Skip to content

ভালোবাসার এক ভিন্ন রং

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


তোমায় গান শোনাবো তোমায় গান শোনাবো ||
তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো ওগো ঘুম ভাঙানিয়া
তোমায় গান শোনাবো চমক দিয়ে তাই তো ডাকো
বুকে চমক দিয়ে তাই তো ডাকো ||
ওগো দুঃখ জাগানিয়া তোমায় গান শোনাবো,
প্রবাসে এসে দুঃখটাকে অনুভব করতে না পারারও একটা দুঃখ আছে যেটা আমি তিলে তিলে অনুভব করেছি, কোন একসময় বিষণ্ণতা যখন মনকে আচ্ছন্ন করতো তখন হয়তো পুকুর পাড়ে বসে আকাশ দিগন্তে এলোমেলো মেঘের দিকে তাকিয়ে থেকেছি, কিছু না পাওয়ার দুঃখকে ভুলে যাবার চেষ্টা করেছি কিন্তু এই বিদেশ ভুঁইয়ে তাপমাত্রা যখন শূন্যের নীচে পনেরোর কোঠায় তখন জানালার কাচের ভেতর দিয়ে হাইওয়েতে ছুটে চলা রংবেরঙের গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে থেকেছি, এ ছাড়া এই অভাগার আর উপায় কোথায়।
সত্যি কথা বলতে কি জীবনের অনেক পাওয়ার মাঝেও প্রবাসে কিছু একটা না পাওয়ার বেদনা আমাকে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিচ্ছে, অন্ধকারের পরে সূর্যটা ঠিকই উঠে যায় কিন্তু সেই বন্ধুটিকে আজও পাশে পাইনা, কথা বলার যে একজন পাশ থাকবে সে ভাগ্যটা প্রবাসে চলে আসার সময়েই কলেজের বারান্দায় ফেল এসেছি, একেই হয়তো সোনার হরিণের পেছনে ছুটে চলার মানে বলা যেতে পারে আর এভাবেই বেচে থাকার নাম যদি প্রবাসীদের জন্যে সুখের জীবন হয়ে তবে বাংলার সোনার ছেলেদের বলবো এভাবেই আর একবার ফিরে আসার পথ খোলা নেই।
রমিতাকে আজও মনে পড়ে, রিক্সা থেকে নেমে কলেজের পথে হেটে যাওয়া পথটিও খুঁজে পাইনা, কোনও উপায় নাই গোলাম হোসেন, এটাকেই বলে প্রবাসী জীবন।
কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া গাড়ির কাচ খোলা তো দুরের কথা, বাইরের দিকে তাকাতেই গায়ে ঠাণ্ডা লাগছে, দেবদারু আর পাইন গাছের বিছানো জঙ্গলের ভেতর দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে আমাদের গাড়িটা ছুটে চলেছে, সুইডেনের বিশাল বনাঞ্চল গাছের সবুজ বলতে কিছুই নেই গাছগুলো যেন মরা কাঠ হয়ে আকাশের পানে ক্ষণিকের সূর্যের আলোর অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে, উল্টো পথের গাড়িগুলো সাই সাই করে পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে, পেছনের গাড়িগুলো সামনের গাড়িগুলোকে অতিক্রম করতে চাইলে কি করে যেন সামনের গাড়িটা এমনিতেই বুঝে গিয়ে পেছনে গাড়িটাকে সাইড দিয়ে দিচ্ছে, এতোগুলো দিন এই দেশে আছি অথচ কখনো গাড়ির হর্ন শুনেছি বলে মনে পড়ছে না, আসলে এদেশে বিনা কারণে হর্ন বাজানো যে একটা অভদ্রতা সেটা বুঝতে সময় লেগেছে। বেশ কিছুদূর পর পর বনের ফাঁকে ফাঁকে কিছু বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে বটে তবে পথে ঘটে মানুষের ছায়া পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না, আসলে ইউরোপের হাই ওয়েগুলো লোকালয় থেকে দুরে আর আর চালকদের সুবিধার্থে লোকালয় বা শহরে ঢুকতে গেলে বড় রাস্তা থেকেই একটি রাস্তা হাতের ডানদিকে নেমে যাচ্ছে, অনেক আগ থেকেই রাস্তার উপরের সাইনবোর্ডে শহর কিম্বা লোকালয়ের নাম দিয়ে দেয়া আছে।এই দেশটি যে এত অপূর্ব ভাবে সাজানো গোছানো যা ভাবতে গেলেই অবাক হতে হয়, তারা কি শত যুগ আগেই থেকেই জানতো যে কোথায় রাস্তা হবে কোথায় শহর থাকবে ?
