Skip to content

জামায়তি অপকৌশলের প্রকারভেদ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সেই পাকিস্তান আমল থেকেই জামায়তিরা অন্যের ঘাঁড়ে চড়‍া অপকৌশলের দ্বারা তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে কিন্তু কখনও সরাসরি আওয়ামী লীগের ঘাঁড়ে চড়তে পারে না বলেই আওয়ামী লীগের প্রতি তাদের যত বিদ্বেষ। দেশ স্বাধীনের পর পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে নতুন অপকৌশলে জিয়াকে ব্যবহারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দুইভাগ করে আবারও ওরা জিয়ার ঘাঁড়ে চড়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন চালাতে থাকে। তদ্রুপ এরশাদ সাহেবের আমলও তাদের স্বর্নযুগ; কারণ ওই আমলে তাদের ছাত্র সংগঠনের প্রসার ঘটতে থাকে। বেগম খালেদার পরবর্তী আমলও তাই কিন্তু বাগড়া বাধে ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় বসলে। অন্যের ঘাঁড়ে চড়া আবারও বন্ধ! তাই জামায়ত ও বিএনপি নিজেদের মনকষাকষি দূর করে কাছা মেরে একাট্টা হয়ে ২০০১ সালে আবারও ক্ষমতায় বসে। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র বিপুল বিজয়ের পিছনে জামায়তি অপকৌশল বেগম খালেদার নজর কাড়ার নজরানা স্বরুপ জামায়তির‍া দু’টি মন্ত্রণালয় বাগিয়ে নেয়। এবার আর ঘাঁড়ে নয়; জামায়ত রীতিমত বিএনপি’র কোলে চড়ে বসে। গোপনে ব্যাপকহারে জামায়তি এজেন্ডা বাস্তবায়ন চলতে থাকে। তদবিরে বিএনপি’র অনেক সুপারিশ নিয়ে কামড়াকামড়ি’র কারণে বাস্তবায়ন না হলেও জামায়তি এক সুপারিশই অব্যর্থ। এরপর ২০০৯ সালে আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বসলে আবারও জামায়তিদের মাথায় বাড়ি পড়ে। তারপরও প্রতিকুলতায় না দমা জামায়তিরা অন্ততঃ ৫ বছর পর যেনো আবারও বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো যায় সেই প্রচেষ্টায় সমাজে আওয়ামী লীগকে হেয় করার অপকৌশল চালাতে থাকে। কিন্ত ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে বিএনপি হতাশায় মৃতপ্রায়। বিএনপি‘র মৃত হলে আপাতত ’চড়ার মতো কোন বিকল্প ঘাঁড়’ না থাকার কারণে জামায়তও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। জামায়তিরা তাই পিছন থেকে বাঁশ দিয়ে মৃতপ্রায় বিএনপিকে খাড়া রাখার চেষ্টা করছে এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যূতির বিপরীতে তাদের জন্ম দেয়া বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর প্রচেষ্টায় পুরাতন সহ নিত্যনতুন ছল-বল-(অপ) কৌশল প্রযোগ করছে।



জামায়তিদের অপকৌশলের কোন শেষ নাই এবং নিত্যনতুন অপকৌশল যুক্ত করে; তাই জামায়তিদের সকল অপকৌশলকে একটা ফ্রেমে এনে প্রকারভেদ করা সত্যিই দূরহ ব্যাপার। জামায়তিদের অপকৌশল জানার আগে তাদের প্রকারভেদও জানা দরকার। অবস্থানের ভিত্তিতে ওদেরকে দু’টা বৃহৎ ক্যাটাগরীতে ভাগ করা যায়; প্রকাশ্যে জামায়তি এবং ছদ্মবেশী জামায়তি।

প্রকাশ্যে জামায়তি:
এরা জামায়তি বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত এবং জামায়তি হিসেবে পরিচিত। জ্বালাও-পোড়াও করতে যেয়ে মামলার আসামী হয়ে পুলিশের দাবড়ানি খ‍াওয়ার ভয়ে এদের একটা অংশ বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও একসময় এদেরকে জামায়ত-শিবিরের মিছিল-মিটিং-এ দেখা যেতো।

