Skip to content

মেজর রাজা নাদের পারভেজ : বিশ্বাসঘাতক রাষ্ট্রের এক আদর্শ সেবক

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় সহযোগী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার উদ্যোগ গ্রহন করে।এজন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান চালিয়ে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যের বিরূদ্ধে যুদ্ধাপরাধ,গনহত্যা এবং মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমান সংগ্রহ করা হয়।এই ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ,পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন চলে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত।সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান,জাতিসংঘে সদস্য পদ প্রাপ্তির প্রশ্নে চীনের ভেটো দানের ক্ষমতা,এবং পাকিস্তানে বন্দী বাঙ্গালিদের মুক্তির ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সাথে দর কষাকষি চালিয়ে যায় পাকিস্তান।নানামুখী চাপ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ কিছুটা নমনীয় হতে বাধ্য হলেও এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের প্রশ্নে কখনোই দাবি থেকে সরে আসেনি।শেষ পর্যন্ত ১৯৭৪ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য সমাধানে পৌছায় দুই দেশ।পাকিস্তান সম্মত হয় এই ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে স্বউদ্যোগেই তাদের বিচার করতে।এই চুক্তির ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে

The question of 195 Pakistani prisoners of war was discussed by the three Ministers in the context of the earnest desire of the Governments for reconciliation, peace and friendship in the sub-continent. The Foreign Minister of Bangladesh stated that the excesses and manifold crimes committed by those prisoners of war constituted, according to the relevant provisions of the UN General Assembly resolutions and international law, war crimes, crimes against humanity and genocide, and that there was universal consensus that persons charged with such crimes as 195 Pakistani prisons of war should be held to account and subjected to the due process of law. The Minister of State for Defense and Foreign Affairs of the Government of Pakistan said that his Government condemned and deeply regretted any crimes that may have been committed.


বলা বাহুল্য,বিশ্বাসঘাতক রাষ্ট্র পাকিস্তান এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।এই বিচারের প্রশ্নে সেই থেকেই নিরব পাকিস্তান।এই ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিষ্টিত হয়েছে বিভিন্ন ভাবে,অনেকেই পাকিস্তানে রীতিমত সম্মানী ব্যক্তি।

বিচার না হওয়া এমন এক যুদ্ধাপরাধী মেজর রাজা নাদের পারভেজ ।দুইবার পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব সিতারা-ই-জুরাত প্রাপ্ত নাদের পারভেজের বিরূদ্ধে গনহত্যা,জাতিগত নিধন,ধর্ষণ,নির্যাতন,লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের সুস্পষ্ট প্রমান রয়েছে।টিক্কা খানের জবানীতে নাদের পারভেজের পরিচয় - brave and courageous soldier



২.

ডা. এম এ হাসানের পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন বইয়ে মেজর নাদের পারভেজ কর্তৃক নিজে অথবা তার নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের বিবরণ রয়েছে।

মেজর নাদের পারভেজসহ অন্যান্য পাকি আর্মি অফিসারের নেতৃত্বে পাকি আর্মি কুড়িয়ানা স্কুলে
ক্যাম্প স্থাপন করে।এই ক্যাম্পের স্থায়িত্ব ছিল এগারোই জুন থেকে বাইশে জুন পর্যন্ত। এই এগারো দিনে একশ’ পঞ্চাশ থেকে একশ’ সত্তরজন নিরীহ বাঙালিকে হানাদাররা হত্যা করে। পেয়ারা বাগানে তিনটা নালা ছিল। মাঝের নালাটিতে আমি একশ’ টিলাশ দেখেছি। স্কুলে ক্যাম্প থাকাকালীন আমি পার্শ্ববর্তী গ্রাম মাহমুদকাঠিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। বাইশ তারিখ ক্যাম্প উঠে যাওয়ার পরপরই দু’চার জন বন্ধুসহ গ্রামে ফিরে আসি। এ সময় আমি পেয়ারা বাগানের পার্শ্ববর্তী বধ্যভূমিটি দেখি।এখানকার লাশগুলোর কিছু কিছু ছিল পিঠমোড়া করে বাঁধা। কারও হাতপা বাঁধা, কারও বা কোমরে দড়ি বাঁধা। লাশ গুলো দেখে মনে হচ্ছিল, একই দড়িতে বেঁধে সবাইকে গুলি করা হয়েছে। লাশের ওপরে লাশ পড়ে ছিল। শিশুসহ বেশ কিছু লোক সে সময় বধ্যভূমিটি দেখার জন্য ভিড় জমায়। কমল নামের একটি শিশু এ দৃশ্য দেখে জ্ঞান হারায়। এখানে একই দড়িতে আনুমানিক পনেরো বিশ জন করে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়।

