সুন্দরবন ভ্রমন ১৯৯৬ – প্রস্তুতি পর্ব
লিখেছেন: সাঈদ
১৯৯৫ সালে, খুলনায় এক চাচা থাকেন, তিনি একদিন ফোন করে জানালেন , তারা জানুয়ারী মাসে সুন্দরবন যাবে। সব ব্যবস্থা তারা করবেন, খুলনা থেকে আরো কয়েকজন যাবে। আমরা যাবো নাকি, জানতে চাইলেন। আমি তো রাজী। আর কে কে যাবে ? আমাদের আড্ডার হেড কোয়ার্টার এ তুললাম প্রস্তাব । সবাই যাবে। আমি খুলনায় ফোন করে জানালাম, আমরা ১০ জন যাবো। চাচা প্রস্তুতি নিতে বললেন, সাথে কি কি নিতে হবে জানিয়ে দিলেন। আমরা শুরু করলাম প্রস্তুতি। সেই সাথে কল্পনা। কল্পনা এতদুর গেল যে, কেউ কেউ নাকি বাঘের সাথে ছবি তুলবে !!!!! আমাদের দোৈনিক আড্ডার প্রধান আলোচনা তখন সুন্দরবন।
১৯৯৬ সাল, জানুয়ারি মাস। বিএনপি সরকারের শেষ সময়। আওয়ামী লীগের আন্দোলন চলছে। ২ দিন পর পর হরতাল। সারাদেশে আর্মি নামানো হয়েছে, আমরা স্টেডিয়ামে আর বসে আড্ডা দিতে পারিনা, ঐ খানে করা হয়েছে সেনা ক্যাম্প। আমাদের সুন্দরবন ভ্রমন প্রস্তুতি ঠিক মতই চলছে। আমরা টিকেট কাটতে যাবো, রওনা দেবার ঠিক ২ দিন আগে , হঠাৎ খুলনা থেকে ফোন, সারাদেশে আর্মি নামানো হয়েছে, দেশের অবস্থা ভালো না, এই সময় যাওয়া ঠিক হবে না। যাওয়ার প্রোগ্রাম বাদ। শুনে তো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। কি বলে। আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ, এমনকি যাবার টাকাও তোলা হয়ে গেছে সবার কাছ থেকে, শুধু টিকেট কাটাই বাকী। কি হবে ? ভেঙ্গে পড়লাম আমি। ফোনটা সকাল বেলা এসেছিল। ফোন রেখেই বের হয়ে গেলাম সবাইরে এক জায়গায় জড়ো করতে, কি করা যায়। যার বাসায় ফোন আছে, তাদের বাসায় ফোন করলাম, আর বাকি সবার বাসায় গিয়ে গিয়ে সবাইরে নিয়ে জড়ো হলাম মিরপুর ১০ এ, একটা হোটেল এ। সবার জন্য সকালের নাস্তার অর্ডার দিয়ে বসলাম আলোচনায়। জীবনের খুব বড় ডিসিশন নিতে বসেছি আমরা কয়েকজন!!!! আমি তুললাম প্রসঙ্গ। চাচা কি বলেছে, জানালাম। সমস্যার কথা জানালাম। সাথে সাথে তুমুল হট্টগোল। ২ দলে ভাগ হয়ে গেল । এক দল বলে আমরা সুন্দরবন যাবই, আরেকদল বলে না, যাওয়া ঠিক হবেনা। তারচেয়ে ঐ টাকা দিয়ে অন্য কোথাও ঘুরতে যাই। শেষ পর্যন্ত আমাকে স্পিকার এর ভুমিকায় অবতীর্ন হতে হোল, ২ পক্ষের যুক্তি, পাল্টা যুক্তি সুন্দর ভাবে তুলে ধরার সুযোগ দেবার জন্য। পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হোল, বিশাল আলোচনা হল !!!! বেলা ৩ টার সময় সিদ্ধান্ত হল , যারা যেতে চায় তারা যাবে, যারা চায় না, তারা যাবে না। আমি ও যাবার দলেই ছিলাম। মোট ৭ জন হলাম যাবার দলে।
হোটেল থেকে বের হয়ে খুলনায় ফোন করব, কার্ড কিনলাম, তখন কার্ডফোন এর ব্যবস্থা ছিল। খুলনায় ফোন করি, কিনতু ফোন হয় কেউ ধরে না। আনেক ক্ষন চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আবার ফুটপাতে দাড়ায়ে আমরা ৭ জন আলোচনা করে সন্ধ্যায় বাসায় চলে আসি। পরে জানতে পেরেছিলাম, ফোন নাকি ডেড ছিল, তখন তো যখন তখন ফোন ডেড হওয়া একটা নিয়মিত ব্যপার ছিল। ঢাকার মুগদায় এক বাসায় ৪০ দিন ফোন ডেড ছিল , অনেক চেস্টা করেও ঠিক করতে না পেরে পরে ফোনের চল্লিশা করছিল। যাই হোক, পরদিন সকালে যাই টিকেট কাটতে। গাবতলী গেলাম,আমি আর নাহিদ। টিকেট কাটলাম পরদিন রাত দশটার বাসে। তারপরদিন আবার হরতাল ঘোষনা করেছে আওয়ামী লিগ কিন্তু আমরা যাবই যাবো। শুরু করলাম নতুন উদ্যমে যাবার প্রস্তুতি। ঠিক হল সবাই রাত ৮ টার মধ্যে আমার বাসায় চলে আসবে, সেখান থেকে একসাথে বের হব।
সবাই চলে এসেছে ঠিক মত, কিন্তু টিটুর দেখা নাই। কোন খবর নাই, ওর লাগেজ আমার বাসায়। কিন্তু ও গেল কোথায় ? অনেকক্ষন পরে ও এল। কি ব্যাপার ? ব্যাপার হোল – সুন্দরবন যাওয়া উপলক্ষে একটা বুট বানাতে দিয়েছিল (মিরপুরে অর্ডার দিলে জুতা তোৈরি করে দেয়), ঐটা ডেলিভারি দিতে দেরি হওয়াতে তার দেরি। তো বুট টা কেমন হল ? চেয়ে দেখি একটা চেইন বুট, বলিউড নায়ক মিঠুন ৮২-৮৩ সালের দিকে যেরকম বুট পড়তো, সেরকম একটা বুট, কিন্তু রং টা হলুদ। আলম তা দেখে বলে উঠলো, কিরে, এই গু রং এর বুট পইরা যাবি তুই ????????
(প্রস্তুতি পর্ব সমাপ্ত)






হাহাহা…..। মজা লাগছে। আপনি লেখেন ভালো…।
পরের পর্বের অপেক্ষায়…..
সাঈদ ১৮/১১/০৮ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
ধন্যবাদ দাদা।
আপনার পর্বগুলো প্রিয়তে রাখছি একসাথে পড়তে হবে। যাবার খুব ইচ্ছে অনেক দিনের। ভ্রমন কাহিনীর পাগল আমি।
ট্র্যাকব্যাকঃ
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!
আমার মেনু
সাঈদ
সুন্দরের হাতে বীণা , পায়ে পদ্মফুল দেখিনি, তাঁর চোখে চোখ ভরা জল ও দেখেছি।
এই পর্যন্ত 164 টি ব্লগ লিখেছেন
প্রিয় পোস্ট
1 জন ব্যবহারকারি এই পেইজটি পড়ছেন!
1 জন অতিথি
সদস্যরা হলেনঃ