ছদ্মবেশী জামায়তি:
হাইকমান্ডের পরামর্শে এরা নিজস্ব জামায়তি পরিচয় গোপন র‍াখে এবং নিরপেক্ষ সেজে সুযোগ পেলে সরকার বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। এরা উচ্চ শিক্ষিত এবং সরকারী- আধাসরকারী- বেসরকারী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। এমনকি আওয়ামী লীগের ভেতরও ছদ্মবেশী জামায়তিদের উপস্থিতি বিদ্যমান। এরা মুখে এবং কলমে সব সময় আওয়ামী লীগের ক্ষতির চেষ্টা করে।

কাজের ভিত্তিতে জামায়তিরা আবার ৪ গ্রুপে বিভক্ত; ১। প্লানিং গ্রুপ, ২। পলিটিক্যাল গ্রুপ, ৩। পাবলিসিটি গ্রুপ এবং ৪। অপারেশন্স গ্রুপ।

প্লানিং গ্রুপ:
এ’টা মূল সহ জামায়তি বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এবং এই গ্রুপ সকল গ্রুপের কার্যাবলী নির্দিষ্ট করে। ২০১৩ সালের নাশকতা এবং ২০১৫ সালের আগুন সন্ত্রাসে মামলার আসামী হয়ে সীল মারা জামায়তিরা পলাতক থাকলে আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল সুবিধা কাজে লাগিয়ে ওরা অনলাইনে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিরোধি পলিসি নির্ধারণ করে এবং অনলাইন-অফলাইন সমন্বয় ঘটিয়ে ওই পলিসি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। একসময় ইসলাম ধর্মকে ফোকাস করিয়ে জামায়তের জন্ম হলেও বর্তমানে তাদের কিছু অংশ লোক দেখানো নামাজ-কালাম পড়লেও ওদের প্লানে ইসলাম প্রসারের কোন চিহ্ন নাই; বরং তাদের বর্তমান একমাত্র প্লান কিভাবে আওয়ামী লীগকে হটিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো যায়।
গবেষণা উইং: অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ন্যায় প্লানিং গ্রুপের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জামায়তিদের একটা গবেষনা উইং আছে। বিভিন্ন অপকৌশল বিশেষ করে বড় কোন অঘটন ঘটানোর আগে জামায়তিরা নানামুখি গবেষণা চালিয়ে নিজেদেরকে ধরা-ছোয়ার বাইরে রাখা এবং সরকারের ঘাঁড়ে দোষ চাপানোর পয়েন্ট নিশ্চিন্ত হয়েই ওই অঘটন ঘটায়।

পলিটিক্যাল গ্রুপ:
দলের পক্ষে মিছিল-মিটিং করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সীল মারা এই গ্রুপ বিএনপি’র পক্ষে আন্দোলনের নামে দু’বার নাশকতা চালাতে যেয়ে এখন অনেকেই পুলিশ ও মামলার ভয়ে এলাকা ছাড়া। এরা আবার অনেকেই অপরিচিতির সুযোগ নিয়ে অন্য এলাকায় গিয়ে অপারেশন্স গ্রুপে কাজ করে।

পাবলিসিটি / মিডিয়া গ্রুপ:
সকল গ্রুপই স্ব স্ব অবস্থান থেকে এই গ্রুপের দায়িত্ব পালন করলেও এরা এই কাজের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত। এদের পাবলিসিটি বা প্রচারণা দল বা ইসলামের পক্ষে নয়। এদের প্রচারণা শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এখানেও অনলাইন-অফলাইন সমন্বয় ঘটানো হয়। প্রচারণায় এরা এতটাই দক্ষ যে তিল কে তাল বানানো ওদের নিকট ওয়ান টু’র ব্যাপার। মিথ্যা একটা ঘটনার গল্প জন্ম দিয়ে বা ফটোশপে মিথ্যা ছবি বানিয়ে প্রথমে ফেসবুক/টুইটার/ইউটিউবে ভাইরাল করানো হয়। এরপর এই মিথ্যা ঘটনার পক্ষে বিএনপি নেতাদের বিবৃতি এবং জামায়ত-বিএনপি’র টক’শো বিশারদগণ আলোচনার নামে সমালোচনা চালাতে থাকে। এভাবে প্লানিং গ্রুপের প্লান মোতাবেক মিথ্যা প্রচারটি একসময় অফলাইনেও ছড়িয়ে পড়ে। জামায়তি অপারেশন্স গ্রুপ কোন অঘটন ঘটাতে ব্যর্থ হলেও ওই অঘটনের দায় আওয়ামী লীগের ঘাঁড়ে চাপানোর জন্য তৎক্ষণাৎ জামায়তি পাবলিসিটি গ্রুপ অঘটনের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে প্রচার শুরু করে। যেমন বিডিআর ট্রাজেডির মাধ্যমে নতুন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পেরে ওরা প্রচারণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং ভারতেকে এই ঘটনার জন্য দোষারোপ করে। তদ্রুপ হেফাজতি খেল দেখাতে ব্যর্থ হয়ে ওরা প্রচারণায় পাখির ন্যায় গুলিতে শত শত হেফাজতির মৃত্যুর মিথ্যা গল্প ছড়িয়ে দেয়।