পেয়ারা বাগান থেকে স্থানীয়রা পালিয়ে যেতে পারলেও প্রায় দুই হাজারের মতো বহিরাগত মানুষ পালিয়ে যেতে পারেন নি। কঠুরাকাঠির অনড়বদাচরণ বিশ্বাস ও যজ্ঞেশ্বরসহ অসংখ্য লোককে এখানে হত্যা করা হয়। পরে জানা যায়, প্রায় তিন হাজারের মতো মানুষকে পেয়ারা বাগান এলাকায় হত্যা করা হয়েছিল।

( অধ্যাপক রমেন্দ্রনাথ সিকদার,পিরোজপুর )


সেদিন ছিল সরস্বতী পূজা। গ্রামে পূজা করানোর পুরোহিত না থাকায় আমি নিজেই পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করছিলাম। আমার বাড়ির দু’টি মন্দির পাকি হানাদাররা পুড়িয়ে দিয়েছিল। আমাকে তারা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি বেঁচে যাই। বেয়নেটের পাঁচ ছ’টি ক্ষতচিহ্ন নিয়ে আমি এখনও বেঁচে আছি। ওই এলাকায় যে সমস্ত পাকি বাহিনীর নেতৃত্বে নির্যাতন চালানো হয় তাদের তিনজনের নাম আমার মনে আছে। এরা হল পটুয়াখালীতে মেজর নাদির পারভেজ, ঝালকাঠিতে ক্যাপ্টেন আজমল ও লে. তারিক।

( অরুণবরণ চক্রবর্তী,পিরোজপুর )

রাজাকার মশুমিয়া ও মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য রাজাকার পাকি আর্মির বিকৃত লালসা চরিতার্থ করার জন্য বাঙালি মেয়েদেরকে ধরে আনত। নাদের পারভেজ এখানকার ট্রেজারি অফিসার মি. দত্তের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে জোরপূর্বক রক্ষিতা হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাম থেকে নাদের পারভেজের মনোরঞ্জনের জন্য মেয়েদের ধরে আনা হত।

( রবীন্দ্রনাথ হালদার,পটুয়াখালী )

প্রথমে আমাকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দু’ঘন্টা পর থানায় নিয়ে মুক্তি বাহিনীতে কবে যোগদান করেছি, রাজশাহীতে ট্রেনিং নিয়েছি কি না, মুক্তিযোদ্ধা কে কে আছে, এসব জিজ্ঞাসা করতে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ভয়ংকর নির্যাতন করতে থাকে। সেদিন আমার সাথে থানায় আরও চার জন ছিলেন। পরদিন সকালে আমাকে সার্কিট হাউজে নিয়ে আবারও অমানুষিক নির্যাতন করে। সেখানে চেয়ারে বসিয়ে সমস্ত শরীরে লাঠি দিয়ে পেটায়। রোলার দিয়ে হাঁটুতে, পায়ে, পিঠে, হাড়ে হাড়ে আঘাত করে, আঙুল মেঝের উপর রেখে রাইফেলের বাঁট দিয়ে থেঁতলে দেয়। নির্যাতনের ফলে অনেক বার আমি অজ্ঞান হয়েও পড়েছি। তিন দিন পর আমাকে মেজর নাদের পারভেজের কাছে নিয়ে গেলে, আমি মেজরকে বলি যে, আমি নির্দোষ, আমাকে ছেড়ে দিন। সেদিন নাদের পারভেজের সাথে পাকি বাহিনীর এদেশীয় দোসর মোতাহার, সলিমুল্লাহ, বিহারি খান, শামসু, তোফা মিয়া এদেরকে দেখতে পাই। নাদের পারভেজ আমাকে বলে ' তুম মুক্তিবাহিনী, তুম দেশ বাংলাকা মুক্তিসেনা- ইসকো জেলমে ভেজ দো, আচ্ছা করকে মালিশ দো '। এরপর আমাকে জেলের এক সেলে নিয়ে আটকে রাখে। দুই দিন ধরে রোলার, রাইফেলের বাঁট দিয়ে মেরে শরীরের বিভিনড়ব অংশ ফাটিয়ে দেয়। এতে আমার পিঠে বড় বড় দাগ হয়ে যায়।

... জেলখানার ভেতরে মেয়েদেরকে আলাদা অংশে রাখা হত। সরাসরি নারী নির্যাতন না দেখলেও সেখান থেকে বহু মহিলাকে কাপড় ঠিক করতে করতে বেরিয়ে আসতে দেখেছি। মহিলাদেরকে আর্মি টানতে টানতে ভেতরে নিয়ে যেত। আমি ঐসব মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনতে পেতাম। সেখানে বিশ জনের মত মহিলা বন্দী ছিলেন বলে মনে হয়। তবে কোন মহিলাকে আমি গুলি করে হত্যা করতে দেখিনি। পটুয়াখালী জেলখানায় তখন মেজর নাদের পারভেজ ও ক্যাপ্টেন মুনির হোসেন ছিল। শাহাদৎ হোসেন নামে একজন হাবিলদারও ছিল।

