্তু আজকাল রাকিব আর কেন যেন সুমির যেকোন ঝগড়াটে কথার উত্তর দিতে পারেনা।মুখে কথা আটকে যায়।জড়তা কাজ করে।একধরনের মোহ চলে আসে।যতক্ষন সুমি পড়ে চিতকার দিয়ে ততক্ষন শুধু তার মুখের দিকে চেয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়।সে রাতে রাকিব বিদ্যুত চলে গেলে হারিকেনের আলোয় সুমির মুখের দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে কি যেন আবিস্কার করে ফেলল।আরে এই সুমি আর তার খেলার সাথী সুমির মাঝে তো বিস্তির ফারাক।সুমির গালে হারিকেনের লালচে আলোয় কেন যেন নীলাভ টোল পড়েছে বলে লাগছে তার কাছে।পড়ার টেবিল থেকে সুমির মা সুমিকে ডাকলেন কি এক কাজে।রাকিব সুমির সম্পর্কে কাজিন।জোরস্বরে পড়ার কারনে সুমি শুনছিলনা।রাকিব বলল খালা ডাকে তোকে।সুমি দৌড়ে গেল ঘরে।রাকিব সুমির প্রস্থানের দিকে চেয়ে থাকল আর মাথার ভেতর চেপে বসা 'পোকা' তাড়ানোর চেষ্টা করা শুরু করল।কিন্তু পড়ায় মন বসছেনা তার।কিছুক্ষন পর সুমি ফিরে আসল সেই সাথে বিদ্যুত ও চলে আসল।এবার রাকিব সুমির দিকে তাকিয়ে হটাত বলে উঠল সুমি আমি তোমাকে ভালোবাসি।বড় বড় চোখে সুমি তাকিয়ে আছে তার দিকে।রাকিব ও হটাত একথা বলে লজ্বায় লাল হয়ে গেছে।মাথায় ধরছেনা হটাত এই কথা বের হল কিভাবে তার মুখ দিয়ে।পড়া শেষে সুমি চলে গেল আর কখনো রাকিবের সাথে এক টেবিলে পড়তে বসেনি।হতাশা আর ক্ষোভে রাকিব সুমিদের বাড়ি ছেড়ে হোস্টেলে উঠল।আর কথা হয়নি তাদের মাঝে।সুমি এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে নাকি অনেক সুখে শিকাগোতে বাস করছে।আর রাকিব পাড়ার স্কুল গেটে এক 'বইঘর' খুলে বসেছে।সময় যায় বছর যায়।সুমির আর দেখা পায়না।তবে এবারের ভ্যালেন্টাইন ডে'তে সে তার মনের প্রিয়তমার জন্যে চিঠি লিখেছে।সাদা কাশফুল আর চিঠি খানা সে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরবেকা পুকুরে ভাসিয়ে দিয়েছে।এটা ই তার ভালোবাসা দিবস।

#রাকিবের বয়স এখন ত্রিশোর্ধ্ব।সে বিবাহিত এবং সন্তানের জনক।প্রিয়তমা স্ত্রী তাকে পছন্দ করে ভালোবাসে দিল উজাড় করে।প্রিয় সন্তান ও তাকে স্বর্গ সুখ দেয়।বউয়ের ভালোবাসা আর যত্ন আত্তির কারনে সারা বছর তার সে সুখে ই থাকে।ভুলে যায় তার জীবনের প্রথম প্রেন আর সেই বন্ধু আর ভালো লাগার প্রিয়তমা সুমিকে।সুমি যেখানে ই আছে সুখে থাকুক এ কামনা করে সে অন্তর থেকে।মাঝে মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে সুমির হেজাবে ঢাকা মুখে দু'চোখ সে দেখে।সুমির প্রোফাইলে এক চক্কর দেওয়া মানে তার কাছে সুমিকে দেখা।এই কাজটু ও অতি সংগোপনে করে সে।কারন বউ জানলে মনে কষ্ট পেতে পারে।সারা বছর সে সুমির স্মৃতি মনে করে কোন পাগলাটে কিছু না করলে ও গত এক দশক ধরে প্রতি বছরের ভ্যালেন্টাইন ডে'তে সে স্মরন করে তাকে।এ দিনে সকাল বেলা কাক ডাকা ভোড়ে নতুন জামা পরে সাদা কাশফুল আর প্রেম পত্র পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে বিশাল পুকুরের স্বচ্ছ জলরাশির দিকে সে তাকিয়ে থাকে।শৈশব আর কৈশোরের প্রেয়সির কথা তার সাথে কাঠানো সেই সময়গুলোর স্মরন করে সে।নস্টালজিয়ায় পেয়ে বসে।সারাটা দিন সে অতিক্রম করে নিরবে।দুরে কোথাও চলে যায় সে এ দিনে একা শুধু একা।সুন্দর জামা কাপড় পরে হেঠে বেড়ায় দুর আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে।প্রিয়তমা স্ত্রী বা সন্তানের কথা সেদিন আর মনে আসেনা।সেদিন সে শুধু কল্পনাকাশে ভেসে বেড়ায়।অনুভব করে সুমির শান্ত গভির নিঃশ্বাসগুলো।কি আশ্চর্য সে শুধু সুমিকে মুখ ফসকে 'ভালোবাসি' বলেছিল।অথচ সুমি আর তার সামনে সহসা আসেনি বা ভালোকরে কথা ও বলেনি।সরাসরি দেখা ও নেই আজ অনেকগুলো বছর।এখন উভয়ের আলাদা জগত আলাদা জীবনধারন।কিন্তু রাকিব!

#মনের মাঝে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত ভালোবাসা প্রকাশ করে সাড়া না পেলেও আজ অবদি সুমি বিহনে ভুগে।আজ ও সুমিকে স্মরন করে।সুমির জন্যে পুকুরের স্বচ্ছ জলে চিঠি আর কাশফুল বিলায়।ভালোবাসা কি এরু নাম!প্রিয়তম সন্তান কিংবা স্ত্রী আছে।তাদের প্রতি ও তার ভালোবাসা বা স্নেহের কমতি তো নেই।অথচ জীবনের প্রথম ভালো লাগার ভালোবাসার স্মৃতির মিনার আজ ও নাড়া দেয় বছরে বিশেষ দিনে।নিষ্টুর ভ্যালেন্টাইন ডে আসলে পরে।নিয়তি তুমি ভালো থেকো প্রিয়তমা সুমিকে নিয়ে এই কামনা করে রাকিব সুমির জন্যে।আর অরতি বছর প্রতিজ্ঞা করে নাহ আর নয়।সন্তান বউ নিয়ে ই থাকব।কিসের ভালোবাসা দিবস।কিন্তু এই পর্যন্ত সে পারেনি আর পারবে কি-না জানে ও না......

glqxz9283 sfy39587p07