অপারেশন্স গ্রুপ:
এরা জামায়তি আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রুপ। দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী খবর তৈরীর জন্য এরা দায়িত্বপ্রাপ্ত। সরাসরি অথবা ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে দেশী-বিদেশী চাপে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যূতির মাধ্যমে সময়মতো অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিন্ত করে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানো জামায়তি প্লানিং গ্রুপের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়নে কাজ করে অপারেশন্স গ্রুপ। বিডিআর ট্রাজেডি ছিল আওয়ামী লীগকে সরাসরি ক্ষমতাচ্যূত করার ওদের প্রথম এক্সপেরিমেন্ট। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী গুপ্ত হত্যাকান্ড -ব্লগার, লেখক, গুপ্ত নাশকতা, পেট্রোল বোমার আগুন সন্ত্রাস, বিদেশী, খ্রীষ্টান ধর্ম যাজক ও হিন্দু পুরোহিত হত্যাকান্ড এবং গুলশান-শোলাকিয়া হত্যাকান্ডে জামায়তি অপরেশন্স গ্রুপ জড়িত। একাত্তরে জামায়ত থেকে রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও সিরাজুস সালেহীন বাহিনী গঠনের ন্যায় বর্তমানে জামায়ত থেকেই জেএমবি, হুজি, হিযবুত, আনসারুল, দাওলাতুল, নব্য জেএমবি ইত্যাদি গঠিত। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ পাচারেও এই জামায়তি অপারেশন্স গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে। ওরা আবার আইটি এক্সপার্ট। সরকারী সংস্থায় চাকরীতে প্রবেশ করলে একজন আওয়ামী লীগার সরকারী হয়ে যায় কিন্তু যেখানেই থাকুক না কেন; জামায়তিরা সব সময় জামায়তি। সকল অবস্থানের জামায়তিরাই ডিজিটাল সুযোগ নিয়ে গোপন লিংকে পরস্পর যোগাযোগ রাখে। তাই বাংলাদেশ ব্যংকস্থ জামায়তি ছদ্মবেশী গ্রুপের সহযোগিতায় তাদের অপারেশন্স গ্রুপ রিজার্ভ পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।

বাস্তবে শেষ না হলেও লেখায় জামায়তিদের প্রকারভেদ আপাতত শেষ। এবার তাদের অপকৌশলের প্রকারভেদ। জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে সর্বত্র এবং শয়নে-স্বপনে-জাগরণে সব সময় ওরা ধ্যানে আওয়ামী লীগের অনিষ্ট কামনা করে। হাতে-মুখে-কলমে সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগের ক্ষতি করা ওদের একমাত্র ব্রত। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়তি অপকৌশলকে ৩ ক্যাটাগরীতে ভাগ করা হলো; ১। ইনডোর অপকৌশল, ২। আউটডোর অপকৌশল এবং ৩। ব্যাকডোর অপকৌশল।