( দুলাল চন্দ্র সাহা,পটুয়াখালী )

এছাড়াও,পটুয়াখালী জেলখানার ভেতরেও গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়।এখানকার প্রতিটি গর্তে চার পাঁচ জন করে মানুষের লাশ পুঁতে রাখা হয়েছিল।জেলের ভেতরে প্রায় পাঁচ শ’ বন্দীকে গুলি করে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।জেলখানার প্রাচীরগুলোর গায়ে এখনও বুলেটের চিহ্ন বিদ্যমান। মেজর নাদের পারভেজের নির্দেশে একদিনে জেলের ভেতর ষাট সত্তর জনকে হত্যা করা হয়।

মেজর নাদের পারভেজের হুকুমে একজন পাকি সৈন্য মহিলা সেলের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। চার জন মহিলাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। সামাজিক হয়রানির কারণে এদের নাম বলতে চাই না। তবে, ওই চার জনের একজন ছিলেন পুতুল রানি রায়, যার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে জানা যায়। ওই হতভাগ্য মহিলাদেরকে পাকি বাহিনী সিএন্ডবি’র ডাকবাংলোয় নিয়ে ধর্ষণ করত এবং পরদিন ভোরে লাল কাপড় পরিয়ে জেলখানায় পাঠিয়ে দিত। ধর্ষণের ফলে মহিলাদের শরীর থেকে যে রক্ত ঝরত, তাতে জেলখানার রাস্তা— লাল হয়ে যেত। এভাবে পর পর চার দিন বর্বর পাকি হানাদাররা তাদের পছন্দ মতো মহিলাদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ করেছে।


... একদিন মেজর আসবে বলে পটুয়াখালী থেকে একটা মেসেজ এল। পরের দিন সকাল দশটা সাড়ে দশটার দিকে মেজর
নাদের পারভেজ জেলখানায় মাতাল অবস্থায় ঢুকল।সে তখন ঢলে ঢলে পড়ছিল।চারদিকে নিস্তব্ধতা, কোন সাড়াশব্দ
নেই।এর মধ্যেই হঠাৎ ছুটোছুটি ও বুটের শব্দ শুনতে পেলাম।আনুমানিক দেড় দুই শ’ পাকি আর্মি এসে জেলখানার ভেতরে পজিশন নিল। প্রথমে মহিলাদের ডেকে বলল,তোমরা বাঁচতে চাও না মরতে চাও?মহিলারা বলল, আমরা স্বামী ও ছেলেমেয়েসহ বাঁচতে চাই।তারপর মহিলাদের ছেড়ে দিয়ে বলা হল,তোমাদের স্বামীদেরকেও পরে ছেড়ে দেওয়া হবে।
এরপর মেজর এসে পুরুষদের গণপিটুনি দেওয়ার আদেশ দিল। আঠাশ তারিখে মেয়েদের ছেড়ে দেওয়ার একদিন পর অর্থাৎ
ঊনত্রিশ তারিখে জেলখানার অভ্যন্তরের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে মেজর গুলি করার নির্দেশ দিল। তারপর পুরুষদের লাইনে দাঁড়
করিয়ে গুলি করে হত্যা পর্ব শুরু হল। এভাবে আটত্রিশ জনকে আমি গুলি করে হত্যা করতে দেখেছি।


ওই আটত্রিশ জনকে হত্যা করার পর আমাদের তিন ভাইকে মেজর নাদের পারভেজের সামনে নিয়ে যাওয়া হল। আমার বড়
ভাই শানু উর্দুতে কথা বলতে পারতেন। মেজর কিছুক্ষণ কথা বলার পর তাঁর হাত ধরে অন্য একজনকে নির্দেশ দিয়ে বলল,
'একে রাখ; আর এই দুইজনকে গুলি কর।' তারপর আমাদের দুইজনকে নিয়ে প্রথমে আমার ভাই নাসিরকে গুলি করল। তার
বুকের ডান পাশে গুলি লাগলে নাড়িভূড়ি সব বের হয়ে গেল।

