বিশ্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয় : বাংলাদেশ যা করতে পারে
লিখেছেন: তানহা নুন্না
বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, যে এর প্রভাব আবশ্যই বংলাদেশের উপরও পড়বে। তবে সুখের বিষয় হল এই যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক বিপর্যয় বাংলাদেশের জন্য শাপে বর হতে পারে! বর্তমান পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে আমরা সত্যটাকে উপলব্ধি করতে পারি, অথবা চোখ-কান বন্ধ করে অন্ধের মত দৈনন্দিন জীবনটাকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারি সমূহ সুযোগ উপেক্ষা করে। কিন্তু আমি মনে করি আমাদের দেশের সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়াবার।
এটা সবারই জানা যে, বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় বিশ্বের হতদরিদ্র দেশসমূহের মাঝেও বেশ নিচের দিকে- যদিও আমাদের লোকবল আছে, এবং আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এটা সাধারণ ভাবেই বলা যায় যে, বর্তমান বিশ্বের এই অর্থনৈতিক সঙ্কট প্রাথমিক ভাবে উন্নত বিশ্বের গায়েই লাগবে এবং এর প্রভাব আমদের উপর আসার আগেই আমাদের ঘর গোছানোর কাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের সংকট মোকাবেলার প্রস্ততি গ্রহন করতে হবে- এবং তা এখনই।
শিল্পোন্নত বিশ্বে শিল্পের কাঁচামাল যোগান দাতা তৃতীয় বিশ্বের দেশসমুহ , বর্তমান বিশ্বের অর্থনেতিক মন্দার কারণে উন্নত বিশ্বে কাঁচামালের চাহিদা দিন দিন কমে আসবে। ফলশ্রুতিতে আমাদের মত কৃষি নির্ভর দেশ থেকে কাঁচামাল রপ্তানী কমে যাবে এবং এতে করে মারাত্বক বেকারত্ব সৃষ্টি হবে। কিন্তু হতাশ না হয়ে যদি উৎপাদিত কাঁচামাল নিজ দেশে ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সচেতন ভাবে পরিকল্পনা করা হয় তাহলে বাংলাদেশ এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং তা দেশের জন্য সুদুর প্রসারী ফল বয়ে আনবে। যদি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারীরা এবং ব্যবসায়ীমহল একজোট হয়ে আমাদের দেশের শিল্প খাতকে উৎপাদিত কাচামালের উৎপাদনেরকারী খাত (যেগুলো এখন রপ্তানী হয়) এর সাথে সমন্নয় ঘটিয়ে উৎপাদনের সিষ্টেম এবং ইউনিট তৈরীতে মনযোগী হন, তবে যতদিনে এই অর্থনৈতিক মন্দা পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি কে গ্রাস করবে, তত দিনে আমাদের তা মোকাবেলা করার প্লাটফর্ম তৈরী হয়ে থাকবে। এমন বিশ্ব পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশে তেমন প্রভাব পড়বে না।
তবে বিবেচ্য বিষয় হল এই যে, আমাদের পদক্ষেপ নিতে দেরী হলে এই বিশাল মন্দা যখন আঘাত করবে, বাংলাদেশে প্রচুর বেকারত্বের সৃষ্টি হবে যা সামাল দেয়া বাংলাদেশের পক্ষে তখন কঠিন হবে কারণ আমাদের কাঁচামাল উৎপাদন সামর্থ্য এবং এ খাতে নিয়জিত কর্মী সংখ্যা প্রচুর। যদি আমরা এখন থেকেই কাজ শুরু না করি, তবে অচিরেই দেশের খেটে খাওয়া এবং মধ্যবিত্ত শ্রেনীর হাতে আর কোন কাজ থাকবে না এবং দেশে চরম খাদ্যাভাব থেকে শুরু করে সমগ্র অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো বেসামাল হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় আই এম এফ, এডিবি, অথবা প্রথম বিশ্ব-চালিত কোন অর্থ সংস্থাই আর আমাদের উত্তরনের জন্য সাহায্য করতে পারবে না।