ইনডোর অপকৌশল:
ওদের প্লানিং গ্রুপের যাবতীয় কর্মকান্ড ইনডোর অপকৌশলের আওতাভুক্ত। এরা ঘরে বা কোন গোপন জায়গায় মিলিত হয়ে আওয়ামী লীগকে হেনস্তা করতে ইনডোর অপকৌশল আবিষ্কার করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ফংশনাল গ্রুপকে এই অপকৌশল বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়। সরকারের ঘরে লুকিয়ে থাকা ছদ্মবেশী জামায়তিরাও ইনডোর অপকৌশল দ্বারা জনগণের নিকট সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাস্তবায়নাধীন সকল প্রকল্পেই কিছু সুবিধা এবং কিছু অসুবিধা থাকে। ডিসিশন মেকিং-এ রোল প্লেয়িং রত সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা ছদ্মবেশী জামায়তিরা প্রকল্পের ‘সুবিধার’ ওপর বেশী ফোকাস দিয়ে সরকারকে খুশিতে রাখে; আবার জামায়তি-বিএনপি মহলে এই প্রকল্পের অসুবিধা গুলি ফাঁস করে দিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে দলীয় দায়িত্ব পালন করে। ওরা তখন অনলাইন-অফলাইনে ওই প্রকল্প বিরোধি প্রচারণা চালিয়ে তোলপাড় ফেলে। একসঙ্গে থাকা অন্যান্য সবাইকে খারাপ কাজে উৎসাহ জুগিয়ে নিজেরা ধরা-ছোয়ার বাইরে থেকে অন্যদেরকে খারাপ কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করানো এদের কাজ। একার পক্ষে দূর্ণীতি করা সম্ভব নয়; দূর্ণীতি চক্রে জড়িত জামায়তিরা দূর্ণীতিতে উৎসাহ প্রদান এবং নিজের ভাগ পকেটে ঢুকানোর পর দূর্ণীতির ঘটনা বাইরে ফাঁস করে দেয়, এমনকি সুযোগ পেলে গোপন জামায়তি চ্যানেলে ঘুষের টাকা ধরিয়ে দেয় কিন্তু নিজেরা ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকে। অনলাইনে মিথ্যা গল্প সাজানো, ফটোশপ মিথ্যা ছবি তৈরী এবং মনগড়া মিথ্যা প্রচারও তাদের ইনডোর অপকৌশলের আওতাভুক্ত। এক কথায়, অনলাইনে মিথ্যাচার, কূ-পরামর্শ এবং খারাপ কাজে উৎসাহদান জামায়তিদের ইনডোর অপকৌশলের আওতাভুক্ত। ওদের ইনডোর অপকৌশলের অন্যতম ধরণ হচ্ছে, “দেখাবে এক জায়গায় কিন্তু মারবে অন্য জায়গায়”। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করিয়ে ওরা সরকারকে বিব্রত করে; আবার নিজস্ব কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে গোপনে ওই প্রশ্নপত্র বিক্রয় করে টাকা কামায়। একটা কথা প্রচলিত যে, আওয়ামী সিন্ডিকেটের নাগাল পাওয়া কঠিন কিন্তু আগে জামায়তি সিন্ডিকেটে নাম এন্ট্রি কর‍ালে সহজেই আওয়ামী সিন্ডিকেটে প্রবেশ করা যায়।

আউটডোর অপকৌশল:
এগুলো বাইরে দৃশ্যমান। লোমহর্ষক মানুষ খূণ, জ্বালাও-পোড়াও, পেট্রোল বোমার আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারা, গুপ্ত নাশকতা ইত্যাদি প্রতিকূল পরিস্থিতি দ্বারা ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপ্রিয় জনগণের মনে ভীতি সঞ্চার কর‍া। তাদের উদ্দেশ্যে ভীত-সন্ত্রস্ত জনগণ সরকারের ওপর নাখোশ হবে যে সরকার কেন প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। এভাবে জামায়তিরা জনগণের ভেতর সরকার বিরোধি জনমত সুষ্টি করে। ওরা সমাজে উদ্দেশ্যমুলক গুজব রটিয়ে জনগণকে বিভ্রান্তির ভেতর রাখে। জঙ্গি মাঠে নামিয়ে এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকান্ড ঘটেছে সবই জামায়তিদের আউটডোর অপকৌশ। জঙ্গি মাঠে নামানোর উদ্দেশ্য আগেই উল্লেখিত। জামায়তি রাজাকারদের জন্য ৭১-এর পর বড় হুমকি স্বতঃস্ফুর্ত গণজাগরণ মঞ্চকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দূর্বল করতে একদিকে হেফাজত মাঠে নামানো হয় (আউটডোর অপকৌশল) এবং অন্যদিকে তাদের ৭১-এর গোপন মিত্র চীনপন্থী বামদেরকে গণজাগরণ মঞ্চের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়; যা তাদের ইনডোর অপকৌশল। সামনে বা পিছন থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ধর্মীয় লেবাসে কোন অঘটন ঘটিয়ে জামায়তিরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ”তৌহিদী জনতা” বা “মুসল্লী”দের ব্যানারে ওই ঘটনার প্রচার চালায়। “ধর ধর” আওয়াজ তুলে অথবা “এখনও না মেরে বসে আছিস”- পিছন থেকে এই জাতীয় উষ্কানিমুলক কথা বলে সামান্য অঘটনকে বড় রুপ দিয়ে ওরা সমাজে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির করে।