... আমি যে ছোট ঘরটায় ছিলাম,সেটার পূর্ব পাশের জানালা দিয়ে সবকিছু দেখতে পাচ্ছিলাম। প্রথমে জগদীশ নামে একটা ছেলেকে আনা হল। সে আমার ক্লাসমেট ছিল। জগদীশের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে জানানো হল যে, ওর বাবার নাম আনন্দ শীল। তার বাবা ও সে, দু’জনই নাপিত। জিজ্ঞাসাবাদের পর ক্যাপ্টেন তাকে একপাশে গিয়ে দাঁড়াতে বলল। তাকে গুলি করার উদ্দেশ্য ছিল না।কিন্তু জগদীশ ভয় পেয়ে বলতে লাগল, ‘স্যার, আমাকে গুলি করবেন না?’ একই কথা বারবার বলতে থাকলে ক্যাপ্টেন রেগে গিয়ে গুলি করার নির্দেশ দিলে তাকে গুলি করা হল। গুলি তার বুকে লাগল। গুলি লাগার পরও সে উঠে ক্যাপ্টেনের দিকে দৌড়ে গিয়ে বলল, স্যার আমি বাঁচব , আমাকে আর গুলি করবেন না। তখন সৈন্যরা টেলি গান দিয়ে বাড়ি মেরে ফেলে দিয়ে পুনরায় গুলি করল। আমি পূর্ব পাশের জানালা ছেড়ে উত্তর দিকের গেটের কাছে গিয়ে তাদের হত্যার দৃশ্য দেখতে লাগলাম।এভাবে সেদিন সতেরো জনকে হত্যা করতে দেখেছিলাম আমি।

( ফারুকুল ইসলাম ব্যান্ডার,বরগুনা )

ঊনত্রিশ ও ত্রিশে মে পাকি বাহিনী নির্বিচারে গুলি করে মোট ছিয়াত্তর জনকে হত্যা করে। বরগুনায় এই ছিয়াত্তর জনের গণকবর আছে এবং স্মৃতিস্তম্ভে তাদের নাম খোদাই করা রয়েছে। সেদিন গুলিবর্ষণ এবং আহতদের আর্তচিৎকারে বরগুনা জেলখানার এক দুই মাইল দূরের মানুষ পর্যন্ত হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেয়, পটুয়াখালী জেলার তৎকালীন সামরিক আইন প্রশাসক মেজর নাদের পারভেজ।

( গোলাম মোস্তফা কাদের,বরগুনা )

এই বিবরণগুলো সংঘটিত মোট অপরাধের একাংশ মাত্র।এর বাইরেও নাদের পারভেজের নিজের হাতে অথবা সরাসরি নির্দেশে নিহত হয়েছে প্রচুর সংখ্যক মানুষ,ধর্ষিত হয়েছে অনেক নারী।নির্যাতন,লুন্ঠন এবং অগ্নিসংযোগের মত অপরাধ নিয়মিতভাবেই চালিয়ে গেছে নাদের পারভেজ।



৩.

নাদের পারভেজ যেসব অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল সেগুলোকে রোম সংবিধি অনুসারে শ্রেণিবিণ্যাস করা যাক।

গনহত্যা সংক্রান্ত আর্টিকেল ছয়ে গনহত্যা বা জেনোসাইডের অন্তর্গত যে পাঁচটি অপরাধের কথা বলা হয়েছে,তার তিনটির সাথে যুক্ত ছিল নাদের পারভেজ।এগুলো হল :

## Killing members of the group
## Causing serious bodily or mental harm to members of the group
## Deliberately inflicting on the group conditions of life calculated to bring about its
physical destruction in whole or in part

মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত আর্টিকেল সাতে যে এগারো ধরণের অপরাধের উল্লেখ আছে,নাদের পারভেজ তার নয়টির সাথে জড়িত :

## Murder
## Extermination
## Enslavement
## Imprisonment or other severe deprivation of physical liberty in violation of
fundamental rules of international law
## Torture
## Rape, sexual slavery, enforced prostitution, forced pregnancy, enforced sterilization,
or any other form of sexual violence of comparable gravity
## Persecution against any identifiable group or collectivity on political, racial, national,
ethnic, cultural, religious, gender
## Enforced disappearance of persons
## The crime of apartheid

যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আর্টিকেল আট অনুসারে নাদের পারভেজ মোটা দাগে দুই ধরণের যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত ছিল :

## Grave breaches of the Geneva Conventions of 12 August 1949
## Serious violations of the laws and customs applicable in international armed
conflict, within the established framework of international law



৪.

