বাংলায় নাম
শামীম আহমেদ লস্কর
পরিচিতি
সদর দরজা
গোলমেলে গপ্পো

অধ্যাপক সাগরময় সেন আজকের মতো গজগজ করতে করতে অফিসে বসেছেন। অটোরিক্শাওলা আজকে আবার পেট ব্যথার নাম করে ছুটি চেয়ে বসায় ছোটমেয়ে তোতাকে নিজেই ড্রাইভ করে স্কুলে পাঠিয়েছেন। সমস্যা এখানেই শেষ নয়। সঙ্গে নিতে হয়েছে পাড়ার আরও চারটে বাচ্চাকে। নিজের বাচ্চাকে ধমক-ধামক দিয়ে চুপচাপ রাখার পদ্ধতি কার্য্যকর, অন্যের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তা খাটে না। পাড়ায় বদনাম রটে। কী ঝামেলা রে বাবা! তিন্নি বমি করে ভাসালো তো পাপান রিমোট টিপে এসিটা দিলো ম্যাক্সিমাম কুলে। নাড়ি-ভুড়ি অবধি বরফ জমা বাকি ছিল। একঘন্টার যাত্রায় (ট্রাফিক জ্যাম+পিৎজা হাটের টিফিন কেনায়) মগজ ঝালাপালা। তার ওপর গোটা রাস্তায় শুনতে হয়েছে ‘ ইউ আর মাই ছম্মকছল্লো ও ও ও...‘
অফিসটা দেখেই গা গুলোচ্ছে তার। সাগরময়ের বাল্যবন্ধু মাসুদ শিলংয়ের কলেজে পড়ায়। সাহেবি চাল-চলন। ফেস্বুকে আপলোড করেছে দেদার ফোটো। দেখেই সেদিন ঈর্ষায় বুকে জল এসেছিল। বলা ভালো ওই জল দিয়েই ঈর্ষার আগুন সামাল দিয়েছেন। আজ নিজের অফিস দেখে মনে মনে গালি দিলেন, শালা!..... এর চাকরি (শূন্যস্থানে দু’অক্ষরের ছাপার অযোগ্য খিস্তি)।
যথারীতি রেজিস্টারে সই করলেন গালি দেওয়ার আনন্দে। সরকারি কলেজ বলে এসি-টেসি নেই। গত পাঁচ বছরে ক্যাপাসিটর না পালটানো ফ্যান ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে ঘোরে। গুমোট গরমে ঢকঢক করে খানিকটা জল খেলেন। জলটা বাড়ি থেকে আনা, পিউরিফায়ারে ট্রিপ্ল ফিল্টার্ড। বাইরের জল খেলেই সমস্যা। পেটরোগা পাব্লিক। রসায়ন শাস্ত্র পড়াতে পড়াতে পেটের কলকব্জা দিয়ে রসায়নের ‘ফ্লো’ টা-ই ঠিকঠাক নেই, রেগুলার মিউকোসাইটিসে ভুগতে হচ্ছে। অপরিশোধিত জল বিষতুল্য।
হঠাৎ করে খৈনি ঢলতে ঢলতে পিওন সৈফুদ্দিন চলে এল। লোকটা খৈনি চুষা ছাড়া সারাদিন করেটা কী? এদের ঘাঁটালে খবর আছে। কলেজ ইউনিয়নের এরাই খোদা-ই-খিদ্মত্গার। ছাত্রদের চর-চামচা।
কী চাই সৈফু? (অফিস আওয়ার্সের প্রথম পর্ব--যথারীতি সুর নরম রাখা চাই।)
একটা লোক স্যার, বাইরে। আফনার দেখা পাইতে চায়।
কী আশ্চর্য্য, আমি তো গার্জেনদের সঙ্গে সেকেন্ড হাফ ছাড়া দেখা করি না! নোটিশ বোর্ডেও তাই লেখা আছে। ওটা দেখে নিতে বলো।
ইয়েস্ স্যার। কিন্তু তাইন তো ঠিক গার্জিয়ান নায় স্যার।
তাহলে কী স্টুডেন্ট?
মনে অয় না স্যার। দাঁড়ি আছে।
তাজ্জুব কান্ড। গার্জেনও নয় স্টুডেন্টও নয়, তাহলে লোকটা কে?
তাইন কইছইন পিকলু কইতাম।
লোকটা দেখতে কী রকম? গাধা টাইপ? বুদ্ধিমান?
