Skip to content

অপপ্রচারের পাশাপাশি জামায়ত-বিএনপি’র অপকামের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে হবে

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি



বিএনপি-জামায়তের অপপ্রচারের বিপরীতে নতুন বছরের শুরুতেই আওয়ামী লীগ না-কি মাঠে নামবে। কিন্তু কোন কোন বিষয়ে ওরা অপপ্রচার চালায় সেই বিষয়গুলো পয়েন্ট আউট না করে এবং ধারাবাহিক ভাবে প্রতিটা পয়েন্টের উপযুক্ত জবাব না দিয়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে দুই/একটা পয়েন্টে বক্তৃতা-বিবৃতি দিলে আওয়ামী লীগের মাঠে নামা অপূর্ণ রয়ে যাবে।

বিষয় ভিত্তিক জামায়ত-বিএনপি’র প্রতিটা মিথ্যাচারে সঠিক জবাব কঠিন কিছু নয় এবং আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে হ্যান্ডেল করবে বলে আশাবাদী। শুধু বিএনপি-জামায়তের দু’টা বিষয়ে মিথ্যাচারের জবাব দিতে চাই-

১। শেয়ার বাজার লুট;
২। রিজার্ভ পাচার।

শেয়ার বাজার লুট:

কোন ব্যাক্তিবর্গ(যেমন সালমান এফ রহমান অথবা মোসাদ্দেক আলী ফালু)শেয়ার বাজার লুট করে নাই; বিএনপি-জামায়তের ভাষায় যদি লুট হয়ে থাকে তবে শেয়ার বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তথা মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনায় এই টাকা লুট করানো হয়ছে। উদ্দেশ্য– ‘শেয়ার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে হাসিনা সরকার ব্যর্থ’ এই অজুহাতে ’আওয়ামী লীগের লোকজন শেয়ারের টাকা লুট করেছে’ রটিয়ে ব্যাপক মিথ্যাচার চালানো। শেয়ার বাজারে ধস নাম বিষয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সাহেবের তদন্তে শুধুমাত্র ব্যাক্তি শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে কিন্তু শেয়ার বাজার ধ্বংসকারী ওই সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের বিয়ষয়টা তদন্তে ফোকাস হয় নাই। অর্থ মন্ত্রনালয় হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দু’টো ঘোষণার (সার্কৃলার) কারণে শেয়ার বাজারের এই উত্থান ও পতন। সেই সময়ে অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের মালিক ছিল জামায়ত-বিএনপি। জামায়তি শয়তানি জ্ঞানের মার বুঝা বড় কঠিন। জামায়ত নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসছে; তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষের দিকে হয়তো অর্থ মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজে লুকিয়ে থাকা জামায়তি চক্র নিজেদের আর্থিক লাভের বিপরীতে হাসিনা সরকারকে সমালোচিত করতে এই ফাঁদ পেতেছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে হাসিনা সরকাররে প্রথম দিকেই শেয়ার বাজারকে উৎসাহ দেয়ার মুলা ঝুলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হয়, “শেয়ার বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ক্যাপিটালের ৩০% (সম্ভবত; এতোদিনে সঠিক পারসেন্ট মনে নাই) শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে”। ব্যাস, একবছরেই শেয়ার বাজার ফুলে বেলুন হয়। তখন আবার পরিকল্পিত ভাবে শেয়ার বাজারে ধস নামাতে জামায়ত-বিএনপি চক্র তাদের পেইড টক’শো বিশারদ(!)সহ পুরো মিডিয়াকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে শেয়ার বাজার নিয়ে নানামুখি প্রচার ও গুজব রটাতে থাকে। জামায়তিদের গোপন চাহিদা মোতাবেক শেয়ার বাজারকে নিয়ন্ত্রনের নামে সেই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মোক্ষম অস্ত্র প্রযোগ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আবার সার্কুলার জারি হয়, “শেয়ার বিনিয়োগকারী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তাদের ক্যাপিটালের ১০% (সম্ভবত)-এর বেশী শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পডারবে না। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ সম্মিলিত ভাবে এই ২০% অতিরিক্ত বিনিয়োগ শেয়ার বাজার থেকে উত্তোলন শুরু করলে শেয়ার বাজারে ধস নামা শুরু হয় এবং ধস নামতে নামতে একসময় বেলুনের ন্যায় ফটাস করে শেয়ার বাজার ফেটে যায়। এই সকল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তাদের বয়সের ইতিহাসে শেয়ার বাজারে ধস নামা সেই ২০১০ সালে সব্বোর্চ প্রফিট করে। জামায়ত-বিএনপি’র ভাষায় শেয়ার বাজারের টাকা যদি লুট হয়ে থাকে তবে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের সেই বছরের প্রফিটিই হচ্ছে এই লুটের টাকা। শেয়ার বাজার থেকে প্রাপ্ত মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ গুলোর সম্মিলিত প্রফিটের নিকট কোন ব্যাক্তিবর্গের প্রফিট সামান্য নস্যি মাত্র। তাহলে শেয়ার বাজারের টাকা লুট করলো কা’রা? নতুন হাসিনা সরকার ঠিকমতো বুঝে ওঠার আগেই জামায়তি চক্রের পিছনের ইন্ধনে শেয়ার বাজারকে উৎসাহ দেয়ার মুলা ঝুলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারের ভিত্তিতে বৈধভাবে শেয়ার বাজারের টাকা লুট করানো হলো শেয়ার ব্যবসায়ী ’প্রতিষ্টান’ দিয়ে কিন্তু দোষ হয় দেয়া কতিপয় ’ব্যাক্তিবর্গকে’।

রিজার্ভ পাচার:

