Skip to content

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল অবদান

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



ছাত্র রাজনীতিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা সমর্থন করি না। কারন শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজিনীতি চর্চা না হলে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হয় এবং তাতে সর্বোপরি ছাত্রছাত্রীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। তবুও একটি ছাত্র সংগঠনের সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটির নাম হচ্ছে 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগ'।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছিল, ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি। বৃটিশদের পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত হয়ে পাকিস্থানি পরাধীনতায় প্রবেশের এক বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে দুই যুগ এগিয়ে দিয়েছিলেন। ৫২' এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলন এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ছাত্রলীগের অবদান চিরদিন বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

আজকাল অনেক তথাকথিত সুশীলদেরকে দেখছি, ছাত্রলীগকে নিয়ে কটূক্তি না করলে তাদের সুশীল চরিত্রটা সঠিকভাবে ফোটে উঠে না। হ্যাঁ, আপনাদেরই বলছি, একটু ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকান। স্বাধীন বাংলাদেশের আলো বাতাসে আপনারা বেঁচে আছেন এবং অবাধে বাক স্বাধীনতা প্রয়োগ করছেন, এই স্বাধীন, সার্বভৌম দেশটির স্বাধীনতার জন্য ৭১' এর স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল এই ছাত্রলীগের লাখো-হাজারো সক্রিয় কর্মীরা। বাঙ্গালীর এমন কোন স্বাধিকার আন্দোলন নেই যা ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের আত্মত্যাগ ছাড়া সফল হয়েছে।

এখনো যেকোনো রাষ্ট্রীয় সংকটে আপনারা সুশীলরা যখন এসি রুমে বসে লেখালেখি করেন, বিভিন্ন মিডিয়াতে বিবৃতি দেন তখন ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরাই রাজপথে নামে প্রতিরোধ করতে; আপনারা নন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আপনারা অনেকেই উচ্চতর ডিগ্রী বা পিএইচডির অজুহাত দেখিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন।

সুতরাং, আপনারা ছাত্রলীগ-যুবলীগকে নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করুন, আপত্তি নেই। কিন্তু দয়া করে, হিংসাত্মক বা বিদ্বেষমূলক সমালোচনা করবেন না। স্বনামধন্য, ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনটির প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে কার্পণ্য করা আপনাদের মতো তথাকথিত উচ্চতর ডিগ্রীধারী সুশীলদের মানায় না।

বর্তমানে সারা দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের দ্বারা ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোন ছাত্রলীগ কর্মী হামলার শিকার হলে, মারা গেলে সুশীল বাবুরা এবং মানবাধিকার কর্মীরা রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করেন। কেন, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা কি মানুষ নয়? তাদের কি মানবাধিকার নেই? তারা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হলে কি মানবাধিকার লঙ্গন হয় না? এটাই কি আপনাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা?

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

glqxz9283 sfy39587p07