এখানে যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে সেগুলো ঘৃণিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ন্যুরেমবার্গ ডিক্লারেশনে এইধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতাকে বিশ্বশান্তি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে,একই সাথে এইসব অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারহীনতা নিরসনের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।রোম সংবিধিতে এসব অপরাধের ক্ষেত্রে ৩০ বছর এবং মাত্রাভেদে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।বসনিয়া-হার্জেগভিনা এবং রুয়ান্ডার গনহত্যায় এই ধরণের অপরাধের সাথে জড়িতদের বেশিরভাগের ২০ বছর,৩০ বছর,৩৫ বছর বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে।কম্বোডিয়ার খেমার রুজ গনহত্যার বিচারের প্রথম রায়ে অন্যতম প্রধান আসামী কাং কেক লেভকে ৩৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল ২০১০ সালে।মাত্র তিনদিন আগে এই শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে ।বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন,১৯৭৩ -এ এই ধরণের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিশ্বাসঘাতক রাষ্ট্র পাকিস্তান অবশ্য তার যোগ্য সেবক নাদের পারভেজকে অসম্মান করেনি,উপযুক্ত পুরস্কারই দিয়েছে।দুইবার সিতারা-ই-জুরাত খেতাব পাওয়ার কথা আগেই বলেছি।এর দ্বিতীয়টি কীসের জন্য জানেন?মুক্তিযুদ্ধের পরে ভারতে বন্দী ছিল নাদের।সেই কারাগার থেকে আরো চারজন পাকিস্তানি অফিসার সহ পালিয়ে আসা এবং সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম বীরত্বের জন্য এই খেতাব দেয়া হয় তাকে।প্রথমটি ৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে ভূমিকার জন্য।

নাদের পারভেজের জয়যাত্রা এখানেই শেষ নয়।তাকে ১৯৮৫-৮৮,৯০-৯৩,৯৩-৯৭ এবং ৯৭-৯৯ - এই চারটি মেয়াদে পাকিস্তানের ন্যাশনাল এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত করেছে পাকিস্তানের ভোটাররা।শুধু তাই নয়,তিনটি মেয়াদে,যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী( ৮৭-৮৮ ),পানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ( ৯১-৯৩ ) এবং যোগাযোগ মন্ত্রী ( ৯৭-৯৯ ) হয়েছে এই ঘৃণ্য অপরাধী।



ছবি : মেজর রাজা নাদের পারভেজ ( বামে ) [সূত্র : উইকিপিডিয়া]


পাকিস্তানে যথেষ্ট সম্মানী লোক নাদের পারভেজ।পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তরুণ সৈনিকদের অনেকের কাছেই আদর্শ মেজর নাদের পারভেজ।পাক ওয়াতান এথলেটিক এসোসিয়েশনের সভাপতি এই সাবেক সেনাসদস্যের প্রতি পাকিস্তানের সাধারণ তরুন সমাজের ভক্তি শ্রদ্ধাও চোখে পড়ার মত ।ডিফেন্স জার্নালে প্রকাশিত তার একটি সাক্ষাতকারে বলা হয়েছে
Maj Raja Nadir Pervaiz has been a role model for many young officers. His bravery and selflessness have few equals. dJ is proud to interview this soldier turned politician.


এই সাক্ষাতকারেই বাংলাদেশ,বাঙ্গালি,মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার ঘৃণা মেশানো মনোভাব প্রকাশ করতে কুন্ঠা হয়নি এতটুকু
The insurgents were mostly trained and led by the Indians. They never got involved in a pitched battle. They were faceless, cruel and merciless, they were therefore, accordingly dealt with. Traitors remain traitors more so when they were led, backed and helped by the Indians. Indians are doing to them what they did to West Pakistanis.



৫.

চমকপ্রদ একটি খবর দেই এবার।এই মুহূর্তে বাংলাদেশ-পাকিস্তান রিকন্সিলিয়েশন থিওরির সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষ্যকার সম্ভবত ইমরান খান।বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ - এমন মন্তব্য করে রীতিমত ঝড় তুলে ফেলেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান নতুন আশার আলো বয়ে নিয়ে আসবেন - এই ধারণা পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের,বাংলাদেশের অনেকেও ইমরান খানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মুগ্ধ।রিকন্সিলিয়েশনবাদিদের কাছে এই ব্যক্তি এখন প্রায় প্রেরিতপুরুষের মত সম্মান পেয়ে থাকেন।তাদের জন্য খবর হচ্ছে,রাজা নাদের পারভেজ তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ ছেড়ে খুব শীগগিরই ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফে যোগ দিতে যাচ্ছে।




পরিশিষ্ট

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান বাঙ্গালিদেরকে শত্রু হিসেবে দেখেছিল,সেই ধারা বজায় রেখেছে যুদ্ধের পরেও।এখনো এই ধারা চলমান।দুই একজন নীতিবাগীশ হিপোক্রেট মাঝেমধ্যে এসে রিকন্সিলিয়েশনের গান শুনিয়ে গেলেই সেই শত্রুতার বিষ অমৃতে বদলে যায়না।

একবারের বিশ্বাসঘাতক - সবসময়ের জন্যই বিশ্বাসঘাতক।



( এই পোস্টের জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ উদাসী পথিকের কাছে,যাকে শ্রদ্ধা করি,ভালবাসি অগ্রজের মত।তার দেয়া লিঙ্কগুলো না পেলে এই পোস্টের আইডিয়াটাই হয়তো মাথায় আসতো না কোনদিন।