ব্যাকডোর অপকৌশল:
ইনডোর অপকৌশল দ্বারা সরকারের ক্ষতি, আউটডোর অপকৌশল দ্বারা সমাজের ক্ষতি এবং ব্যাকডোর অপকৌশল দ্বারা ওরা সরাসরি আওয়ামী লীগের ক্ষতি করে। ওরা অনেক সময় ইনডোর, আউটডোর এবং ব্যাকডোর; তিন অপকৌশলই একত্রে প্রয়োগ করে। তবে তিন পদ্ধতির অপকৌশলের চুড়ান্ত উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের ক্ষতি করা। পিছন থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করা বা জনগণের নিকট আওয়ামী লীগকে বিতর্কিত করার জন্য জামায়তিরা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে। টাকা বিনিয়োগ করে বা আত্মীয় পরিচয়ে প্রথমে ওরা আওয়ামী লীগের ভেতর অনুপ্রবেশ করে। এরপর স্থানীয় প্রভাবশালী কোন কোন নেতার ‘ডান হাত’ বা ’বাম হাত’ সেজে ওই নেতাকে কূ-পরামর্শ দিয়ে গ্রুপিং পলিটিক্সে বেগবান করে; যা থেকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। পিছন থেকে টাকা ঢেলে জামায়তিরা কোন কোন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগার-এর ব্যবসায়িক পার্টনার হয় এবং অনৈতিক বেশী লাভজনক ব্যবসার জন্য প্ররোচনা দেয়। এভাবে আওয়ামী লীগারদের ব্যবসার দেখ-ভালের দয়িত্বপ্রাপ্ত জামায়তিরা আবার আওয়ামী লীগারদের সব ঘটনা তাদের গোপন চ্যানেলে ফাঁস করে দেয়। বর্তমানের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগার গণ এসির মধ্যে ৪ চাকার গাড়িতে বসে সঙ্গীদের সাথে এবং মোবাইলে কত জায়গায় কত কথা বলেন কিন্তু তার ড্রাইভারটি ছদ্মবেশী জামায়তি কি-না তা অজানা থেকে যায়। এভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগারদের চারিপাশে জামায়তি টাকার বলয় যুক্ত আচ্ছাদন সৃষ্টি হয় এবং এই আচ্ছাদন ভেদ করে প্রকৃত আওয়ামী লীগার গণ নেতাদের নিকট ভিড়তে পারেন না। ঘুষের বর্তমান বাজার দর বাড়িয়ে জামায়তিরা সব সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে এবং চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া অন্যরা কিছু করতে পারছে না। ঘুষ যত টাকাই লাগুক, জামায়তিদের নিকট তা কোন ব্যাপারই না। কারণ জামায়তিরা তাদের দলীয় ফান্ড থেকে ঋণ হিসেবে ঘুষের টাকা উত্তোলন করে এবং চাকরী বা কাজ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধ করে। আবার একটা কথা প্রচলিত যে আওয়ামী লীগারদেরর নিকট থেকে ঘুষের টাকা নেয়া শরমের ব্যাপার কিন্তু জামায়তিদের নিকট থেকে ঘুষের টাকা নেয়া আনন্দের ব্যাপার। এভাবে পিছন থেকে টাকা খাটিয়ে ছদ্মবেশী জামায়তিরা চাকরী, ঠিকাদারী কাজ, আওয়ামী লীগের পদ, চেয়ারম্যান বা মেয়র পদও বাগিয়ে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক বাংলাদেশস্থ হিন্দু সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার জন্য জামায়তিরা বিভিন্ন অপকৌশলের মাধ্যমে পিছন থেকে ইন্ধন দিচ্ছে। হিন্দুদের জমি দখলে কতিপয় লোভী আওয়ামী লীগারকে জামায়তিরা আত্মীয়তার সূত্রে পিছন থেকে উষ্কানি দেয়। আবার জামায়তিদের অন্য পক্ষ এই ঘটনাকে পূজিঁ করে আওয়ামী লীগ বিরোধি প্রচার‍ণা চালায় এবং নিজস্ব টাকা বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু লোকের পক্ষে একটা সামাজিক গ্রুপ সহ মিডিয়ার একটা অংশকে দাড় করিয়ে দেয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের মন ভাঙ্গতে “দেশে থাকলে ভোট পাবো, ভারত গেলে জমি পাবো” – ছন্দে ছন্দে এর চেয়ে ভয়ংকর জামায়তি প্রচারণার অপকৌশল আর কিছু হতে পারে না; যা বর্তমানে চলমান। “চোর ঢুকেছে মেয়ের ঘরেতে” গানের ন্যায় ‘জামায়ত ঢুকেছে আওয়ামী লীগের ঘরেতে’! এভাবে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগে জামায়তি অনুপ্রবেশ দ্বারা জামায়ত নিজেরা শক্তিশালী হওয়ার বিপরীতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দূর্বল হচ্ছে। না জানি আওয়ামী লীগের জন্য এর ভবিষ্যতে পরিনাম কি হবে!
অনৈতিক অপকৌশল প্রয়োগ করে চাকরিতে জামায়তিরা বেশী পদ বাগিয়ে নেয়ার বিপরীতে গণ প্রচার চালায় - মেধার জগত ওরা একাই সামাল দেয় তথা ওরাই শুধু মেধাবী; অন্যরা কিছুই না। অথচ চাকরি বাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে ওরা শয়তানের মেধা প্রয়োগ করে!! সরকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থার জামায়তি লিংক ব্যবহার করে প্রথমে ওরা 'প্রশ্ন আউট' করবে, অথবা উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী কেউ জামায়তি হলে তার মাধ্যমে জামায়তিদের খাতায় বেশী নম্বর দেয়া হবে। প্রশ্ন প্রণয়ন বা খাতা দেখায় কোন ভূমিকা না রাখতে পারলে তখন ওরা দলীয় ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে রাজনৈতিক লিংকে যোগাযোগ করে চাকরির জন্য বেশী পরিমানে টাকা ঘুষ দিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করবে।



