হারিয়ে যাওয়া সেই সময়, সময়ের সন্ধানে – অবন্তী, নীলিমা আর অবন্তী’র বাবা
লিখেছেন: প্রচেত্য
এপ্রোন পড়া ডাক্তারটি অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হতেই “ ৩২২ নং পেশেন্টের রক্ত প্রয়োজন – জরুরী ! ও নেগেটিভ রক্ত” আৎকে উঠি, ঠিক নম্বরটি বুঝতে পারিনি-কত নম্বর। কনফার্ম করি, কিছুটা স্বস্তি পেলাম। বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি, এম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ সজোড়ে কানে আসছে। বোধ হয় কোন ইমার্জেন্সী পেসেন্ট এসেছে। তখনও অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাড়িয়ে। বিকেল প্রায় শেষের দিকে। আমি যখন এখানে এসেছি তখন দেখতে পারিনি ওকে, ততক্ষনে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওকে কখনো সেভাবে সতর্ক করাও হয়নি, ভূল, শেষ যেবার ………………………….
- বাবা, কি ভাবছ তুমি ?
কই কিছু না তো মা !
- নীলিমা আন্টি কি এখনও ওখানে ?
জ্বী মা, ডাক্তারদের রুমে আছে
- কি হয়েছে বাবা ? তুমি কিন্তু আমাকে বলনি এখনও !
কোথায় মা, কিছু হয়নি তো ! সব ঠিক হয়ে যাবে
- আচ্ছা ঠিক আছে ..
ওকে মিথ্যে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না, তবুও এতটুকুন মেয়ে রোড একসিডেন্ট কি তা সে বোঝে ..
অবন্তী, আমার মেয়ে, ছোট্ট একটা মেয়ে – ওকে নিয়েই আমার সংসার, আমরা দুজনেই এ সংসারের মানুষ, সুখ – দু:খ এ দুজনকেই ঘিরে, আর বাকী একজন ? ওর ‘মা’ ? বলছি …….
= আন্টি, আন্টি
- কেমন আছ মামুনি ….. কাদঁছ কেন ? আমি তো এখন সুস্থ ….. এই দেখ
= তুমি সুস্থ হলে হাসপাতালে কেন !
- এই ফুল কার ? আমার ! তোমার বাবা কোথায় ?
= বাহিরে আছে, আসতে বলব
- না! তুমি আমার কাছেই থাক
যা বলছিলাম, অবন্তীর মা, অবন্তীর যখন বছর ১, অতটুকুন বয়সে এ দুধের শিশুকে ফেলে ওর মা ছেড়ে গিয়েছিল, সে যেতে চেয়েছিল তাই আর বাধা দেইনি, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক একটা সমস্যায় ওদের পরিবার আমাদের এ সম্পর্কটাকে মেনে নিতে পারছিলনা, কিন্তু ততদিনে যে সময় গড়িয়েছে তখন অবন্তী পৃথিবীর আলো দেখার পথে। বেশ কয়েকবার আবোরশন করার চেষ্টাও করেছিল, অবশেষে, অনেক অনুনয়, বিনয় আর অনুরোধের পর ……. সে চলে গেলে এতটুকুন মেয়েকে কিভাবে, কোথায় … সে দুশ্চিন্তায় …. দিনের পর দিন ……..
- কি ব্যপার, আজ অবন্তীকে নিয়ে এলে না যে ?
বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি ছিল, ওর আবার ঠান্ডার দোষ আছে, একটুতেই ..
- তাই ? না কি …
না, তোমার কাছ থেকে কখনই ওকে আড়াল করিনি
- তাহলে মেয়েটাকে এভাবে কেন কষ্ট দিচ্ছ ?
হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিচ্ছ কবে ?
নীলিমা ? পেছনের কথার রেশ ধরেই বলি, যখন অবন্তীর মা চলে গেল, আমি প্রায় দিশেহারা এতটুকুন মেয়েকে নিয়ে ……, আমার বাবা-মা-ও তখন পুরোনো শহরে থাকেন, এ শহরে আমি প্রায় একা। অবন্তী’র যেবার অসুখ হল, সে হাসপতালেই নীলিমা’র সাথে পরিচয়।.সেখান থেকেই অবন্তী হয়ে উঠে নীলিমা’রই একজন । নীলিমা পেশায় একজন ডাক্তার।
- ডিসিশন-টা তহলে ফাইনাল, চলেই যাবে ?
কেন যেতে চাচ্ছি, একবারের জন্যেও কি বুঝতে পারনা ?
- তুমি চলে গেলে নীলিমা অনেক একা হয়ে যাবে, ওর মা চলে যাবার পর তো ….
নীলিমাকে কষ্ট তুমিই দিচ্ছ, নিজেকে যেভাবে দিয়েছ এতদিন
- আমি?
নীলিমা আন্টি, তুমি কি সত্যি চলে যাবে ? বাবা বলনা আন্টিকে আমাদের সাথে থেকে যেতে ..
নীলিমা তাকিয়ে থাকে, অবন্তী আর অবন্তী’র বাবার দিকে …….
নীলিমা’র একটা ফোন আসে, ও ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে
অবন্তী অপলক চেয়ে থাকে নীলিমা আর তার বাবার দিকে …….
অন্য যেখানে প্রকাশ পেল এ লেখাটি :






আপনিতো অনেক জায়গায় লিখেন! আমি শুধু সাম.ইনে আর আমারব্লগে লিখি।
প্রচেত্য ১৬/০৭/০৮ ৯:৫৪ পুর্বাহ্ন
জায়গা অনেক কিন্তু লেখা এক, স্বত্তাও এক
মুকুল ১৬/০৭/০৮ ১০:০০ পুর্বাহ্ন
একের অধিক সাইটে লিখলে সময় দেয়া আবার কঠিন হয়ে যায়। আমিতো দুইটাতে থাকতেই হিমশিম খাচ্ছি!
ট্র্যাকব্যাকঃ
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!