Skip to content

আইএস টু হেফাজত

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এমনতো হতে পারে যে আইএস ঠিক যে ভাবে সুপরিকল্পিত ভাবে বিভিন্ন দেশে ইতিহাসের সাক্ষী জীবনের উপর চিত্রকলা, শহর ও ভাস্কর্যগুলো ধংশ করেছে আর করে যাচ্ছে, হেফাজতি ইসলাম বাংলাদেশে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সেই একি কাজটি করতে উদ্ধত হয়েছে ?

শিল্পের চমৎকার কাজগুলি আমাদেরকে এমন পদ্ধতিতে অন্যের সাথে সংযুক্ত করে দেয় যা সহজে প্রতিলিপি করা যায় না, ভাষা দিয়ে বা কলমের খোঁচায় তার নান্দনিক পরিচয় প্রকাশ করা যায় না | অতীত যুগের ভাস্কর্য এবং মূর্তিগুলি আমাদের সেই পথটি বুঝতে সাহায্য করে, যা দেখেই আমরা বুঝে নেই আমাদের পূর্বপুরুষরা নিজেদের এবং তাদের চারপাশের দুনিয়া দেখতে কেমন ছিল। আদিকাল থেকেই মানুষ সূর্য, মূর্তি, পাহাড়, পর্বত, পাথর, সাগর, পশু, পাখী, নদী, আকাশ, বাতাস এমন কি মানুষ মানুষের পূজাও করে এসেছে | যেখানেই মানুষ অজানাকে জানতে অসমর্থ হয়েছে তখনি সে জায়গায় ধর্ম এসে উত্তর দিয়ে মানুষের বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করেছে | ধর্মের উপর বিশ্বাস রেখে মানুষ অজানার উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, কিন্তু এই বিশ্বাস যদি কোন নান্দনিক সৃষ্টিকে ধর্মের গোঁড়ামিতে ধংশ করে আমার তা মেনে নেব কি ? ধর্মের উপর বিশ্বাসী মানুষরা যদি মানুষকে ঈশ্বরের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মেনে নেয় তবে সেই মানুষের নান্দনিক সৃষ্টি একটি ভাস্কর্যকে কেন মেনে নেবে না | একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কেন ধর্মের উপর ভর করা মানুষদের অধর্মের আবদারকে মেনে নিয়ে মানুষের তৈরি শিল্প কর্মকে তার নিজের জায়গা থেকে অপসারণ করবে ? একটি ভাস্কর্য দেখলেই যদি তাদের ধর্ম নষ্ট হয়ে যায় তবে তাদের অন্ধকার গুহাতেই বসবাস করা উচিত কারণ সভ্য জগতে পথে ঘাটে লাইফ বয় সাবান অথবা লাক্স সাবানের বিল বোর্ড দেখলেও ধর্ম নষ্ট হয়ে যাবার আশংকা থাকে | একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে সর্বদাই এইসব অধর্মের আবদারকে প্রশ্রয় দিতে গেলে বানর মাথায় উঠে গেলেই বিপদ |
একটি ভাস্কর্য একজন শিল্পীর নান্দনিক সৃষ্টি আর আমি যদি সেই শিল্পী হই তমে এক্ষেত্রে আমার পিতা মাতা, জাত-পাত, ধর্ম, গোত্র বা বর্ণ কি ছিল তা বিবেচ্য বিষয় নয়, আমার কর্মটাই হোক আমার আসল পরিচয় | একটি ভাস্কর্য একটি কালের, যুগের, সময়ের, মানুষের, সংস্কৃতির এমনকি কোন ব্যক্তির পরিচয় বহন করে ঠিক যেমন বঙ্গবন্ধুর একটি প্রতিকৃতি বা ভাস্কর | এমনও হতে পারে, কালের আবর্তনে একটি মূর্তিও ভাস্কর্যে রূপান্তরিত হতে পারে | ভারতের "খাজুরাহো" মন্দিরের সংবেদনশীল কামা সূত্রের মূল্যবান ভাস্কর্যগুলোকে কি এই সভ্যতার যুগে আপনি বর্জন করতে পারেন ? এই ভাস্কর্যগুলো তো এক কালের হিন্দু ও জৈন ধর্মের সাক্ষী, নাহ, আমরা তা পারি না, আমার যদি কোন ইতিহাস এই সভ্যতার যুগে সংরক্ষিত করতে না জানি তবে আমাদের বর্বর বলতে দোষ কোথায় ? ইসলামের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় আইএস পৃথিবীর ইতিহাসের সাক্ষী যতগুলো ভাস্কর্য বিভিন্ন দেশে ধংশ করেছে, আজ আমার আবার তা ফিরে পাবো কি ? আমি যদি সেই সব মূল্যবান ভাস্কর্যের বর্ণনা দিতে যায় তবে আমার লেখা অযথাই দীর্ঘ হয়ে যাবে | পরিশেষে একটা কথাই বলে যেতে চাই, শিল্পীর কর্মকে তার সৃষ্টিকে শ্রদ্ধা করতে শিখুন, একটু মনুষ্যত্বকে নিজের ভেতরে স্থান দিন, এক্ষেত্রে শিল্পীর, ধর্ম, জাত-পাত, বর্ণ, পিতা মাতা কোন কিছুরই দেখার প্রয়োজন পরে না, যেটা পরে সেটা হচ্ছে শিল্পীর সৃষ্টি তার নান্দনিক কর্ম একটি ভাস্কর্য | রাষ্ট্র যদি হেফাজতের এই ধর্মীয় উন্মাদনা ও আবদারের কাছে মাথা নত করে তবে আমাদের লজ্জার সীমা থাকবেনা |
/// মাহবুব আরিফ কিন্তু


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রসুনের গোড়া সব এক জায়গায়।

glqxz9283 sfy39587p07