সংক্ষেপে জামায়তি অপকৌশলের ধরণ:
অনলাইন ও অফলাইনে সমন্বিত দৃশ্যমান –
ক) পরিকল্পিত মিথ্যাচার,
খ) নিজস্ব হীণ স্বার্থে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে ধর্মীয় ভন্ডামি,
গ) গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো,
ঘ) কুৎসা প্রচার,
ঙ) গীবত গাওয়া,
চ) আতংক ছড়ানো,
ছ) খারাপ কাজে ইন্ধনদাতা,
জ) কূ-পরামর্শদাতা,
ঝ) ভাল কিছুতে গো-চূণা মাখানো, ইত্যাদি।

সংক্ষেপে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জামায়তিদের নেতীবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ:
ক) ষড়যন্ত্রকারী
খ) হিংসুক,
গ) নিন্দুক,
ঘ) মিথ্যুক,
ঙ) হিংস্র-বর্বর,
চ) পরশ্রীকাতর,
ছ) গোয়াঁড়,
জ) অনলাইনে গালাগালি বিশারদ কিন্তু অফলাইনে সাজা ভদ্র,
ঝ) মুনাফেক ইত্যাদি।

জামায়তিদের আগত অপকৌশল:
ভারতের উলফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিকট বিএনপি’র পৃষ্ঠপোষকতায় ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান করতে যেয়ে সারা জীবনের জন্য ভারতের নিকট বিএনপি আস্থা হারিয়েছে। আওয়ামী লীগকেও বিএনপি’র ন্যায় ভারতেরর নিকট আস্থাহীন করার জন্য প্রয়োজনে পিছন থেকে নিজস্ব টাকা বিনিয়োগ করে এবং সামনে আওয়ামী লীগের কাউকে সংযুক্ত রেখে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ওই সব রাজ্যে অস্ত্র চোরাচাালান ঘটতে পারে। এরপর জামায়তি অপকৌশলেই ভারতে অস্ত্র চোরাচালানের জন্য সংশ্লিষ্ঠ ওই আওয়ামী লীগারকে ধরিয়ে দিয়ে ভারতীয় মহলে এই খবর সরবরাহ করা হবে।