আমার আক্কেলমতে..., চালাক স্যার।
গ্রেট! তাহলে লোকটা টিভি চ্যানেলের লোক নয়। খুঁচিয়ে খবর বের করার ধান্ধায় থাকবে না। ওকে আসতে বলো।
সাংবাদিকগুলো বদের হাঁড়ি। তিলকে তাল বানিয়ে তাই বেচে খায়। বলবেন এক কথা আর তারা কেটেকুটে সাজিয়ে এমনভাবে পরিবেশন করবে যে চারদিকে
যিনি ঢুকলেন তাঁর একগাল বাবা রামদেব ধাঁচের দাঁড়ি। পরনে সাধারণ কুর্তা-পাজামা। বছর তিরিশের জোয়ান লোক। সাজগোজের বালাই নেই। তাও দেখাচ্ছে ফিলোজফারের মতো। প্রিন্সিপাল সাগরময় একরকম মজাই পেলেন লোকটাকে দেখে।
কেমন আছেন স্যার?
সাগরময়ের দেহের উর্ধাংশ রিভলভিং চেয়ারের নরম গদিতে প্রায় ডুবে গিয়েছিল, এবার ঘাড়-গর্দান সোজা করেন।
বলুন, কী ব্যাপার।
আমি পিকলু, আপনি আমায় চিনতে পারছেন না?
না।
খুব স্বাভাবিক, আমি পালটে গেছি। হোয়াট দ্য হেল...! আপনার ক্লাশ রেকর্ডস দেখিয়ে দেবে যে আমার এখানে আসার একটা অধিকার থেকেই যাচ্ছে।
ক্লাশ রেকর্ডস? বলুনতো কীভাবে?
প্রিন্সিপাল স্যার, ক্ষমা করবেন, আমি পিকলু।
নিঃসন্দেহে, নিঃসন্দেহে--তবে এর সঙ্গে ওটির যোগাযোগ কীসের?
প্রিন্সিপাল পাগলাটে লোকটির কথাবার্তায় ভড়কে গেছেন। তাঁর মনে পড়ল আজ তাড়াহুড়োয়
বাথরুমে যাওয়া হয়নি। প্রাতকৃত্য সেরেছেন কি সারেন নি, সন্দেহ আছে।
তার মানে আপনি বলতে চাইছেন আমাকে নামে-মানুষে চিনতে পারেননি। আমিও ধরে নিচ্ছি আপনি তা পারেননি। খুশিমনেই ভুলে যাবার কথা। ওয়েল, মিস্টার প্রিন্সিপাল, ছ’বছর আগে আমি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলাম।
ও, তাই নাকি? তো কী চান আপনি? সার্টিফিকেট?
সাগরময়ের প্রস্তাবে লোকটা গলা খাঁকরিয়ে ফের শুরু করে,
যেহেতু আমি আপনাদের দেওয়া ডিগ্রি সার্টিফিকেটটি ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছি, আরেকখানায় আমার কী হবে। না, আমি এজন্যে আসিনি।
তাহলে?
এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে চাইছি আমার ওই টিউশন ফি গুলো রিফান্ড করা হোক, যেগুলো শিক্ষার নামে ছ’বছর আগে দিয়েছিলাম।
কথাবার্তার এই পর্য্যায়ে প্রিন্সিপাল দারুণভাবে বিষম খেলেন। ড্রয়ারে একপাতা জিনটেক ট্যাবলেট রাখা থাকে, অম্বলের চোঁয়া ঢেঁকুর সামাল দিতে। নির্দ্বিধায় জলসহ গোটাদু’য়েক গিলে নিলেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আবার শুরু। এবার মেঘমন্দ্র সুরে তিনিই বলেন,
তুমি চাও আমরা টিউশন ফি গুলো ফিরিয়ে দিই?
ইগ্জ্যাক্টলি; টিউশন ফিজ্। আমি বড়লোক হলে আপনাদেরই বলতাম সেগুলো রেখে দিতে। দূর্ভাগ্যবশত আমি নেহাতই গরিব লোক। আমার টাকাগুলো চাই।
আমি ঠিক বুঝতে পারছি না...
