Skip to content

১৯৭২-এ গঠিত 'জাতীয় রক্ষীবাহিনী', কিছু ভুল ধারনা।

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি


স্বাধিনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যুদ্ধ ফেরত বিপুলসংখক তরুন মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের জন্য ১৯৭২ এর সুরুতে “জাতীয় রক্ষীবাহিনী” গঠিত হয়। আর্মড পুলিশ এক্ট সংশোধন করে এই আধা-সামরিক বাহিনীটি গঠিত হয়।
সুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধ ফেরত বেকার তরুনদের কর্মসংস্থানের জন্যই মিলিশিয়ারক্ষি 'রক্ষীবাহিনী' গঠিত হয় নি। প্রধান কারনটি ছিল ৭১এ পাকিরা এবং ৭২ এর সুরুতে সকল ভারতীয় সৈন্য চলে যাওয়ার পর একটা বাহিনী শুন্যতার শৃষ্টি হয়। যুদ্ধশেষে অনেকেই অস্ত্র জমা না দেয়ায় একটা বিপদজনক অবস্থার শৃষ্টি হয়।
এদিকে পাকিস্তানে প্রায় ২০-৩০ হাজার বাংলাদেশি বাঙ্গালি সেনাবাহিনীর সদস্য সহ পুলিশ, আধাসামরিক মিলিশিয়া আটক থাকায় আইনশৃক্ষলা বাহিনীর স্বল্পতা আরো প্রকট আকারে দেখা দেয়।
পাকিস্তানে চাকুরিরত ২০-৩০ হাজার সেনাসদস্য, নৌ ও বিমান বাহিনী, আধাসামরিক রেঞ্জার্স শিমান্তরক্ষী, মিলিশিয়া এবং পুলিশ সদস্য। এছাড়া সরকারি-আধাসরকারি সংস্থায় চাকুরিরিত ১৫-২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি, ছাত্র, দোকান, কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অগনিত বাঙ্গালি সহ প্রায় ৩লাখ বাঙ্গালি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছিল।
এই তিন লাখ বাঙ্গালিদের ৭১ সাল থেকে ৭৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে প্রায় তিন বছর যাবত যুদ্ধবন্দির মত জিম্মি করে রাখা হয়েছিল বিচারাধিন ১৯৫ জন পাকি সামরিক যুদ্ধাপরাধির বিপরিতে।

এই শুন্যতা পুরন করতেই মুলত 'রক্ষীবাহিনী' গঠিত হয়। বেছে নেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত সাহসি তরুনদের। সবুজ জলপাই রঙের ইউনিফর্মে SLR রাইফেল হাতে রক্ষীবাহিনী ছিল রিতিমত ভিতিপ্রদ। অস্ত্র উদ্ধার করতে যেয়ে প্রায়ই অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়গ করতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক মিছিল দমন করতে পুলিশ ব্যার্থ হলেও রক্ষীবাহিনী নিয়োজিত হত। কারন তখনো ‘দাঙ্গা পুলিশ ব্যাটেলিয়ান’ গঠন করা হয়নি।
এদের কে সেনাবাহিনীর প্যারালাল ভাবার কারন ছিলনা, কারন এরা ছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধিনস্ত প্যারামিলিটারী ফোর্স। সেনাবাহিনী না।
বেতন-মর্যাদা বিডিআর এর সমকক্ষ।
অনেকে বলত এরা সজনপ্রীতি করে ঢুকানো আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক পেটোয়া বাহিনী। ৭৫এর ঘাতকেরা এবং এর অনুসারি সামরিক জান্তা শুপরিকল্পিত ভাবে গুজব ছড়ায় যে এদের কিছু ভারতীয় বাহিনীর ইউনিফর্মে ভারতিয় সৈন্য।
অথচ মুজিব তার বাসভবনের নিরাপত্তার জন্যও রক্ষীবাহিনী রাখেননি। তার বাসভবন ও দফতর গনভবন-বংগভবন নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষনিক ভাবে নিয়জিত ছিল সেনাবাহিনী। তখনো PRG ও SSF বাহিনী গঠিত হয়নি।
অনেকে বলে এই বেকার মুক্তিযোদ্ধাদের আর্মিতে নিয়েও তো অস্ত্রউদ্ধার অপারেশন করা যেত। নতুন বাহিনী করার দরকার কি?
দরকার ছিল।
তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত একট বিশৃক্ষল দেশে জমা না দেয়া অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য অপেক্ষাকৃত ভারি অস্ত্রে সজ্জিত আধাসামরিক মিলিশিয়া বাহিনী দরকার ছিল। পুলিশকে দিয়ে হতনা, শীমান্তরক্ষী বিডিয়ার দিয়ে হয়তো হত, তারাও যুদ্ধশেষে সংখায় কম ছিল।
সেনা বাহিনীতে এদের ঢুকিয়ে অস্ত্রউদ্ধার অপারেশন করা যেত। কিন্তু সেটা হত একটা বোকামি। দেশের একটা নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষা বাদ দিয়ে পাবলিকের সাথে রাস্তায় পিটাপিটি করবে?
নিয়মিত বাহিনীতে এদের ঢুকালে একটা দির্ঘমেয়াদি প্রকৃয়া আর ট্রেনিং দরকার হয়। এত সময়ও হাতে ছিলনা।
সবদিক বিবেচনা করে একটি পৃথক মিলিশিয়া বাহিনী তৈরি করাই ছিল সবচেয়ে উপযুক্ত।

রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে সকল অপবাদ মিথ্যা প্রমানিত হয় ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর।
যখন রক্ষীবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এক ধাপ পদন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করা হয়, আর রক্ষীবাহিনী চিফ কে দেয়া হয় রাষ্ট্রদুতের পদ। ৯ই অক্টোবর ১৯৭৫ এ একটি অধ্যাদেশ Jatiya Rakkhi Bahini Absorption Army Ordinance 1975 গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এই সেনাবাহিনীতে আত্তিকরণ করা হয়।

এই অধ্যাদেশটিতে অনেকটা দায়মুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে -
"রক্ষীবাহিনী কতৃক বর্তমান ও পুর্ববর্তি সকল কর্মকান্ড, সেগুলো অনুমান করে নেওয়া হবে সেনাবাহিনীর নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত জিনিষ"