জামায়তি কূ-পরামর্শের একটা উদাহরণ:
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিন পর নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গোপন রেখে জামায়তি এক ব্যাক্তির সঙ্গে খোশগল্প করছিলাম। কথাচ্ছলে তিনি বলছেন, তার এলাকার আওয়ামী লীগ পন্থী এক উঠতি যুবনেতাকে উপদেশ দিয়েছেন, ”আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তাই এবার নিজের জন্য কিছু করো ভাতিজা”। ওই লোককে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি কি ভালমনে তাকে এই উপদেশ দিয়েছেন?” ওই লোক হেসে দিয়ে বললেন, “আপনি তো দারুন একটা পয়েন্ট ধরেছেন। সত্যিই, আমি তাকে ভালমনে এই উপদেশ দেই নাই”।

জামায়ত-আওয়ামী লীগ পার্টনারশীপ ব্যবসার একটা উদাহরণ:
সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনেক বড় পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি বাংলাদেশের বড় কোন এক জেলা শহরে বেদখল হওয়া দূর্বল মালিক গ্রুপের নিকট থেকে অনেক বড় মাপের জায়গা কিনে সেই জায়গার ওপর রিয়েল এষ্টেট ব্যবসা করাচ্ছেন। প্রতিটা প্লটের মূল্য পরিশোধের পর দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার দিন ওই ব্যাক্তির শ্যালক রেজিস্ট্রি অফিসে এসে দাতা হিসেবে দলিলে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু প্লট বিক্রয়ের সমুদয় টাকা নিজ হাতে পাওয়া তো দূরের কথা; ওই ব্যাক্তিকে এক কাপ ‘চা’ও খাওয়ানো হয় না। প্লটের ক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি, বায়নাপত্র সম্পাদন এবং প্লটের মূল্য বাবদ ক্রেতাদের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করেন ‘তৃতীয়’ একটা পক্ষ। ওই তৃতীয় পক্ষ নিজেদেরকে সামান্য ”আমমোক্তার নামা” বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, “সব কিছুর জন্য ওই উপরি বস;” যিনি বর্নিত শ্যালক সাহেবের দূলাভাই। তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে দু’এক দিনের আলাপেই বুঝতে পারলাম যে তারা জামায়তি। কঠিন আওয়ামী লীগার ওই শ্যালক সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনি জানেন না যে ওরা জামায়তি?” তিনি অবাক হয়ে বললেন, “তাই না-কি! আমি তো জানি না”। অধিক মুনাফার বিপরীতে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য হয়তোবা জামায়তি ব্যবসায়ী চক্র প্ররোচনা দিয়ে ওই ’দূলাভাই’কে এই ব্যবসার পথে নামিয়েছেন। বিক্রয়ের বিপরীতে প্লট প্রতি ধার্যকৃত টাকা মূল মালিককে দেয়া হলেও দর কষাকষির বেশী টাকা জামায়তিরা পকেটস্থ করা সহ তাদের লভ্যংশ নিজস্ব মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে জমা করে সেখানে আর এক ব্যবসা খুলে নিয়েছে। পরে জানতে পালরাম, দু’একটা প্লট বিক্রয় বাদ থাকা অবস্থায় সেখান থেকে ওই জামায়তিদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আবার এমনও হতে পারে, যেহেতু প্লট বিক্রয় তথা ব্যবসা শেষের পথে, তাই জামায়তিরাই ইচ্ছা করে মালিকের সঙ্গে কিছু একটা ঝামেলা পাকিয়ে নিজেরাই ভেগেছে।

জামায়তি বিভিন্ন অপকৌশলের উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে বিএনপি’র চেয়ে বেশী মাত্রায় হেয় করা অথবা তা না পারলেও অন্তত বিএনপি’র সমান হেয় করা। অনেক সময় জামায়তিদের ইনডোর এবং আউটডোর অপকৌশল আওয়ামী লীগের নিকট আইডেন্টিফাইড হয়ে প্রশমিত করা হলেও ব্যাকডোর অপকৌশল প্রয়োগে জামায়তিরা সব সময় আওয়ামী লীগের ধরা-ছোয়ার বাইরে থাকে। আবারও বলি, না জানি ব্যাকডোর অপকৌশল দ্বারা জামায়তিরা আওয়ামী লীগের কি মাত্রায় ক্ষতি করবে!!!
মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, ”হে আল্লাহ, শয়তান সমতূল ধোঁকাবাজ ভন্ড জামায়তিদের ধোঁকা থেকে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগারদের রক্ষা করুন। আমীন”

glqxz9283 sfy39587p07