কী বুঝতে পারছেন না, আমার টাকাটি ফেরত চাই! এ তো জলের মতো পরিষ্কার ব্যাপার।
কথার মাঝখানে পিকলু ধাম করে একটা ঘুসি বসিয়ে দিয়েছে টেবিলে। সাগরময়কে খানিকটা নরম হতে হয়। আজকাল কাউকে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করা উচিত নয়, সবারই পলিটিক্যাল কানেকশন থাকে। শেষে ছাত্রনেতারা ঘিরে ধরবে। দশদিকে জানাজানি হবে। কী দরকার বাবা ঝামেলার গু গায়ে লাগানোর। মিনিমিন করে প্রশ্ন করেন : আচ্ছা বাবা, ওগুলো কেন ফেরত চাইছ তা জানতে পারি কি?
কারণ ওই টাকা দিয়ে যা পাওয়ার কথা তা আমাকে দেওয়া হয়নি। এজন্যই ফেরত চাইছি।
(আগামীতে সমাপ্য)
ফাজিল কথাঃ আমার নিজেকে হ্যারি পটার মনে হয়, কারণ আমারও একজন সিরিয়াস ব্ল্যাক টাইপ গডফাদার আছেন আমারব্লগে। তাঁর কথামতো একটা ছোটগল্প দাঁড় করেয়েছি। মেটেরিয়্যাল অরিজিন্যাল নয়, হাঙ্গেরিয়ান নাট্যকার ফ্রিটজ কারিন্থি-র লেখা বহু পুরোনো নাটক "রিফান্ড" এর মূল গপ্পোটা বাংলায় আনতে চেয়েছি। বাকিটা, মানে সফলতা-বিফলতা কতটুকু তা ব্লগবন্ধুরা জানাবেন।
- শামীম আহমেদ লস্কর-এর ব্লগ
- মন্তব্য প্রদানের জন্য লগইন অথবা রেজিস্টার করুন
- ১০৭ বার পঠিত
Twitter-এ প্রকাশ করুন


মন্তব্য
চলুক
****************
????????????
--------------------
******************************************************************
লাল-দাড়ি , কলমা পড়া, সুন্নতের যাঁরা দেন দোহাই...সেইসব ছাগুদের সেলাম
( সাইদীর ওয়াজ বাজিয়ে বাজিয়ে কান খেয়েছে কাঠমোল্লা )
আর ভালো বাসা পেলাম কই । সব জায়গায় ভাড়া বাড়াইছে
****************
????????????
--------------------
শামীম ভাই সাথে আছি।
কেমন আছেন?
কম দেখি মনে হয়?
ভালো থাইক্কেন।।
_____________________
ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।
ব্লগে এইসব মাফিয়া-সিন্ডিকেটবাজী চলবে না;
সিন্ডিকেট মাফিয়াদের কালো কিবোর্ড- ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও
সিরিয়াস কথা- অসাধারণ হয়েছে, পরের পর্ব দ্রুত দিয়েন;
___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।
হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে।
******************************************************************
লাল-দাড়ি , কলমা পড়া, সুন্নতের যাঁরা দেন দোহাই...সেইসব ছাগুদের সেলাম
( সাইদীর ওয়াজ বাজিয়ে বাজিয়ে কান খেয়েছে কাঠমোল্লা )
দারুন গল্প, পরের পর্বের অপেক্ষায়
***********************************************************************
"এহনবি জিন্দা আছি, মৌতের হোগায় লাথথি দিয়া
মৌত তক সহি সালামত জিন্দা থাকবার চাই"
হ্যাপি ভি-ডে হাঁদা রাম দা। ভালোবাসা নিও
******************************************************************
লাল-দাড়ি , কলমা পড়া, সুন্নতের যাঁরা দেন দোহাই...সেইসব ছাগুদের সেলাম
( সাইদীর ওয়াজ বাজিয়ে বাজিয়ে কান খেয়েছে কাঠমোল্লা )
লস্কর সাহেব, দারুন হচ্ছে। চালিয়ে যান। অপেক্ষায় থাকলাম।
-----------------------
মনের শুদ্ধতাই পবিত্রতা
হ্যাপি ভি-ডে টোটনদা। আপনাকে ভালোবাসা জানাই।
******************************************************************
লাল-দাড়ি , কলমা পড়া, সুন্নতের যাঁরা দেন দোহাই...সেইসব ছাগুদের সেলাম
( সাইদীর ওয়াজ বাজিয়ে বাজিয়ে কান খেয়েছে কাঠমোল্লা )