Jatiya Rakkhi Bahini Absorption Army Ordinance 1975

তারা উচ্চমান সম্পন্ন, দক্ষতা ছিল প্রস্নাতিত। সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে যোগদেয়ার সময় কোন পরিক্ষা নেয়ার প্রয়জন হয় নাই। কারন সেনাবাহিনীই তাদের প্রশিক্ষন দিয়েছিল, তারা ভালকরেই জানত রক্ষীবাহিনী স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দলীয় নিয়োগ ছিলনা, ছিল Good selection. সুদক্ষ, চৌকোশ, যোগ্য এবং সাহসি মুক্তিযোদ্ধা। সঙ্গতকারনেই তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ হয়নি ততকালিন সামরিক শাষকদের।
আর রক্ষীবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য মুক্তিবাহিনীর কাদের বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর থেকে নেয়া হলেও তারা মোটেই পলিটিকালি মোটিভেটেড ছিলনা। এরা good selection ছিল। এদের পেশাদারিত্ব প্রমানিত হয়েছিল।
প্রমোশন নিয়ে আর্মিতে ঢুকেও যোগ্যতার প্রমান রেখেছিল।
এরা পলিটিক্যাল সিলেক্সান হয়ে থাকলে এদের যায়গা অন্তত সেনাবাহিনীতে হতোনা,
হোত আনসার বা VDP তে।
রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত শতাধিক অফিসার কর্নেল, জেনারেল পর্যন্ত চাকরি করে মেয়াদ শেষকরে অবসরে যায়। দুজন সেনাপ্রধান পর্যন্ত হয়েছিলেন। এখনো অনেকেই সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে ব্রীগেডিয়ার, জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন দেখা যায়।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যুদ্ধশেষে অনেকেই অস্ত্র জমা না দেয়ায় একটা বিপদজনক অবস্থার শৃষ্টি হয়।


কারা এরা যারা সে সময় অস্ত্র জমা না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখেছিল? তথ্য দিলে ভাল হয়। থলের মুখ যখন খুলবেন তখন পুরাটা উদাম করবেন তাতে নিজে পাঠকের কাছে সন্দেহমুক্ত থাকতে পারবেন।

সেনা বাহিনীতে এদের ঢুকিয়ে অস্ত্রউদ্ধার অপারেশন করা যেত। কিন্তু সেটা হত একটা বোকামি। দেশের একটা নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী দেশ রক্ষা বাদ দিয়ে পাবলিকের সাথে রাস্তায় পিটাপিটি করবে?


এ বিষয়টি কোন আওয়ামীলীগ নেতার মুখ থেকে তখন শোনা যায়নি। এটা অবশ্যই একটি লজিক কিন্তু তোফায়েল থেকে শুরু করে কাদের সিদ্দিকী কেউ-ই তখন এ লজিক সামনে আনেনি। সবাই তখন তোষামোদিতে ব্যাস্ত ছিল।

সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছেন যদিও আরো কিছু তথ্য দিতে পারতেন। ধন্যবাদ লেখার জন্য।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনি ঠিকই বলেছেন
আমার কাছেও খুব এব্যাপার গুলো খুব বিস্ময়কর ব্যাপার মনে হয় কেন এ বিষয়টি কোন আওয়ামীলীগ নেতার মুখ থেকে তখন শোনা যায়নি। তোফায়েল থেকে শুরু করে কাদের সিদ্দিকী কেউ-ই তখন এ লজিক সামনে আনেনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হুমম, ইনট্রেস্টিং, আমিও একটা লেখা রেডি করতেছিলাম এই নিয়া

...................................................................................

অতীত খুঁড়ি, খুঁজে ফিরি স্বজাতির গুলিবিদ্ধ করোটি...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমারও বিশ্বাস আপনি ভাল কিছু তথ্য দিয়ে লিখতে পারবেন। আশায় রইলাম, নিরাশ করবেন না। সবচে বড় বিষয় এরা কারা যারা সে সময় অস্ত্র জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিল তাদের মুখোশ খোলা দরকার। এ কাজটি এ পর্যন্ত কেউ-ই করছে না। আশা করি আপনি করবেন যেহেতু আপনি এ বিষয়ে গবেষনার সাথে আছেন।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাড়াতাড়ি লেখেন। তবে এব্যাপারে খুব একটা তথ্য-রেফারেন্স পাওয়া যায় না।
আমিএই পর্যন্ত প্রাপ্ত বইপুস্তকে কোথাও রক্ষিবাহিনীর পক্ষে কোন যুক্তি খুজে পাইনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাড়াতাড়ি লেখেন। তবে এব্যাপারে খুব একটা তথ্য-রেফারেন্স পাওয়া যায় না।
আমিএই পর্যন্ত প্রাপ্ত বইপুস্তকে কোথাও রক্ষিবাহিনীর পক্ষে কোন যুক্তি খুজে পাইনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তাড়াতাড়ি লেখেন। তবে এব্যাপারে খুব একটা তথ্য-রেফারেন্স পাওয়া যায় না।
আমিএই পর্যন্ত প্রাপ্ত বইপুস্তকে কোথাও রক্ষিবাহিনীর পক্ষে কোন যুক্তি খুজে পাইনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মূল কথা ঠিকই আছে। তবে এই বাহিনী গঠনের রূপরেখা বিজয়ের আগেই মুজিব নগর সরকার চিন্তা করেছিল। যে কোন দেশেই এই জাতীয় বিপ্লব হবার পর বিপুল সংখ্যাক বেসামরিক লোকের হাতে অস্ত্র থাকা খুবই বিপদজনক হয়; বিশেষ করে শত্রুর সাথে যুদ্ধ শেষ হবার পর করার মত অর্থবহ কোন কাজ না পেলে পরিস্থিতি হতে পারে অতি বিপদজনক। হতাশাগ্রস্থ বেকার যুবকরা হতে পারে বুমারাং। সাধারনত এরা নিজেদের মধ্যেই পরে মারামারি শুরু করে, সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দেশে অবস্থা অতটা খারাপ হয়নি। এসব কিছুই মাথায় রেখেই এই বাহিনী গঠনের দূরদর্শি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এদের জলপাই রং এর ইউনিফর্ম এর কারনে ভারতের পালিত বাহিনী বলে গুজব ছড়াতে দারুন সুবিধে হয়েছিল। কিন্তু এই জলপাই ইউনিফর্ম আসলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বানাচ্ছিল মুক্তিবাহিনীর জন্য, বানানো শেষ হবার আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় ফলে ইউনিফর্ম লাগানো হয় রক্ষীবাহিনীর গায়ে।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যেকোনো দেশেই পুলিশ আর সৈন্যবাহিনীর বাইরে নতুন বাহিনী গঠন একটি ঝুকিপূর্ন পদক্ষেপ। পুলিশ আর সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার সাংবিধানিক রূপরেখা রয়েছে। আমরা দেখেছি কেবলমাত্র বিপ্লবাত্মক দেশগুলোতেই একের পর এক মিলিশিয়া বানিয়ে দেশকে ভজঘট বাধিয়ে ফেলে।

লেখক লিখেছেন সেই সময়ে 'তখনো দাঙ্গা পুলিশ ব্যাটেলিয়ান’ গঠন করা হয় নি। গঠন করা হয়নি, গঠন করলেই হতো। দশটা আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গড়তে কি রক্ষীবাহিনী গড়ার চেয়ে ঝামেলা কম হতো? দেশে যখন কোনো একক প্রতাপের সরকার থাকে, তখন নতুন একটা বাহিনী গঠন স্বভাবতই জনগন এবং অন্যান্য বাহিনীর মধ্যে সন্দেহের উদ্রেক করে। এখন যতই লিপিস্টিক লাগানো হোক না কেনো, রক্ষীবাহিনী গড়ে মুজিব সরকার যে নিজের এবং দেশের অনেক গ্যানজামের সূত্রপাত করেছিলো এই পারসেপশনটা তো দূর করা সম্ভব হচ্ছে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রক্ষী বাহিনী গ্যাঞ্জাম করেছে পরে।