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পাচারকারী চক্রকে ধরতে হলে কেন রিজার্ভ পাচার করা হলো আগে সেই বিষয়টা বুঝতে হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে কয়েক মাস পর পর রিজার্ভ বৃদ্ধির খবর মিডিয়ায় প্রচার হচ্ছিল। এ’তে সরকার তথা আওয়ামী লীগের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং আওয়ামী লীগের সুনাম বৃদ্ধির খবর দেখলে জামায়ত-বিএনপি চক্রের গাত্রদাহ শুরু হয়। যেমন স্বপ্নের পদ্মাসেতু বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে; তাই খালেদা জিয়া সহ বিএনপি-জামায়ত সকলের গাত্রদাহ। এই গাত্রদাহ থেকেই ইউনুস এবং বিশ্বব্যাংককে লেলিয়ে দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করিয়ে দেয়া হয়। জামায়ত-বিএনপি চক্রের সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে আবারও যখন পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে তখন খালেদা জিয়া সহ জামায়ত-বিএনপি সকলের ওই গাত্রদাহ এখন মরণ যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। তীব্র এই যন্ত্রনা থেকে সম্প্রতি তিনি পদ্মাসেতুর বিরুদ্ধে নেতীবাচক মন্তব্য করে।

”রিজার্ভ বৃদ্ধির সুখবরের বিপরীতে কি করা যায়” এই ভাবনা থেকেই সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়তি চক্র রিজার্ভ পাচার করিয়েছে। ’ডিজিটাল’ শব্দটিকে ব্যাঙ্গ করে ওই জামায়তিরাই আবার ডিজিটালি প্রচন্ড শক্তিশালী। আরো ভয়ংকর ব্যাপার, কয়েক দিন আগে ছাত্রশিবিরের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলো অনলাইন ভোটিং দ্বারা। ছাত্রশিবির এখন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড। এমনকি সরকারের ভেতরে এবং বাইরের সম্পূর্ণ জামায়তি সিন্ডিকেট এখন ডিজিটালি গোপন অর্গানাইজড। জামায়তি হ্যাকার গ্রুপও শক্তিশালী; তাদের সঙ্গে বিদেশী হ্যাকার গ্রুপের গোপন যোগাযোগ চলমান। রিজার্ভ পাচার করতে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকস্থ গোপন জামায়তি সিন্ডিকেট বাইরের জামায়তি হ্যাকার গ্রুপকে সরবরাহ করে এবং জামায়তি হ্যাকার গ্রুপ এই পাসওয়ার্ডটি বিদেশী হ্যাকার গ্রুপকে পাচার করে। আর মনে হয় কিছু বুঝিয়ে বলার দরকার নাই। কোন অঘটন ঘটানোর আগে কিভাবে নিজেরা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকা যায় এবং আওয়ামী লীগের ঘাঁড়ে দোষ চাপানো যায় সেই বিষয়ে নানামুখি গবেষণা দ্বারা কনফার্ম হয়েই ওরা অপারেশনে নামে।

জামায়ত-বিএনপি’র অপপ্রচারের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ কিন্তু ওদের অপকাম কি চলতেই থাকবে? নিজেরা পরিকল্পিত অপকাম করে সেই অপকামকে পূজিঁ ধরে ওরা আওয়ামী লীগ বিরেধি অপপ্রচার চালায়। কিছু অপকামের নমুনা –
পুলিশের ভেতর:
জামায়ত-বিএনপি পন্থী পুলিশরা পরিকল্পিত ভাবে বেশী মাত্রায় ঘুষ খায়, বেশী মাত্রায় পাবলিককে হয়রানি করে; কারণ ব্যাক্তিগত তাদের কোন দোষ হবেনা – দোষ হবে হাসিনার পুলিশের, দোষ হবে সরকারের, দোষ হবে আওয়ামী লীগের। জামায়ত-বিএনপি পন্থী ট্রাফিক পুলিশরা পরিকল্পিত ভাবে রাস্তায় বেশী মাত্রায় জানজট সৃষ্টি করে; কারণ এই জানজটের ভোগান্তির বিপরীতে জানজট সৃষ্টিকারী ব্যাক্তি পুলিশকে পাবলিকে কিছু বলবে না; দোষ হবে সরকারের পুলিশের, দোষ হবে আওয়ামী লীগের।
শিক্ষকদের ভেতর:
প্রশ্ন আউট করতে জামায়ত পন্থী শিক্ষকরা কূখ্যাত। বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়ত-বিএনপি পন্থী শিক্ষকরা পরিকল্পিত ভাবে বেশী মাত্রায় স্কুল ও কলেজের প্রশ্ন আউট কার্য্ক্রম চলমান রেখেছে।


সরকারী চাকরিতে প্রবেশ করলে আওয়ামী লীগ পন্থী সরকারী হয়ে যান কিন্তু জামায়ত বাইরেও জামায়তি এবং সরকারেও জামায়তি। যে জায়গায় থাকুক না কেন ওরা সব সময় আওয়ামী লীগের অনিষ্ট কামনা করে এবং সেই মোতাবেক চেষ্টা করে। আত্মীয়তা বা নতুন ব্যবসার সম্পর্কে ওরা পিছনের ইন্ধনে আওয়ামী লীগারদের বিপথগামী করে। প্রকৃত আওয়ামী লীগার হিসেবে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সম্প্রতি একটা হৃদয়স্পর্শী কথা বলেছেন। মন্ত্রানালয় চালাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সুনামহানি হয় এমন কাজ তিনি কখনও করেন নাই। সব আওয়ামী লীগার যদি তার ন্যায় চিন্তা-চেতনাধারী হতেন তবে সত্তরের নির্বাচনের ন্যায় আওয়ামী লীগের ভোট আবারও ৭৫% অতিক্রম করতো।


glqxz9283 sfy39587p07