রাস্তা কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু, কখনো পাহাড় আবার জঙ্গলের এলোমেলো পথ দিয়ে ছুটে চলতে চলতে হঠাত করেই জানালার কাচ দিয়ে বাইরের দিকে চোখ পরতেই বুঝতে পারলাম আমরা হয়তো কোন একটি পাহাড়ের প্রায় চূড়ায় উঠে গেছি কারণ নীচে ছবির মত একটি সাজানো শহর দেখা যাচ্ছে, ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা বন্ধু ক্লস জনসনকে জিজ্ঞাস করতেই জানতে পারলাম শহরটির নাম সুনসভাল, সুইডেনের ঠিক মাঝামাঝি পাহাড় বেষ্টিত নিম্ন ভূমিতে এই মনোরম শহরটির অবস্থান, আর ঠিক পাহাড়ের চূড়া থেকে এর সৌন্দর্যকে অবলোকন করার জন্যই হয়তো হাই ওয়েটি এদিক দিয়েই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ছোটবেলা টাইমস ম্যাগাজিন বা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনে ইউরোপের মনোরম দৃশ্য ছবিতে দেখেছি, মনের কল্পনাতে সুন্দর দেশের সুন্দর মানুষদের সুখের কথা ভেবে ভেবে একসময় আমিও স্বপ্ন দেখতাম ঈশ আমিও যদি ইউরোপে যেতে পারতাম, আজ ভাবতেও অবাক লাগছে এত সুন্দর সব কিছুর মাঝেও সত্য একটা দুঃখ লুকিয়ে আছে, যে দুঃখটা অনুভব করতে না পারার বেদনা আরও দুঃখের আরও কষ্টের, দুঃখটাকে অনুভব করার জন্যেও একটা পরিবেশ চাই যেটা আমি কলেজের বারান্দায় ফেল এসেছি, যেখানে আর কোনদিন ফিরে যাওয়া হবে না।
হঠাত করেই কবি আসাদ চৌধুরীর লেখা “কষ্ট” কবিতাটি মনে পড়লো,
কষ্ট নেবে কষ্ট. হরেক রকম কষ্ট আছে. কষ্ট নেবে কষ্ট !
লাল কষ্ট নীল কষ্ট কাঁচা হলুদ রঙের কষ্ট,
পাথর চাপা সবুজ ঘাসের সাদা কষ্ট,
আলোর মাঝে কালোর কষ্ট. 'মালটি-কালার' কষ্ট আছে.
কষ্ট নেবে কষ্ট। ঘরের কষ্ট পরেরর কষ্ট পাখি এবং পাতার কষ্ট…
হাহাহা , খুব হাসিও পাচ্ছে, আসলেই তো আমার প্রবাস জীবনের কষ্টগুলো মাল্টি কালারে ভরপুর।
বন্ধুটি হঠাত করেই গাড়ি সুনসভাল শহরের দিকেই নামিয়ে দিল, আমি অবশ্য আনমনে ক্যাসেটে পল সায়মনের গান শুনছিলাম, কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের সামনে যাই দেখছি সব সাদা, মনে হচ্ছে পৃথিবীটা যেন সাদা চাদরে ঢেকে যাচ্ছে, আকাশ থেকে তুলোর মত সাদা তুষার গাড়ির সামনের কাচের উপর আছড়ে পড়ছে, উইপারের গতি বাড়িয়ে দিয়েও বন্ধুটি আমার কোনই গতি করতে পারছেনা, কিছুই যেন দেখা যাচ্ছে না, গাড়ির গতিও কমিয়ে দিতে হচ্ছে, দিনে কি রাতে গাড়ি চালাতে গেলেই সামনের বাতি জ্বলিয়ে গাড়ি চালাবার নিয়ম, সম্মুখ থেকে মিটমিট গাড়ির আলো দেখা যাচ্ছে বটে তবে তুষারের প্রবল ঝড়ের কারণে গাড়ি দেখা যাচ্ছেনা। প্রথম দিকে নিজেকে খুব পণ্ডিত মনে হতো, ভাবতাম ইউরোপে এই দিনের বেলাতেও গাড়ির হেড লাইট জ্বালানোর নিয়ম দেখে, এদেরকে খানিক উল্লুক পর্যায়ের ধরে নিয়েছিলাম এবার আমার বুঝতে মোটেও কষ্ট হচ্ছেনা যে কেন এইসব দেশে দিনে রাতে বাতি জ্বলিয়ে গাড়ি