পথিক দা,ধন্যবাদ দেব না।স্নেহ দিয়ে ঋণী করে রাখবেন সবসময় - এইটুকু দাবি )

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার ধারণা পাকিস্তান এখন টু-ওয়ে রোডের খেলা খেলতে চায়। একদিকে বাঙলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে এখনও পরিপক্ক এবঙ সিদ্ধ-পরিকল্পনাকারী, অন্যদিকে বিলো দ্যা টেবিলে হামিদ মীরের মলম লাগানো কলাম।

সাতচল্লিশের পর থেকেই পাকিস্তান নিজের বিষয়ে মোটামুটি একটা ধর্মীয় বেশ্যাসুলভ আচরণ শুরু করছিলো, এবঙ এখনও সেটা বিরাজমান। শরীর জুড়ে অসভ্যতার বাঁক ছড়ায়, আবার তার দিকে চাইলে সে ধর্মীয় ম্যাৎকার শুরু করে। ইদানিঙ আমার মনে হয়- পাকিস্তান এখনও নিজেকে অর্ধেক ধোঁয়াশা রাখতে পেরেছে, এবঙ সে কারণেই একাত্তরে তীব্র ধর্মবাদী দল হয়ে জামায়াতে ইসলাম যেভাবে পাকিস্তানের পা চেটেছিলো, বর্তমানে তীব্র বামের গন্ধে চচ্চড়ি পাকানো গণমাধ্যম, এমনকি বামের পৈতা পড়া মার্কসবাদী ব্রাক্ষ্মণরাও কখনো মানবতা, কখনো ন্যায়পরায়নতার সুতো ধরে পাকিস্তানি ঘুড়িটাই ওড়াতে চায়।

বলা বাহুল্য,বিশ্বাসঘাতক রাষ্ট্র পাকিস্তান এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।এই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে সেই থেকেই নিরব পাকিস্তান।এই ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে অনেকেই প্রতিষ্টিত হয়েছে বিভিন্ন ভাবে,অনেকেই পাকিস্তানে রীতিমত সম্মানী ব্যক্তি।


ঠিক এই চিন্তার নিরিখেই আপনার লেখাটি মূল্যবান দলিল। ২০১০ সালেই এই নরপিশাচের উপর একটি বই প্রকাশ করেছে জার্মান ভিত্তিক প্রকাশনা সঙস্থা ভিডিএম (ভারলাগ ডক্টর মুলার) পাবলিশিঙ। ল্যামবার্ট এম সারহৌন, মারিয়াম টি টেনৌঔ এবঙ সুসান এফ হ্যানস্নৌ’র যৌথ প্রয়াসে বইটি বের হয়। মাত্র ১০৪ পৃষ্ঠার কিছু কম এই বইটাতে এরা যা লিখেছে, যে ধরণের ফাতরামি করেছে (যদিও টাইমের একটা সঙখ্যায় পড়েছিলাম বইটির জন্যে মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া হয়), তার উচিত জবাব হতে পারে আপনার এই লেখাটি।

আপনাকে হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে অভিনন্দন- এই চমৎকার লেখাটি তৈরি করার জন্যে।

একই সঙ্গে উদাসী পথিকের জন্যেও রইলো শুভ-কামনা। এমন উদাসী হওয়া ভালো। smile :) :-)

সবশেষে, লেখককে আবারও ধন্যবাদ ও শুভ-কামনা।

..................................................................

মেরুদণ্ড-ব্যাক্তিত্ববোধ-মান সম্মান-সৃজনক্ষুধা সমস্ত কিছু জলাজ্ঞলি দিয়া গায়ে ‘তোষামোদী’র চাদর জড়াইয়্যা মিলিটারি স্টাইলে ‘ইয়েস স্যার’ বইল্যা- বিরাট “দায়িত্বশীল” আচরণের মধ্যে আছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Tongue

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার কাছে ইমরান খানের ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং লাগলো।এটা নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে।

ভিডিএমের বইটার ব্যাপারে অল্প স্বল্প শুনেছি,বেশি ঘেটে দেখা হয়নি।একটা জুতসই রিভিউ পেলে ভালো হয়।টাইমের আর্টিকেলটার অনলাইন লিঙ্ক আছে নাকি?