সে সময় গঠন করা না হলে আমার ধারনা আরো বড় ধরনের গ্যাঞ্জাম হতে পারত। সিভিলিয়ান আধা ট্রেইন্ড লোকজনের হাতে অস্ত্র থাকলে নিজেদের মধ্যেই খুনাখুনী হবার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। আফগানিস্তানে দেখেন রাশিয়ানরা চলে যাবার পরে মুজাহিদরা নিজেদের ভেতর কি পরিমান রক্তারক্তি করেছে।

সে সময় বিপুল সংখ্যক তরুনের রুটি রোজগারের কোন ব্যাবস্থা না থাকলে এরা হয়ে উঠতে পারত খুবই বিপদজনক। কেউ কেউ শুরুও করেছিল, হতাশাগ্রস্থ তরুনদের কিছু খন্ডচিত্র 'আবার তোরা মানুষ হ' ছবিতে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের এভাবে এবজর্ভ করার চেষ্টা অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে দরকারই ছিল মনে করি।

পরের দিকে যথারীতি যা হয়, গায়ে পোষাক আর হাতে অস্ত্র পেলে বাংগালী নিজেকে মনে করে ঈশ্বর। সরকারগুলিও এদের তোষন নীতিই সামগ্রিকভাবে নেয়।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

না, আমার কথা হলো এসব তরুনদের অ্যবসর্ব করা অবশ্যই দরকার ছিলো, কিন্তু এজন্যে পুলিশ এবং আর্মীর বাইরে নতুন একটা বাহিনী গঠন যুক্তি্যুক্ত ছিলো কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।

"গায়ে পোষাক আর হাতে অস্ত্র পেলে বাংগালী নিজেকে মনে করে ঈশ্বর", যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে যে এটা কতো বড়ো সমস্যা ছিলো এটা এখন চিন্তা করাই কঠিন। আমার কাছে অবশ্য সবচেয়ে বড়ো কালপ্রিট মুক্তি্যুদ্ধেরই সেনানায়কেরা। কয়েকজন বাদে জিয়া, তাহের, খালেদ, মন্জুর এরা সবাই ছিলো একেক জন জাতির 'ত্রানকর্তা'। এরা সবাই মনে করত এরা নিজেরাই জাতির একমাত্র অবলম্বন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে দেশের সেবা করা এদের ধাতে ছিলো না।

সবাই জিয়া, খালেদ, তাহেরের সানগ্লাস পড়া পোজ মারা ছবি দেখে আহা উহু করে 'কি স্মার্ট' বলে। আমি এদের প্রত্যেকের ছবিতে দেখি একেকজন মিনি ইশ্বরের প্রতিচ্ছবি। এটা অনস্বীকার্য যে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় এই মেজরদের ভুমিকা সবচেয়ে বেশী। তারা সেইসময়ে বিদ্রোহ করে যুদ্ধ শুরু না করলে হয়তো কোনো যুদ্ধই হতো না, হয়তো একটা পলিটিক্যাল সেটেলমেন্টই হতো ৭১ এ। কিন্তু স্বাধীনতা আনা মানেই দেশের উপরে কোনো বিশেষ দাবী প্রতিষ্ঠিত হওয়া নয়। পৃথিবীর যেসব দেশেই মুক্তি্যোদ্ধারা স্বাধীনতার পরে দেশের উপরে বিশেষ অধিকার ফলাতে গেছে, সেসব দেশেই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথ হয়েছে অনেক দীর্ঘ।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, এখনো বাংলাদেশের অনেক জেনারেল সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের আয়না দেখে একজন ভবিষৎ প্রেসিডেন্টকে এবং তাদের চেয়েও বেশী, জেনারেলের স্ত্রীরা আয়নায় দেখে একজন ফার্স্ট লেডীকে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তারা সেইসময়ে বিদ্রোহ করে যুদ্ধ শুরু না করলে হয়তো কোনো যুদ্ধই হতো না, হয়তো একটা পলিটিক্যাল সেটেলমেন্টই হতো ৭১ এ।


সামান্য "হয়তো", অন্য অনেক কিছুকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে! মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিন্তু তা প্রতিহতও করা হয়েছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, এখনো বাংলাদেশের অনেক জেনারেল সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের আয়না দেখে একজন ভবিষৎ প্রেসিডেন্টকে এবং তাদের চেয়েও বেশী, জেনারেলের স্ত্রীরা আয়নায় দেখে একজন ফার্স্ট লেডীকে।


শুধু জেনারেলদের দোষ দিয়ে লাভ কি! বাংলাদেশের যারা বিদেশে আছে সেখানকার প্রবাসীদের সমিতির প্রেসিডেন্ট পদ ও ফার্স্ট লেডীর পদ কম লোভনীয় নয়। বাঙ্গালী মাত্রই প্রেসিডেন্ট হতে চায়, কিন্তু সদস্য বা সামান্য কর্মী হতে বাঙ্গালীর আগ্রহ কম। আমিও কিন্তু কথাগুলো জীবন থেকে নিয়েই বললাম smile :) :-)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আসলে মৌলিক সমস্যা আমাদের জাতীয় চরিত্রে কিছু উপাদান আছে সেখানে। রক্ষীবাহিনী কি আর্মড পুলিশ কোন নামে বাহিনী গঠন করা হত সেটা ব্যাপার হত না। যেইই বাহিনীই গঠন করা হত সেই দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পেত, নিশ্চিতভাবে মুক্তিযোদ্ধারাই যোগ দিত যারা স্বাভাবিকভাবেই সে সময় ছিল ৯০% এর ওপর মুজিব ভক্ত। তাদের দলীয়ভাবে মোটিভেট কেবল বায়ে হাত কি খেল। বংগবন্ধুর জলদগম্ভীর ভাষায় ৫ মিনিট তুই তোকারি করে নরম গরম ভাষনই হত যথেষ্ট।

স্বাধীনতা এসে গেছিল আসলে অনেক তাড়াতাড়ি, তাই তার মূল্য সেভাবে বোঝা যায়নি। আজও সেই মাশুল দিতে হচ্ছে। স্বাধীনতার মানে করে নেওয়া হয়েছে যা খুশী করতে পারার অধিকার।

মুজিব বাহিনী, সাধারন মুক্তিবাহিনীরও অনেকে, তারকা প্রাপ্ত সেনা অফিসাররা সবাই নিজেদের মনে করত সুপার হিরো। সরকারের অবস্থা হয়েছিল ত্রিভংগ, সবাইকে খুশী রাখার চেষ্টা চালাতে হচ্ছিল। ফল হচ্ছিল আরো খারাপ। একদিকে রক্ষীবাহিনী দিনে দিনে বেপরোয়া হয়েছে আরেক দিকে তাদের পোষার কারনে সেনাবাহিনী দিনে দিনে খেপে উঠেছে যা সরকার টেরই পায়নি।

তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বিপ্লবাত্মক উপায়ে সরকার পরিবর্তন হলে বিপ্লবীরাই পরে হয়ে ওঠে আত্মঘাতি। আমাদের দেশেও তেমন হতে পারত, আমার নিজের ধারনা রক্ষীবাহিনী গঠনের নামে অন্তত হাজার হাজার তরুনকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হতাশা থেকে দূরে রেখে ইমিডিয়েট একটা বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। একবার ভাবেন, যুদ্ধবিধস্ত দেশে; হাজার হাজার তরুন হাতে সব ফ্রী ষ্টাইল আধুনিক অস্ত্র, অধিকাংশেরই ঘরবাড়িরও খবর নেই, নেই কোন রুটি রোগজগারের ব্যাবস্থা। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য এত ত্যাগ তীতিক্ষা সেই দেশে তাদের এই পরিনতি অস্ত্র হাতে দেখে তারা শান্ত সুবোধ বালকের মত ঘুমাতো? সামান্য যা কিছু আলামত '৭২ এ দেখা গেছিল তাইই ছিল যথেষ্ট ভীতিপ্রদ। আমাদের দেশের পরিনতি আজকের আফগানিস্তান হবার প্রবল সম্ভাবনা ছিল।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বড় আলোচনায় জড়াবোনা, আপাতত অন্য কিছু লেখার চেষ্টায় আছি। একটা প্রশ্ন ও কয়েকটি কথা--

উপরে অনেকেই রক্ষিবাহিনী গঠন না করে কেন পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়নি বা পুলিশ বাহিনী গঠন করলে ভালো হতো (জিয়াউর রহমান পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়েছিলেন এবং পুলিশের মধ্যেই বিশেষ ফোর্স গড়ে তুলেছিলেন। রক্ষিবাহিনীর সদস্যদের তিনি বাদ দেননি, বরংচ, রক্ষিবাহিনীকে অন্য ফোর্সে আত্মিকরণ করেন) এবং এমন কি কাজ পুলিশ বাহিনী বা সেনাবাহিনী করতে পারতোনা তার জন্য রক্ষিবাহিনী গঠিত হলো। এই প্রশ্নকে বিবেচনায় রেখে নীচে ছোট কিছু প্রশ্ন--

বর্তমান কালের অপরাধে কি এমন নতুনত্ব ও বাড়তি নৃশংসতা আছে যে প্রচলিত পুলিশ কাঠামো বা সেনা কাঠামোর আওতায় সব অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া যেতনা এবং হঠাত RAB গঠনের প্রয়োজন দেখা দিল? পুলিশের কোন অদক্ষতার কারণে RAB গঠন করা হলো ( অথচ সেই পুলিশের অফিসার ও সদস্যদেরকেও আবার প্রেষণে RAB এ নিয়োগ দেওয়া হয়!) ?

রক্ষিবাহিনী-- বিরোধী মতকে পোন্দানো? সেটাতো প্রেসিডেন্ট জিয়ার আমলেও জাসদকে পোন্দানো হইছে বিশেষ বিশেষ উপায়ে বিশেষ বিশেষ বাহিনী দিয়ে। খাকি উর্দি পইড়া পুলিশ বা অন্য নাম নিয়ে পোন্দাইলে "আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ", আর রক্ষিবাহিনী যখন সিরাজ-সিকদারের আন্ডারগ্রাউন্ড আত্মস্বীকৃত থানালুটকারী, ব্যাংকডাকাতীকরাদের আর জাসদ পোন্দায় তখন সেটা হয় "বিরোধী মতকে" আক্রমণ!

আসলে গেরামের "আন্ডা-ভাজি" ঢাকায় আসলে "এগ-অমলেট" হইতে পারে, মাগার জিনিস কিন্তু দুইটাই সেইম--সেই মুরগীরই "আন্ডা", কোন তফাত নাই; খালি মার্কেটিংটা করা হয় ভিন্ন কায়দায়!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মন্তব্য এইখানে আসলো কেমনে? এই মন্তব্য পোস্টে করছি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভারত জুজু, রক্ষীবাহিনী, শেখ কামালের ব্যাংক ডাকাতি, শেখ জামালের লুচ্চামি ইত্যাদি নানা প্রপোগন্ডা ছড়ানো হয়েছে। এগুলো নিছক রিউমার ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

কত্ত বড় শয়তানি চাল চেলেছিল, স্বাধীনতা বিরোধীরা!

আদিল ভাই আপনার কমেন্টে সহমত।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এইগুলি মিথ্যা প্রচারনা ছিল ঠিকই তবে এই বলেই স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়াও ঠিক নয়। এটাও চিন্তা করা উচিত যে এ জাতীয় কাহিনী ৭০ সালে বাজারে ছড়ালে পাবলিকে কোনদিন বিশ্বাস করত না, ৭৪/৭৫ সালে কেন ব্যাপকভাবে পাবলিক এসব প্রচারনায় কান দেওয়া শুরু করল।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মন থেকে ভুলে যায় তারই প্রচেষ্টা চলেছে। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেছে।

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখনো বাংলাদেশের অনেক জেনারেল সকালে ঘুম থেকে উঠে বাথরুমের আয়না দেখে একজন ভবিষৎ প্রেসিডেন্টকে এবং তাদের চেয়েও বেশী, জেনারেলের স্ত্রীরা আয়নায় দেখে একজন ফার্স্ট লেডীকে।
ভাবনার কথা।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আদিল মাহমুদ ভাই,

সহমত।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গায়ে পোষাক আর হাতে অস্ত্র পেলে বাংগালী নিজেকে মনে করে ঈশ্বর।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর রক্ষীবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য মুক্তিবাহিনীর কাদের বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর থেকে নেয়া হলেও তারা মোটেই পলিটিকালি মোটিভেটেড ছিলনা।


আমি খুব কাছে থেকে যতটুকু জেনেছি সে সময় এটা ছিল তাদের প্রোপাগান্ডা যারা অস্ত্র জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখেছিল অসৎ উদ্দেশ্যে। তাদের জন্যও রক্ষী বাহিনী'র দরজা খোলাই ছিল। তারাই আসেনি, কারন তাদের আলাদা উদ্দেশ্য ছিল। সেজন্যই অনুরোধ করছি যারা অস্ত্র সে সময় জমা দেয়নি তাদের মুখোশটা খুলুন সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

-------------------------------------------------------------------------------------------------

মানুষের দোষে ধর্ম দোষী
রাজা'র দোষে রাজ্য দোষী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর রক্ষীবাহিনীর বেশিরভাগ সদস্য মুক্তিবাহিনীর কাদের বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর থেকে নেয়া হলেও তারা মোটেই পলিটিকালি মোটিভেটেড ছিলনা।


মুজিব বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিসের ভিত্তিতে সিলেকশন করা হতো? রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে বলেই জানতাম। আপনি নতুন কথা জানাইলেন।

উপরে লেলিনরহমান বলেছেন, আমিও বলি, আর্মাড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান ছিলোনা, এইটা কোন যুক্তি হৈতে পারেনা রক্ষীবাহিনী গঠনের। আর্মাডপুলিশ স্কোয়াড গঠন করাই যাইতো। রক্ষীবাহিনী গঠন করাই হৈছিলো নিজেদের শাসনকাল নির্ঝন্ঝাট রাখার জন্য দলীয়আনুগত্যপুর্ন একটা পেটোয়া বাহিনী রাখার প্রয়োজনে, যেন প্রতিপক্ষকে সাইজে রাখা যায়। নাইলে ওবান আংকেলের প্রশিক্ষন লাগতো না। আর যাই হোক পুর্ন আনুগত্য পুলিশ বা সেনাবাহিনী থেকে পাওয়া সম্ভব না।

এই পোষ্টের কন্টেন্ট ফেসবুকে নোট আকারে পড়েছিলাম। একটা প্রশ্নও দেখেছিলাম ঐখানে,

"১৫ই অগাষ্ট" এই চৌকষ বীরপুঙ্গবরা কোন বালটা ফালাইতেছিলেন?