চালাবার নিয়ম করা হয়েছে, এবার বুঝতে পারছি আমাকে চিরটা কাল একজন উৎকৃষ্ট শ্রেণীর গর্দভ হয়েই থাকতে হবে। সূর্যের আলো বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই, আমাদের আজ রাতটা এই শহরেরই কাটাতে হবে, পকেট হয়তো গড়ের মাঠ, বাংলাদেশের অজ পাড়া গায়ের একটি ছেলে হুট করে সুইডেনে এসেই তুষারের ঝড়ের কবলে পড়ে হোটেল ভাড়া করে রাত কাটাবে এ রকম আহ্লাদের কোনই মানে হয়না। সামনের দিক থেকে ঘরঘর শব্দ তুলে একটা ট্রাক্টর এগিয়ে আসছে যার সম্মুখ ভাগে একটা প্রচণ্ড বৃহৎ আকারের লোহার খন্তা লাগানো আছে, রাস্তার উপরের জমে থাকা বরফগুলো পরিষ্কার করতে এগিয়ে আসছে, রাস্তার উপর ধীর গতির গাড়িগুলোকে দেখে মনে হচ্ছে এক একটা গাড়ি যেন বুড়ো ষাঁড়, শক্তি আছে তবে তুষারের ঝড়ের কবলে পড়ে নেতিয়ে গেছে।
কিছুদূর এগিয়ে যেতেই পাশে রাস্তার উপর একটি দাড়িয়ে থাকা গাড়ি দেখেই আমার বন্ধুটি হঠাত করেই গাড়ি রাস্তার পাশেই থামিয়ে দিল, ভয়ে আমার জীবন ত্রাহি ত্রাহি, এই ঠাণ্ডায় যদি গাড়ি আবার স্টার্ট না নেয় তবে এই অন্ধকার তুষারের ঝড়ের কবলে নির্ঘাত আইসক্রিম হয়ে যাবো, একটু রাগ হয়েই বন্ধুকে বললাম, “দেখো তোমারা ঠাণ্ডার দেশের সাদা মানুষ, এই ঠাণ্ডা হয়তো তোমাদের সহ্য হবে, কিন্তু আমাকে তো আর এই অন্ধকার পৃথিবীতে তুষার ঝড়ের দেশে আইসক্রিম বানিয়ে ফেলতে পারো না, গাড়ি থামানো তোমার মোটেও উচিত হয়নি”।
বন্ধুর উত্তর শুনে বুঝতে পারলাম আমি যেই গর্দভ সেই বলদই থেকে যাবো সারাটা জীবন কারণ রাস্তায় আটকে যাওয়া কোনো গাড়িকে বা তার যাত্রীদের সাহায্য করা এ দেশের একটা ভদ্রতাই নয় শুধু এটা একটা ট্রাফিক আইন, পথে আটকে থাকা গাড়িকে সাহায্য করতে আমাদের তাই দাড়িয়ে যাওয়া। আমাদের গাড়িটি থেমে যেতেই পেছনের থেমে থাকা গাড়ি থেকে দুইজন স্বর্ণকেশী ললনা বেরিয়ে এলো, আহা, অনুভূতিটা যেন মনের দখিনা কোনে একটু হিমেল বাতাস বয়ে যাবার মত, আমি বন্ধুটির দিকে মুচকি হেসে মাথাটা হেলিয়ে বোঝাতে চাইলাম গাড়িটা থামিয়ে ভায়া ভালই করেছ। মেয়ে দুজন আমাদের গাড়ির দরজা খুলেই ঠিক এতটাই নিশ্চিন্তে পেছনের সিটে বসে গেল যেন গাড়িটা তাদের বাবার আর আমাদের অপেক্ষাতেই তাদের গাড়িটি এই তুষারের ঝড়ে মাঝপথে বিকল হয়েছে।
আলাপ চারিতার মাঝে বুঝতে পারলাম তারাও “সুনসভাল” শহরের দিকেই যাচ্ছে বান্ধবীদের এক মিলন মেলায় মানে শনিবারে রাত ভর নাচ আর গান , আমার মনটাও বেশ আনচান করে উঠলো আহা, যদি এই সুযোগে এক পাল স্বর্ণকেশী সুন্দরী ললনাদের মাঝে আমি ঢুকে যেতে পারি, হয়তো জীবনের ষোল কলাই পূর্ণ হবে। মনে মনে অবশ্য একটি দুশ্চিন্তা ভিড় করছে, ভাবছি রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাড়িটি তো লোপাট হয়ে যাবে ? পথিমধ্যে আমরা একটি ছোট্ট দোকানের পাশে দাঁড়িয়েছি, বিকল গাড়িটি