এইসব ফাতরামির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে।

আপনাকে ধন্যবাদ নিরন্তর সমর্থন দিয়ে যাবার জন্য।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইটার ইংলিশ অনুবাদ করে অন্তর্জালে ছড়ানোর ব্যবস্থা করা হোক। পাকিস্তানী ফেবু ফ্রেন্ড থাকলে, বা পাকিস্তানী সাইট গুলোতে সুযোগ থাকলে কমেন্ট আকারে দিয়ে দেয়া হোক।

অসাধারন কাজ।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আইডিয়াটা ভালো।কিন্তু ইংরেজি দেখলেই জ্বর আসে যে!আর আমার ধৈর্যও খুব কম Sad

তবে এইটা একটা প্রজেক্ট হিসেবে নিয়ে গ্রুপ ধরে কাজ করা যেতে পারে।কেউ ডাটা সংগ্রহ,কেউ কম্পাইলেশন,কেউ ইংরেজিতে অনুবাদ।আগ্রহী কেউ থাকলে এখানেই জানান।এইসব ভন্ডামির মুখোশ খুলে দেয়া দরকার।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দুই একজন নীতিবাগীশ হিপোক্রেট মাঝেমধ্যে এসে রিকন্সিলিয়েশনের গান শুনিয়ে গেলেই সেই শত্রুতার বিষ অমৃতে বদলে যায়না।


রিকন্সিলিয়েট কে করবে ? "স্যরি", "ভায়ে-ভায়ে ঝগড়া" এইসব বললেই কি সব মাফ হয়ে যাবে ? রাষ্ট্রীয় ক্ষমাপ্রার্থণা, সেইসময়ে বাংলাদেশে স্টেশনড প্রতিটা পাকি সেনার আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার, তাদের মিডিয়াতে ও ইতিহাস বইতে একাত্তরের সঠিক তথ্যাবলী তুলে ধরার পরও রিকন্সিলিয়েট করা সম্ভব না- এ রক্তের নদী ভুলব কিভাবে ?

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রিকন্সাইল করবে আলু-কালু আর খান সাহেব।

ইমরান খান বাহিনী আর আলু-কালুর এপ্রোচ নিয়ে লেখার কথা ভাবছিলাম,সময় করে উঠতে পারছি না।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাকিদের প্রতি শুধুই ঘৃণা। এক্ষেত্রে ক্ষমা এক অসম্ভবের নাম।

পোস্টটা বরাবরের মতন অসাধারণ হয়েছে।

Star Star Star Star Star


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুধুই ঘৃণা

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাতেই পড়ছিলাম।

পোস্টের শেষে কি কি লিখলা দেইখা কমেন্ট না কইরাই বাইর হইয়া গেছি।

এখন ভাবলাম এইরকম একটা লেখায় কমেন্ট না করি কেম্নে।

সিম্পলি অসাধারন।

Star Star Star Star Star

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Tongue

..................................................................

মেরুদণ্ড-ব্যাক্তিত্ববোধ-মান সম্মান-সৃজনক্ষুধা সমস্ত কিছু জলাজ্ঞলি দিয়া গায়ে ‘তোষামোদী’র চাদর জড়াইয়্যা মিলিটারি স্টাইলে ‘ইয়েস স্যার’ বইল্যা- বিরাট “দায়িত্বশীল” আচরণের মধ্যে আছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

চলছে প্রীতম এক্সপ্রেস দুর্বার গতিতে।
প্রিয় এন্ড শেয়ারড।

----------------------------------------------------------
ছাগু আর ছাগু নাই। বিবর্তনের ধারায় এরা শুয়োর হয়ে গেছে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

কষ্ট পোড়াতে চাই বলে অশ্রু খুঁজি........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপাতত হল্ট অবস্থায় আছে Tongue

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একবারের বিশ্বাসঘতক আজীবনের বিশ্বাসঘাতক

(স্বাক্ষরঃ দিশাহারা পূটকি লাল)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাঁচ তারা পোস্ট।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ কাঠ মোল্লা ভাই

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন কাজ!!

~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধন্যবাদ উদভ্রান্তদা

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রিকন্সিলিয়েশনবাদিদের কাছে এই ব্যক্তি এখন প্রায় প্রেরিতপুরুষের মত সম্মান পেয়ে থাকেন।তাদের জন্য খবর হচ্ছে,রাজা নাদের পারভেজ তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ ছেড়ে খুব শীগগিরই ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফে যোগ দিতে যাচ্ছে।


--- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ধন্যবাদ লেখককে এই চমৎকার পোস্টের জন্য।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এই পোষ্ট যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দেয়া দরকার।

....................................................................................


আমরা ছুডলোক, গালিবাজ। জামাত শিবির ছাগুর বিরুদ্ধে গালাগালি করেই যাব, প্রতিরোধ করেই যাব। সুশীলতার মায়েরে বাপ। আমরা ছাগু ও সুশীলদের উত্তমরূপে গদাম দিয়ে থাকি


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

শুনলাম নাকি ডুব মারতেছেন

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন অসাধারন অসাধারন Star Star Star Star Star

_________________________________________________________________________________

ঢিল মারি তোর টিনের চালে...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধইন্যা Beer