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন গড়লে সেটা দলীয় অনুগত বাহিনী হত না এই গ্যারান্টি দিত কে? এমন যেই কোন ইউনিফর্মড বাহিনীই গড়া হলে অবধারিতভাবে তা করতে হত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে, আর সোজা হিসেবে তারা হত ৯০%ই আওয়ামী দলীয় নইলে চরমভাবে মুজিব ভক্ত। শুধু রক্ষীবাহিনীর যায়গায় আর্মড পুলিশ বাহিনী নাম হলেই চলত? তাদের ওপর আর সরকার প্রভাব খাটাতে পারত না? আজকের গনতান্ত্রিক বাংলাদেশে পুলিশ নিরপেক্ষ? সরকারী দলের থানা পর্যায়ের নেতা পুলিশের এসপিকে শাসাতে পারে। আরেকটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে '৭২ সালের গোড়ায় বাংলাদেশে বংগবন্ধু বা আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করার মত কোন শক্তি থাকতে পারে এমন ধারনাই ছিল খুব অবাস্তব।

রক্ষীবাহিনীর আইডিয়াটা ছিল প্রথমত বিপুল সংখ্যক হঠাত বেকার হয়ে যাওয়া যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধাকে কাজে লাগানোর তাতক্ষনিক একটা পরিকল্পনা; সে জন্যই এদের রেগুলার বাহিনী হিসেবে না গড়ে গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল প্যারামিলিশিয়া হিসেবে। মূল পরিকল্পনা ছিল এদের থেকেই ধীরে ধীরে নিয়মিত বাহিনী পুলিশ বাহিনী এসব গড়া হবে। কারন এসব নিয়মিত বাহিনী রাতারাতি প্যারামিলিশিয়া বাহিনীর মত গড়া যায় না। এই পরিকল্পনায় বংগবন্ধুরও হাত ছিল না, এটা যুদ্ধ শেষ হবার আগেই মুজিব নগর সরকার চিন্তা করে রাখে। এরপর ২৬শে ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারী ঘোষনা দেয়। সে ঘোষনায় এখানে যা বলেছি তার সবই আছে।

ওবান আংকেলের প্রশিক্ষন ঠিক কিভাবে রক্ষীবাহিনীতে লাগল?

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমার পড়াশোনা অনুসারে মুক্তি্যুদ্ধে ট্রেনিং প্রাপ্ত যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী মুক্তি্যোদ্ধার সংখ্যা ৪০,০০০ এর মতো। এর বাইরে অস্ত্রধারী আরো অনেকে থাকতে পারে।
এই ৪০০০০ কে অ্যবসর্ব করার জন্যে রক্ষীবাহিনী গঠন আসলেই যুক্তি্যুক্ত কিনা সেটাই পিছন ফিরে দেখাতে প্রশ্নসাপেক্ষ। পুলিশ বাহিনী অবশ্যই আওয়ামী সরকারের কথাতেই চলতো কিন্তু এটলিস্ট আওয়ামী সরকার নিজস্ব বাহিনী গঠন করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাইছে এই কথাটি দেশে-বিদেশে এতো প্রচার পেতো না।

সেই সময়টাতে কম্যুনিস্ট ভাবধারার লোকজনের কাছে এই বাহিনী, ঐবাহিনী গঠন ছিলো খুব প্রিয় একটি সমাধান। সাংবিধানিক গনতন্ত্রের আওতাধীন সাধারন আইন ও দেশরক্ষা বাহিনী তাদের কাছে কখনোই যথেষ্ট ছিলো না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ট্রেনিং পাওয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিল ৬০-৭০ হাজারের মত।

২৬শে ডিসেম্বরের সরকারী ঘোষনায় নিয়মিত বাহিনী এই প্যারামিলিটারি থেকে কিভাবে গঠন করা হবে তার স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, আমার কাছে তা যথেষ্ট যুক্তিসংগতই মনে হয়েছে। কিছু আধা ট্রেনিং প্রাপ্ত মিশ্র ব্যাকগ্রাউন্ডের সিভিলিয়ান দিয়ে রাতারাতি নিয়মিত ফোর্স হয় না। আর সে সময় দেশে আর্মি অফিসার ট্রেনিং দেবার প্রতিষ্ঠানও ছিল না। সবই ছিল সময়ের ব্যাপার, যা ধীরে ধীরে করা হচ্ছিল। সেই ঘোষনা পারলে পড়ে নেন, বেশ বিস্তারিত ঘোষনা। আরেকটি কারন ছিল যেন সময়ের সাথে সাথে প্যারামিলিটারির যেসব সদস্য সেটল করে নিজেদের মূল পেশা বা নানা কারিগরী বা বৃত্তিমূলক পেশায় ফিরে যেতে পারে বা পড়াশুনা করতে পারে সেই পথও খোলা রাখা। মূল বাহিনীতে আত্তীকরন হলে সহজে বাহিনী ছেড়ে নিজের পথ ধরা যায় না।

তবে কম্যুনিষ্ট দেশগুলির বাহিনী কন্সেপ্ট তাত্ত্বিকভাবে এসেছে আমিও মনে করি, কারন মুক্তিযুদ্ধের আদলটা ছিল টিপিক্যাল বাম কায়দার আন্দোলনে, রুশ দেশ ছিল ত্রাতার ভূমিকায়।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লজ্জার কথা, ডিসেম্বরের ঘোষনাটি পড়া হয়নি। কোনো পিডিএফ অথবা স্ক্যান কপি দেয়া যাবে কি?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মূলধারা '৭১ বই এর এপেন্ডিক্স এ এই ঘোষনার মূলকপি আছে। একটি লিঙ্ক পেলাম যেখানে পুরো বইটি আছে, তবে সেই ঘোষনাটি দেখছি না। পেলে দেব। তবে বই এর টেক্সট থেকেঃ

ইতিপূর্বে ১৮ই ডিসেম্বরে বাংলাদেশ মন্ত্রিসভা গণবাহিনীর সকল সদস্যের সমবায়ে জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে ঐ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর ২৩শে ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকার তালিকাভুক্ত ও তালিকা-বহির্ভূত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘জাতীয় মিলিশিয়া’ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বলা হয়: ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মনে করেন যে মুক্তিবাহিনী এদেশের মেধার বৃহত্তম আধার, যার মধ্য থেকে এদেশের দ্রুত পুনর্গঠন এবং অবকাঠামো পুনঃস্থাপনের জন্য উৎসর্গিত নতুন নেতৃত্বের উদ্ভব সম্ভব।৩৫৫ বাংলাদেশ সরকারের এ সঠিক ঘোষণার পাশাপাশি, মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল অনিয়মিত অস্ত্রধারীর কাছ থেকে অস্ত্র পুনরুদ্ধার করাও ছিল এ স্কীমের অন্যতম প্রধান অঘোষিত লক্ষ্য।


