বাংলায় নাম
শর্মা-ই-আযম
পরিচিতি
সদর দরজা
সবই তো তোমার ছিল
একদিন সবই তো তোমার ছিল। এই পৃথিবী, মাথার উপরে আকাশের বিশাল চাঁদোয়া, ক্ষয়িষ্ণু-বর্ধিষ্ণু অথবা ষোলকলা পূর্ণিমার চাঁদ- সবই তো তোমার নামেই লেখা ছিল। তুমি যদি একবার বলতে, ঐ চাঁদ আমার; তাহলে কবির কালির দোয়াত শেষ হয়ে যেত তোমাকে ঐ চাঁদ দলিল করে লেখে দিতে গিয়ে। আমি জানি, সেদিনগুলি এমনই ছিল! তুমি যদি বলতে, এই সমগ্র জাহানের মালিকা আমি; তাহলে কত রাজাধিরাজ তোমাকেই নূরজাহান করে তরবারির বুক রক্তে শিঞ্জিত করত। সাহারার মত কত মরু পিপাসা মেটাত রক্ত-বারি শুষে।
আমি দেখেছি, পানশালার সকল পেয়ালার জলে তোমার ছবি ছিল। রাতের প্রহরে রাতেরই বুকে দুঃখ ভুলে অজানা সুখে মরতে আসা সকল প্রেমিকের বুকে তুমি ছিলে। আর তোমার চোখে! তোমার চোখে ছিল তাদের রজনী-মৃত্যুর শ্লেষ ভরা মাতম। তোমার ঠোঁটের কোণের সে হাসি! মৃত্যুতেও ভুলার নয়। দোয়াতের কালি শেষ হলে কবির ক্ষণিক মৃত্যুতেও ভুলা যায়নি। ভুলা যায়নি- মদিরায় রাত্রির আত্মভোলা মৃত্যুতে।
তোমার তনুর হেলানিতে পৃথিবী হেলে পড়ত। ঐ সকল কমবখত আশিকের দল! ওদের হাতের জল ছলকে উঠত। হাসনাহেনার সুবাস নিয়ে আসা হাওয়া মাতাল হয়ে উঠত। তারই ছলনায় আগরের বুক, বড় বেশি করে পুড়ত; আসর শেষের আগে- সে পুড়ে ছাই হত।
বড় নির্দয় সময়! কি থেকে কি হয়ে গেল! তুমি পৃথিবী ভুলে, চাঁদকে ভুলে, সকল তারার আসর ভুলে- আমাকেই ভালবাসলে। তুমি সব হারালে। তুমি চাঁদকে ভুললে, বললে- আমার কিছু নেই, শুধু তুমি আছ। তুমি পৃথিবী ভুললে, বললে- তোমার জন্য এই পৃথিবীও তুচ্ছ আমার কাছে। তুমি আসর ভুললে, বললে- আমার তনু-মন তোমার পায়েই অর্পণ করি প্রাণনাথ! তুমি বলেই গেলে; একটি কথা, হ্যাঁ- একটি কথা, তুমি জানলে না। তুমি থেমে গেলে, যদিও পদ্মার ঢেউ থামল না।
সেদিন এক কবিরও মৃত্যু ঘটেছিল! তোমারই বাহু-নিগড় শয্যায়।
----------------------------------
উৎসর্গ: ব্লগার প্রতীপ
তাঁর একটি মন্তব্যই এই গদ্য-কাব্যের জনক-জননী।
"মন্দাকিনীদের প্রেম মনে হয় শিল্পী নয় শিল্পের সাথেই থাকে।"
সরল ভাবার্থ:
চাঁদ আকাশে থাকে বলেই চাঁদের প্রতি এত আকর্ষণ। চাঁদ কাছে হলে চাঁদকে নিয়ে এত স্বপ্ন-কল্পনাও অকল্পনীয় হত। সকালে ফোটা সূর্যমুখীর ফুল সূর্যের পানে চেয়ে থাকে, সূর্য সরে- ফুলের বৃন্তও সেদিকে ঘুরে। এ যদি প্রেম হয়- তাহলে বলা যায়, মহান প্রেম। অথচ সকলেই জানি, সূর্য কাছে আসার বহু আগেই ছাই হয়ে যাবে ফুল। আটপৌরে প্রেম- কাছে আসার মাঝেই তার সার্থকতা। দূরে গেলে, চোখের আড়াল হয়ে মনের আড়াল হয়ে যায়। এ হল- গার্হস্থ্য প্রেম। আর কিছু প্রেম- দূরে দূরে থেকেই পূর্ণ থাকে, কাছে এলেই তার সৌরভ থাকে, কোন শ্রী থাকে না।সে হল প্রেম-বৈরাগ্য। তেমনই শিল্প ও শিল্পী; শিল্পকে ভালবেসে কেউ কেউ নিজেকে ভুল পাঠ করে শিল্পীকেই ভালবেসে ফেলে। তখন, শিল্প-শিল্পী আর প্রেমের, করুণ মৃত্যু ঘটে। তাই, প্রকৃতিতেই- সূর্যমুখী সূর্যকে পায় না, চকোর চাঁদকে পায় না।
- ক্যাটেগরি:
- শর্মা-ই-আযম-এর ব্লগ
- মন্তব্য প্রদানের জন্য লগইন অথবা রেজিস্টার করুন
- ৯৮ বার পঠিত
Twitter-এ প্রকাশ করুন


মন্তব্য
শুধু তারাইয়া গেলাম
----------------------------------------------------------
ছাগু আর ছাগু নাই। বিবর্তনের ধারায় এরা শুয়োর হয়ে গেছে
_____________________
ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।
অল্প কথায় বাস্তবতা প্রকাশ। তারার মেলা।
""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
সংসারে সাধু-অসাধুর মধ্যে প্রভেদ এই যে, সাধুরা কপট আর অসাধুরা অকপট। -রবীন্দ্রনাথ
*********************************
আমি তাদের দলে যারা নিকৃষ্টকে ভালবাসে
নিকৃষ্ট থেকেই উৎকৃষ্টের সৃষ্টি....
তাই চেয়ে থাকে অবিরত অপলক দৃষ্টি......।।
কি বুঝাইতেছেন?
-----
বয়সটা বেড়ে গেছে! চাঁদকে দেখে নির্জীব পাথরই মনে হয়। ফুলকে দেখে মনে হয় মৃত কাগুজে শরীরে লেখা শেষ কিছু কথা। কারও কোমল হাত, কারও অধর, এগিয়ে এলে মনে হয় কোষ বিভাজনের কথা। অথচ কতবার ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে আমার ধূপ হয়ে জ্বলার গল্প। ...
-----
ভীষণ ভাল লাগল।
**********
স্বপ্নের কারিগর