তাই আসন্ন বিশ্ব পরিস্থিতিকে সামনে রেখে আমাদের উচিত এমন পরিকল্পনা করা, যেন বাংলাদেশে নতুন করে আর বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়। এখন থেকে যদি আমরা পদক্ষেপ নেই, তবে আগামী ৯-১২ বছরের মাঝে (এই মন্দার প্রভাব যত দিনে মুছে যাবে) প্রথম বিশ্বের সাথে আমরাও শিল্পে অগ্রসর হব এবং সময় মত সিদ্ধান্ত নেবার কারণে বাংলাদেশে তুলনামুলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান পিছন থেকে সামনের সারিতে চলে আসবে।
এখনই সময় কৌশলগত পরিকল্পনা ঠিক করার, শুরু করার, এবং বাংলাদেশকে দারিদ্রের কালো হাত থেকে মুক্ত করার।






খাদ্যে আমাদের দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে আমি মনে করি না। আর খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য তার অন্যতম প্রমান।
তানহা নুন্না ১৩/১০/০৮ ৮:২৪ পুর্বাহ্ন
ধন্যবাদ আপনার মতের জন্য। আসলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং এখনকার বাংলাদেশের খাদ্য সমস্যার মাঝে অসামঞ্জস্যের প্রধান কারণ মজুতদারী। অধিক লাভের আশায় মজুতদারেরা শস্য কিনে মজুত করে রাখছে এবং স্থানীয়ভাবে অধিক দামে বিক্রি করছে। কিন্তু তাতে করে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া শ্রেনীর কোন লাভ হচ্ছেনা। উচ্চ-মধ্যবিত্ত এবং ধনী শ্রেনীভুক্ত ক্রেতা ছাড়া অন্য সবার কাছে এই চালের মূল্য অত্যন্ত বেশী, এবং তাই তারা খাদ্যাভাবে ভুগছে। এখানে সমস্যা পলিসি ক্রিয়েশন এবং ইম্পলিমেন্টেশনে, উৎপাদন নয়।
সৌরভ ১৩/১০/০৮ ৮:৪৯ অপরাহ্ন
@তানহা নুন্না, আমার কাছে মনে হয় জাতী হিসেবে আমাদের অনেক অভিনব কিছু করার ক্ষমতা আছে কিন্তু ইম্পলিমেন্টেশন এবং মনিটরিং এই দু’জায়গায় প্রচন্ড রকম ঘাটতি……এই ঘটতি পূরন করা অতীব জরুরী এবং কঠিনও বটে……
যদিও বিশ্ব বানিজ্যে কাঁচামালের যোগানদার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নীচে, তবু বিশ্বের বর্তমান বিপর্যয় থেকে সতর্কবানী নেয়া উচিত আমাদের। বিশেষতঃ বানিজ্যিক মেরুকরনের ব্যাপারে। বর্তমানে আমাদের রপ্তানীর প্রধান শেয়ারহোল্ডার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসি, আমদানীর প্রধান শেয়ারহোল্ডার ভারত ও চীন। এটাকে আরো সম্প্রসারিত করতে হবে নির্ভরশীলতার বিপদসমূহ এড়ানোর জন্য।
সুন্দর প্রয়োজনীয় একটা পোষ্ট দিয়েছেন।
তানহা নুন্না ১৩/১০/০৮ ৭:২৬ পুর্বাহ্ন
থ্যাঙ্কস V, পছন্দ করার জন্য!
তানহা নুন্না ১৩/১০/০৮ ৭:৪৬ পুর্বাহ্ন
আপনার প্রস্তাব পড়ে খুবই ভাল লাগলো কিন্ত আমাদের নীতি নির্ধারক মহল কি এবিষয়ে কি করছে আল্লাহ মালুম । আর রাজনৈতিক দলগুলো তো ব্যস্ত নির্বাচন বানিজ্য নিয়ে এসব ভাববার সময় কি তাদের আছে।
তানহা নুন্না ১৩/১০/০৮ ৬:৩৬ পুর্বাহ্ন
ধন্যবাদ আপনাকে। তবুও লিখলাম যদি কোন ভাবে আপনাদের মাধ্যমে কেন নীতিনির্ধারকরা আমার এ কথা গুলো জানেন এই আশায়।
গঠনমুলক আলোচনা হোক আরো।
ভালো পোষ্ট।
লেখার জন্য…….
ট্র্যাকব্যাকঃ
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!
আমার মেনু
তানহা নুন্না
এই পর্যন্ত 5 টি ব্লগ লিখেছেন
প্রিয় পোস্ট
কোন পোস্ট প্রিয় তালিকায় যোগ করা হয়নি।
1 জন ব্যবহারকারি এই পেইজটি পড়ছেন!
1 জন অতিথি
সদস্যরা হলেনঃ