মজার ব্যাপার হল অনেকে এই বাহিনী গঠনকে মুজিব বাহিনী আত্ত্বীকরনের অভিযোগ করেন সেই মুজিব বাহিনী ছিল এই জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের বিরুদ্ধে প্রধান চ্যালেঞ্জ। অনেকের জন্য আরো নুতন তথ্য হল যে এই বাহিনী গঠনে শুধু আওয়ামী লীগার নয়, সব দলেরই প্রতিনিধি রাখা হয়েছিল।

জাতীয় মিলিশিয়ায় যোগদানের ক্ষেত্রে ‘মুজিব বাহিনী’র সম্ভাব্য বিরোধিতা দূর করার জন্য যে দিন মিলিশিয়া স্কীম ঘোষণা করা হয়, সে দিনই অর্থাৎ ২৬শে ডিসেম্বর মেজর জেনারেল ওবানকে ঢাকা আনানো হয়।৩৫৮ ‘মুজিব বাহিনী’র ভূমিকা যাতে নতুন স্বাধীনতার জন্য সহনীয় হয়, তদুদ্দেশ্যে বিলম্বে হলেও ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের সহযোগিতার নিদর্শন তখন স্পষ্ট। ইতিপূর্বে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে শেখ মণি গ্রুপের অগ্রাভিযানের পথ নির্ধারিত হওয়ায় ঢাকা পৌঁছাতে তাদের কিছু বিলম্ব হয় বটে। ততদিনে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ঢাকায় ভারতীয় বাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়। ওবান ঢাকা পৌঁছানোর পর শেখ মণি এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেন, অতঃপর ‘মুজিব বাহিনী’ নামে কোন স্বতন্ত্র বাহিনীর অস্তিত্ব থাকবে না।৩৫৯ ২রা জানুয়ারী বাংলাদেশ সরকার যখন জাতীয় মিলিশিয়ার ১১ জন সদস্যের সমবায়ে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন করেন, তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নেওয়া হলেও মুজিব বাহিনীর দু’জন সদস্যকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।৩৬০ একই দিনে প্রকাশ করা হয় যে ইতিমধ্যেই প্রত্যেক জেলা ও মহকুমা প্রশাসকদের জরুরীভিত্তিতে জাতীয় মিলিশিয়া শিবির স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে জেলা ও মহকুমা পর্যায়ে সর্বদলীয় কমান্ডকাঠামো গঠিত হতে শুরু করে। এই স্কীম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মেজর জেনারেল বি. এন. সরকারকে কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।


With the prospect of liberation coming nearer, a plan was drawn up to rechannel this youth force into a productive disposition to suit post-liberation needs. Within a week of its return to Dacca the Government announced its scheme for forming the National Militia comprising all freedom fighters shorn of any partisan or factional bias.... The Governmental announcement refrained from calling for the surrender of arms, as it retained the risk of meeting a limited success. Instead the scheme proceeded from the assumption of an imperative need for creation of political trust amongst political parties whose affiliates were in possession of most these arms.

“A multi-party command structure was constituted to initiate a programme with a built-in arrangement for progressive reduction of the size of the National Militia itself. The plan was simple: once the roll had been called, more than 50% of the members, who had been students before March, were expected to go back to their studies with some medal or decorations but leaving their arms behind in the militia armoury, and the same was expected from another 10% who had been employed in factories and offices prior to the beginning of the struggle. From the pool of freedom fighters who were left behind, approximately 40,000 were needed for rebuilding the shattered police and border force as well as the putative army. Eventually the size of National Militia was expected to come down to 30,000 or even below, once the situation permitted the weeding out of unreliable elements.... It also looked into the possibilities of refusal to join the militia by any freedom fighter or groups of them.”

“An understanding on this issue among the main political parties... and their student affiliates was thought to be the answer. Whilst the political pool could furnish intelligence, the National Militia itself was expected to provide the muscle.”_Muyeedul Hasan: Politics in Post-insurgent Bangladesh, 1974.


এই কমিটি কিভাবে গঠিত হয়েছিল, কে কে কাজ করেছিল প্রাথমিক পর্যায়ে সেসবেরো পূর্ন তালিকা আছে। এই বাহিনী নিঃসন্দেহে পরে এভাবে কাজ করতে পারেনি সে কথা ভিন্ন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্দেশ্য মোটেও বদ ছিল না এতে কোন সন্দেহ নেই।



http://www.profile-of-bengal.com/p-b/www.profile-bengal.com/muldhara/Muldhara_71_chapter_22.htm

পুরো বইটি পড়ে ফেলেন না পড়া থাকলে। এ বই না পড়লে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত অনেক কিছুই ধোয়াশা থেকে যাবে।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

"নির্মীয়মাণ বহুদলীয় জাতীয় ঐক্যকাঠামোর পরিবর্তে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ দলীয় শাসন প্রবর্তন, আর্থ-সামাজিক মৌল রূপান্তরের প্রধান শক্তি হিসাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সমবায়ে জাতীয় মিলিশিয়া গঠনের পরিবর্তে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধাদের কেবল অনুগত অংশের সমবায়ে জাতীয় রক্ষীবাহিনী গঠন---"

অন্তত এটা ঠিক যে রক্ষীবাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য আর পরবর্তী রূপের মধ্যে অনেক ব্যবধান রয়েছে।

আসলে আমার কাছে মনে হয় সেই সময়ের বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেই (মুজিব, তাজউদ্দিন সবাই) সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার প্রাধান্য দেশের গনতন্ত্রের বিকাশকে ব্যহত করেছ। এর একটা বড়ো কারন অবশ্য যুগের প্রভাব। সেই সময়টা ভিয়েতনামের কল্যানে পুরো তৃতীয় বিশ্বজুড়ে মার্কিনবিরোধী অনুভূতি প্রবল। এছাড়া এশিয়া, আফ্রিকা সর্বত্র স্বাধীনতা আন্দোলনগুলোতে সোভীয়েত ইউনিয়ন অধিকাংশ সময়েই ছিলো মুক্তিপ্রত্যাশীদের পক্ষে।