তুলে নেবার জন্যে মেয়ে দুটো কোনো এক ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে ফোন করতেই বুঝতে পারলাম আমাকে দ্বারা এই প্রবাসে হালের বলদ হওয়া ছাড়া অন্য কোনও কর্ম মিলবে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাড়ি চুরি হয়না, চুরি হয়েও গেলেও দায় দায়িত্ব সব ঐ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির। দোকানের মালিক এক বয়স্কা বৃদ্ধা ক্যাশের টেবিলে বসে ঝিমুচ্ছে আর একটা সাদা রঙের ধবধবে ইঁদুরকে একবার কাঁধে নিচ্ছে আবার কোলে নিয়ে চুম খাচ্ছে, মানুষের পোষা প্রাণীদের মাঝে গরু, ছাগল, হাঁস মুরগী, ভেড়া কতনা কি দেখেছি তবে ইঁদুরকে কোলে তুলে চুমু খাওয়াটা দেখেই মনের গহীনে টুং করে একটা ঘণ্টা বেজে উঠলো, যেটা বাজতেই বুঝতে পারলাম আমার এখনো অনেক কিছুই দেখা ও জানার বাকী।
ফোন শেষ করেই স্বর্ণকেশী সুন্দরী ললনা দুজন গাড়ির পেছনের সিটে আবারও নিশ্চিন্তে বসে গেল, অন্ধকার নেমে এসেছে তুষারের ঝড় তখনও থামেনি, আমাদের গাড়ি ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমার মনের গভীরে ভালোবাসার যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা বোঝাবো কাকে?
মেয়েগুলোর সাথে টুকটাক কথা হচ্ছে বটে তবে অন্তরঙ্গ ভাবে কথা বলার কোনই প্রসঙ্গ খুঁজে পাচ্ছি না আর অন্ধকারে পেছনের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানোটাই এক ধরনের অভদ্রতা হবে ভেবে নয়ন ভরে তাদের দেখতেও পারছিনা, মনে হচ্ছে ভালবাসার শহরটা মনের এত কাছে থেকেও কত দুরের পথ। কথার ফাঁকে ফাঁকে বুঝতে পারছিলাম তারা দুজনাতেই আমার প্রতি বেশ একটু কৌতূহল দেখাচ্ছিল, জানতে চাইল আমি কোন দেশ থেকে এসেছি, কি কারণে এসেছি এইসব। আমিও টুকটাক উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু গর্বের সাথেই বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, আমিও ঐ দেশের একজন তারকা পর্যায়ের খেলোয়াড়, ঢাকা স্টেডিয়াম আমি চষে বেড়িয়েছি, অনূর্ধ্ব বিশ বছর জাতীয় যুব দলের অধিনায়ক হয়ে বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতেই ফুটবল খেলেই মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়ে ছিলাম, আজ অনেক দুঃখ আর কষ্ট নিয়ে আমি দেশ ছেড়ে প্রবাসে চলে এসেছি, আমার এই কথাগুলো তাদের বলা হবেনা, আমি তখন সবে মাত্র ঢাকার খেলাধুলার জগতে প্রবেশ করেছি কি করছিনা এরকম একটা অবস্থায়, আর ঠিক সেই সময়েই শুরু হয় খেলাধুলার মানের ধস, আমার আজও মনে পড়ে , সালটা হয়তো ১৯৮২ সনেই হবে , আমি তখন বিজেএমসি’র পক্ষে সুপার লীগ খেলছি, জাতীয় যুব দলের বাছাই প্রতিযোগিতায় আমাকে শেষ মুহূর্তে জাতীয় যুব দল থেকে বাদ দেয়া হয়, কারণটা ব্যাখ্যা আমাকে এ ভাবেই দেয়া হয়েছিল যে যোগ্যতা থাকলেও ঢাকার মাঠে আমার খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম যদিও সে বছর আমি অনূর্ধ্ব ২০ যুব দলের অধিনায়ক হয়ে সমগ্র জেলাতেই খেলে বেশ সুনাম অর্জন করেও জাতীয় যুব দল থেকে বাদ পরি , বাবার কাঁধে মাথা রেখেই প্রতিজ্ঞা করি, এ দেশে আমি ফুটবলের ইতি টানছি।