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
এইসব যুদ্ধাপরাধীর আলাদা বিচারের দরকার নেই। রাস্ট্রের উচিত এদের মাথার দাম ঘোষণা করা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মন থেকে সহমত।তবে কি না বাস্তবতাটা খুব জটিল।আমি শুধু দেখালাম,পাকিস্তান কতখানি বিশ্বাসঘাতক একটা রাষ্ট্র।শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবেই নয়,ইদানিং যেসব পাকি সুশীল ভেক ধরে,দুঃখ,রিকন্সিলিয়েশন - এইসব বক বক করছে তাদের আসল চেহারাটা দেখানোর একটা চেষ্টা করেছি মাত্র।

এদের জন্য আজীবন ঘৃণা।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নাদের পারভেজের জয়যাত্রা এখানেই শেষ নয়।তাকে ১৯৮৫-৮৮,৯০-৯৩,৯৩-৯৭ এবং ৯৭-৯৯ - এই চারটি মেয়াদে পাকিস্তানের ন্যাশনাল এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত করেছে পাকিস্তানের ভোটাররা।শুধু তাই নয়,তিনটি মেয়াদে,যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী( ৮৭-৮৮ ),পানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ( ৯১-৯৩ ) এবং যোগাযোগ মন্ত্রী ( ৯৭-৯৯ ) হয়েছে এই ঘৃণ্য অপরাধী।


smile :) :-) আমরাই বা কম কিসে, নিজামী ৯১-৯৬ তে এম,পি, ২০০১-২০০৬ এ এম,পি ও মন্ত্রী!

চমকপ্রদ একটি খবর দেই এবার।এই মুহূর্তে বাংলাদেশ-পাকিস্তান রিকন্সিলিয়েশন থিওরির সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষ্যকার সম্ভবত ইমরান খান।বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ - এমন মন্তব্য করে রীতিমত ঝড় তুলে ফেলেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খান নতুন আশার আলো বয়ে নিয়ে আসবেন - এই ধারণা পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের,বাংলাদেশের অনেকেও ইমরান খানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মুগ্ধ।রিকন্সিলিয়েশনবাদিদের কাছে এই ব্যক্তি এখন প্রায় প্রেরিতপুরুষের মত সম্মান পেয়ে থাকেন।তাদের জন্য খবর হচ্ছে,রাজা নাদের পারভেজ তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ ছেড়ে খুব শীগগিরই ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফে যোগ দিতে যাচ্ছে।


পরথমলালু পড়লে মনে হয় বাংলাদেশে রিকন্সিলিয়েশানের আলো ছড়িয়ে দিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ! ভুলে যাও, ভুলিয়ে দাও-- ১৯৭১ এর বর্বরতা নিয়ে এটাই তাদের বর্তমান অবস্থান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

১.
সেটাই।তবে আমাদের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন।আর তাছাড়া আমরা শেষ পর্যন্ত বিচারের সামনে নিয়ে আসতে পেরেছি ওদের,সেখানে পাকিরা তাদের রীতিমত দেবতার আসনে বসিয়েছে।
২.
আলু-কালুরে একটা শক্ত ধাতানি দেয়ার সময় হইছে।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুবই গুরুত্বপুর্ণ লেখা। আমাদের স্বাধীনতার ঊষালগ্নে ঘটে যাওয়া পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও রাজাকার-আলবদরদের দ্বারা সংঘটিত অগণিত অপরাধের সামান্য আলোকপাত করা হয়েছে এখানে। এটি বরং '৭১ এর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের ভাল উদাহরণ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে সংগ্রহে রাখার জন্য অনুরোধ জানাই।

লেখককে অজস্র ধন্যবাদ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অসাধারন। লেখার মাঝে লিংক দিতে পারছি না কি কিভাবে দিব বলতে পারবেন?

mmt


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

টেক্সট বক্সের উপরে মেন্যুতে দেখুন লিঙ্ক নামে একটা অপশন আছে,যে অংশে লিঙ্ক দিতে চান সেটুকু সিলেক্ট করে ঐটা ক্লিকান,একটা বক্স ওপেন হবে।তারপরে যে লিঙ্ক দিতে চান,সেটা কপি করে বক্সে পেস্ট করুন।

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যারা অন্যায় আর অসত্যের বন্দনা করে তাদের ধ্বংস অনিবার্য। আজ পাকিস্তান এক ব্যর্থ রাষ্ট্র।

-----------------------------------------------

কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কথা সত্য।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করার কারণেই যে পাকিস্তানের এই দশা সেইটা ইমরান চাচাও উপলব্ধি করেছেন Wink

*****************************
তোমার দগ্ধ দেহ
এইবার ঢেকে যাক নবজাত রোদে।
তোমার রক্তে ভিজে পোড়ামাটি ফিরে পাক প্রাণ।
তুমি সেই আগামীর মাঠে
ফলাও দু'হাত ভরে দগদগে আগুনের ধান।

glqxz9283 sfy39587p07