নেহেরু নিজেই সমাজতন্ত্রের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। কিন্তু নেহেরু'র সবচেয়ে বড়ো লিগ্যাসী হলো সদ্য স্বাধীন ভারতে তিনি পার্লামেন্টারী ডেমোক্র্যাসীকে দেশের প্রাথমিক স্তম্ভে পরিনত করতে পেরেছেন। ভারতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়াও আরেকটা বড়ো প্রাপ্তি যে সামরিক বাহিনী কখনো সিভিলিয়ান লীডারশীপের ওপরে কিছু বলার সাহস কখনো করেনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রক্ষীবাহিনীর চুড়ান্ত আউটকাম কি তাতে সন্দেহ নেই, তবে তার মানেই এই না যে প্রাথমিক উদ্দেশ্যই খারাপ ছিল। এটাই আমি এখানে বলতে চাচ্ছি যা অনেকে মানতে চাচ্ছেন না। আউটকামের কথা চিন্তা করলে ছাগুদের প্রধান যুক্তি বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিন্ত করা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মূল উদেশ্য ছিল তাও অনেকটাই মেনে নিতে হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মার্কিনীদের ভূমিকা সমাজতান্ত্রিক মডেলের দিকে ঝুঁকতে ততকালীন সরকারকে অনেকটাই বাধ্য করেছিল। আর সমাজতন্ত্রের জয়জয়কার ছাড়া বাজে দিকগুলি সে আমলে সেভাবে আলোচনায় আসেনি। তবে নেতারা কেউ রুশ ষ্টাইলের কম্যুনিজম চিন্তা করেননি যার চিন্তা '৭৫ এ বাকশালের মধ্যে পাওয়া যায়।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পুলিশ কিংবা আর্মি সরকারের প্রতি নিয়মমত অনুগত থাকলেও রেগুলার বাহিনী বলে এগুলোতে সব সময় নিয়োগ হয় তাই পুরোপুরি কোন সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজ করে না। দলীয় ক্যাডার সুনির্দিষ্ট ভাবে নিয়োগ পায় তারাই পারে, সাথে কিছু উচ্চাকাংখী সদস্য। যেটা আগের কোহিনুর বা ইদানিং কার কিছু পুলিশ অফিসারদের কাজকারবার দেখে বুঝা যায়। এখনকার পুলিশে বিএনপি-জামাতের রিক্রুট অনেক লোক আছে, যারা জায়গা মত ঠিকই দলীয় প্রয়োজনে কাজে লাগে। পুর্ন আনুগত্যশীল পেটোয়া বাহিনী হিসেবে কাজকরতে পারে একমাত্র রাজনৈতিক মতবাদের ভিত্তি করে গড়ে তোলা বাহিনী, যা ছিলো আসলে রক্ষী বাহিনী।

ওবানের প্রশিক্ষনের যৌক্তিকতা অন্য জায়গায়। আর্মির কাছ থেকে এদের আলাদা করে রাখা, যেন আর্মির প্রভাব এদের উপর না পড়ে। পুরোপুরি শাসক দলের ইচ্ছায় চলে।

এটা আমারও মনে হয় যে আর্মির প্রতি শেখ মুজিব তথা আওয়ামীলিগের একটা ভীতি কাজ করতো পাকিস্তানী আমলের অভিজ্ঞতায়। যদিও নিজের প্রহরায় আর্মিকেই রেখেছিলেন শেখ মুজিব। হয়তো রক্ষীবাহিনী পেটোয়া বাহিনী হিসেবে উপযোগী ছিলো, নির্ভরযোগ্যতায় তেমন ছিলো না, সেটার প্রমান অবশ্য এরা ১৫ই অগাষ্টে রেখেছে।

সামরিক প্রশিক্ষন প্রাপ্ত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য রক্ষী বাহিনীর গঠন করে পরে পুলিশ বাহিনীতে আত্মীকরনের মাজেজা বুঝি নাই। সরসরি পুলিশের প্রশিক্ষনে দিলেই তো হৈতো। সময় লাগতো ট্রেনিং শেষ হৈতে, কারন অনেক ট্রেইনড যোদ্ধা। তবে টাকা যেহেতু সরকারেরই যাবে, তাই রক্ষী বাহিনীর ব্রীজের দরকার ছিলো না। আর এই আত্মীকরন পুরো শাসনামলেও সম্ভব হলো না? হলো আর্মির জোর করে ক্ষমতা দখলের পর? প্রথমেই পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে উনাদের আত্মীকরন করলে হয়তো ১৫ই অগাষ্টের নির্মম অঘটনটাও ঘটতো না।

আর ৭২তে শেখ মুজিব বা আওয়ামীলীগের বিরোধী কোন পক্ষ ছিলো না এটা কিভাবে বল্লেন? ৭২ই জাসদ তৈরী হলো। পুরো মুক্তিযুদ্ধের সময় বাম-পন্থীদের সাইড করে রাখার একটা চেষ্টা চলেছে, তাই মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার ভবিষ্যতে কোন বিরোধীতা আশা করেন নাই এইটা ভুল বলেই মনে হয়।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মলি,

ভাল কথা। বলতে মনে নাই, রক্ষীবাহিনী গঠনের প্রথম ২৬শে ডিসেম্বরের ঘোষনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন (যদিও রক্ষীবাহিনী নাম তখন দেওয়া হয়নি, বলা হয়েছিল এক প্যারামিলিটারি বাহিনী বা গণবাহিনী)। যিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর প্রধান বিরোধী, পুরো মুক্তিযুদ্ধ সময়কালে যাকে মুজিব বাহিনী নিয়ন্ত্রনে আনতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। মুজিব বাহিনীর নেতা শেখ মনির সাথে তাদের মৃত্যুর সময়কাল পর্যন্তও আর দ্বন্দ্ব কাটেনি।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাহাহা। আপনি কি বলতে চাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি। তবে আমার কাছে ঐ সময়কার হঠকারী কাজগুলো মধ্যে এটা একটা মনে হয়। ভুল সবাই করে, কিন্তু কিছু কিছু ভুলের মাশুল খুব বড় হয়ে যায়, পুরো জাতিকে ভোগায়।

কর্মসংস্থানের মহান আইডিয়া থেকে এর সুত্রপাত হলেও সেটা শেষ পর্যন্ত মহান থাকেনি। কারন গণতান্ত্রিক দেশে এই সব প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন শাসক গোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক প্রয়োজনেই লাগে।

আর মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে দলমত-নির্বিশেষে অংশগ্রহন যতটা প্রয়োজনীয় ছিলো, শাসনের জন্য সরকার তার প্রয়োজন বোধ করেন নাই বলেই মনে হয়। এটাই স্বাভাবিক। আন্দোলনে সবাই থাকলেও মাখন খায় অল্প কয়েকজন। যেমনঃ ৯০ এর গণ অভ্যুত্থান।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখানে দুটি বিতর্ক আছে। প্রথম হল যে রক্ষীবাহিনী গঠনের কি উদ্দেশ্য ছিল, ভাল নাকি মন্দ?

আরেকটি হল রক্ষীবাহিনীর চুড়ান্ত আউটকাম কি দেখা গেছিল?