অন্ধকারে মাঝে মাঝে রাস্তার লাইট পোস্টের আবছা আলো গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছে বটে কিন্তু পেছন ফিরে অপূর্ব সুন্দর স্বর্ণকেশী দুজন সুন্দরীকে দেখার লোভটা যেন কিছুতেই সামলাতেই পারছিলাম না, মনে হচ্ছিলো বাংলাদেশের একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে কি এই সুইডেনের ভালোবাসার স্বর্গ রাজ্যে সারাটা জীবন সাইড লাইনেই বসে থাকতে হবে ? আমাদের গাড়ি শহরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে এতটুকু জানা হয়ে গেছে যে তারা আজ রাতে ইউনিভার্সিটির বান্ধবীদের সাথে একটা পার্টিতে যোগ দেবে।এমনিতেই অপেক্ষায় আছি তারা হয়তো আমাদেরকেও আজকের বান্ধবীদের সমাগমের আনন্দ ঘন অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানাবে, আমার পাশে থাকা বন্ধুটি অবশ্য খুব একটা কৌতূহল দেখাচ্ছে না। মনের গহীনের ভালোবাসার পূর্ণিমার চাঁদ যেন জ্বল জ্বল করছে।
হঠাত পেছনের সিটে কোনই সারা শব্দ পাচ্ছিনা তবে মাঝে মাঝে খসখস আর বিড়ালের দুধ পান করার মত চুক চুক একটা শব্দ পাচ্ছিলাম, লাইট পোস্টের আলো গাড়ির ভেতরটা আলোকিত করতেই কিছু একটা খোজার ভান করে পেছনের দিকে তাকাতেই আমার মনের পূর্ণিমার চাঁদের আলো দপ করেই নিভে গেল। দৃশ্যটি আমার স্বপ্নের কাছাকাছি কোথাও অবস্থান করা তো দুরের কথা দৃশ্যটি সুদূর প্রবাস জীবনে কেন আমার জীবনেই প্রথম দেখলাম, দুইজন নারী একে অপরকে গভীর আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছে আর সে কারণেই বিড়ালের দুধ পান করার মত চুক চুক একটা শব্দ হচ্ছে।
আজ বহুদিন পর আমি বিশ্বাস করি সমকামী মানুষদের সমাজে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার ঠিক অন্য দশ জনের মতই, এই অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা যায় না। একজন মানুষ অপর একজন মানুষকেই তো ভালবাসবে আর এই ভালোবাসাটাকে কোন ভাবেই তার অপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায় না, কাজেই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে যদি অপর একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভালোবেসেই ফেলে তা নিশ্চয়ই অন্যায় হবে না।
একজন মানুষ যখন সমকামী চিন্তা ভাবনা নিয়ে বড় হতে থাকে তখন এক পর্যায়ে মানুষ অদ্ভুত এই ইচ্ছা শক্তির কাছে পরাজয় বরণ করে এবং ইচ্ছা শক্তিটাই তার জীবনকে পরিচালিত করে যেখান থেকে ফিরে আসার পথ থাকে না, ভালোবাসা হবে উদার উন্মুক্ত স্বাধীন।
--- মাহবুব আরিফ কিন্তু

glqxz9283 sfy39587p07