দুই প্রশ্ন রিলেটেড হলেও নত নেসেসারি একি সূত্রে গাঁথা।

পরের জবাব নিয়ে কোন দ্বি-মত নেই, রক্ষীবাহিনী আওয়ামী সরকারের কপালে শেষ পর্যন্ত একটা কালো দাগ হয়েই ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে। তবে এরি ভিত্তিতে বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য নিয়ে অজ্ঞানতা প্রসূত বিতর্ক সঠিক নয়। আকাংখিত ফলাফল পাওয়া যায়নি বা আরো খারাপ হয়েছে এতেই প্রমান হয় না যে উদ্দেশ্য খারাপ ছিল। সে হিসেবে ছাগুদের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে হয় যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাই আসলে ছিল ভারতের হাতে দেশ তুলে দেওয়া, কারন স্বাধীন বাংলাদেশ যেভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে, পদে পদে ভারত বাঁশ দিয়ে যাচ্ছে আর সব সরকার মিউ মিউ করছে তাতে ছাগুদের এই যুক্তি অস্বীকার করি কিভাবে? পাক আমলে তো ভারত এভাবে ছড়ি ঘোরায়নি।

আমার দ্বিতীয় প্রশ্নে কোন দ্বি-মত না থাকলেও প্রথম প্রশ্নে ষ্পষ্টভাবে আছে, আমি মনে করি যে রক্ষীবাহিনী গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে কোন বদমতলব ছিল না, গঠনের সিদ্ধান্ত না নিলে দেশে অরাজকতা মহামারি আকারে দেখা দেবার অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনা ছিল।

আপনি '৭২ সালে জাসদের কথা তুলছেন, সে হিসেবে জাসদ নয়, কাগজে কলমে আরো অনেক বিরোধী দল যেমন ন্যাপ, কম্যুনিষ্ট পার্টি এসব ছিল। এসব সব দল যোগ করে আপনার মনে হয় যে তারা ততকালে আওয়ামী সরকার বা বংগবন্ধুর কোন রাজনৈতিক রাইভাল ছিল? আর আমি বার বার বলছি যে রক্ষীবাহিনী গঠনের পরিকল্পনা শুরু হয় ৭২ ও নয়, ৭১ সালের শেষ দিকে কলকাতায় মুজিব নগর সরকারে। মুজিব নগর সরকার বিজয় নিশ্চিত এটা ধরে নিয়েই স্বাধীন দেশে কি কি সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ আসতে পারে সে সবের ব্যাবস্থা চিন্তা করছিল। তার একটা উদাহরন ছিল এটা। সে সময় জাসদ কোথায়?

প্রথম সরকারী ঘোষনা এসেছিল ২৬শে ডিসেম্বর '৭১ এ। তখন কোথায় জাসদ আর তাদের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্রের বিপ্লব?

বাংগালী নিজেরাই নিজেকে ঠিকমত চেনেনি। এর অন্যতম কারন স্বাধীনতার মূল্য বড় বেশী কম হয়ে গেছিল। প্যালেষ্টাইন বা তীব্বতিদের মত বছরের পর বছর ভুগলে, অন্য দেশে ভেসে বেড়ালে হয়ত মূল্য বোঝা যেত।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আলোচনা জমে উঠেছে।

রক্ষীবাহিনীতে চাকুরী করা দু'একজনের সাথে আলাপ হয়েছে। এবাহিনীর প্রয়োজন ছিল বলে তারা এতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এবাহিনীর কিছু বাড়াবাড়ি যে ছিলনা, তা নয়।

আর আর্মড পুলিশ গঠন করাটা ছিল সবচেয়ে সঠিক কাজ। সেটা তখন করা হলে, অহেতুক ঝামেলা হইত না বলেও তারা মনে করেন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ফেসবুকে লিংক দেখে এই পোস্টে চলে আসলাম লিংকের নিচে সালমান খান নিবিরের নামের এক ভদ্রলোক বলেছেন---

রক্ষী বাহিনী না থাকলে আমার মুক্তিযোদ্ধা পিতার আর বাচা লাগতনা, তৎকালীন সিরাজ শিকদার বাহিনী আওয়ামী লীগ আর মুক্তিযোদ্ধা পেলেই মাইরা ফেলত আমার বাবা ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন, পরে সিরাজ শিকদার রে এস পিঁ মাহবুব মারেন যদিও




পুরা পাকিস্তান জামানায় আর্মি সামান্য ছুতা পেলেই কু করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং রাজনীতিবিদের জেলে পুরেছে আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবকে তো বাইরের দুনিয়া সাথে সম্পর্কহীন করে বন্ধ করে রাখে ২৫ মার্চে পাকিস্তান আর্মির হাত গ্রেপ্তার হয়ে সেইখানে সামরিক আদালতের বিচারের অভিজ্ঞতাও তার জন্যে সুখকর হয়নি

রক্ষি বাহিনী গঠনের চিন্তাভাবনা খানা এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে উদিত হয়েছে রক্ষি বাহিনীর ট্রেনিং এর সময়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ব্যবস্থার এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার ট্রেনিং দেওয়া হতো এর প্রভাব যে ভালো ছিল বলা যায় কারন পরবর্তীতে যতোগুলা কু হয়েছে তার একটাতেও রক্ষি বাহিনীর কোন সদস্য অংশগ্রহণ করেন নি ।

আর্মাড পুলিশ ব্যাটেলিয়ান গঠনের আইডিয়া জিয়াউর রহমানের মাথা থেকে আসছে
রক্ষি বাহীনির মতো আর্মাড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের আনঅফিসিয়াল উদ্দেশ্যে ছিল কিন্তু একই আর্মির মধ্যে কুয়ের চেষ্টা করা হলে আর্মাড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের দিয়ে তা কাউন্টার করা রিক্রুটমেনট নিচের লেভেলের সিলেকেশন প্রসেসের ব্যাপারটা কিভাবে করা হতো আমার আইডিয়া নাই কিন্তু উপরের লেভেলে জিয়ার অনুগত আর্মি অফিসারদেরকেই ডেপুটেশনে নিয়োগ করা হয়েছিল আর্মাড পুলিশ ব্যাটেলিয়ানের অস্ত্রশস্ত্র যানবাহন ছিল আর্মির মতোই উন্নত

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

বাংলাদেশে কোন বাহিনী বাড়া-বাড়ি করে নাইক্কা।

_____________________

ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাহাহা। এইভাবে দেখলে তো আসলে সমালোচনা-আলোচনের দরকারই নাই। যা হৈছে আগে, তাই হৈবে পরে ধৈরা নিয়া চুপচাপ বৈসা থাকতে হবে।

-------------------------------------------------------------------------------------------------------
রাজাকার ইস্যুতে মানবতা মুছে ফেল টয়লেট টিস্যুতে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ঐ সময়ে রক্ষীবাহিনী গঠন করার চাইতে সেনাবাহিনীর সিনিয়রদের সরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনীকে নতুনভাবে সাজালে বেশি ভালো হত।


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গায়ে পোষাক আর হাতে অস্ত্র পেলে বাংগালী নিজেকে মনে করে ঈশ্বর।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা প্রশ্ন এখানে এসেছে, পুলিশ বাহিনী বা সেনা বাহিনী দিয়ে কি কাজ চলতো না? কেন আলাদা একটা বাহিনী সৃষ্টি করা হলো! আমি সে সময়ের মোটিমুটি চাক্ষুষ স্বাক্ষী, আমি জানি চলতো না। সেনাবাহিনী দেশের অপরাধ দমন, অস্ত্র উদ্ধার, আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার বাহিনী নয়, এতে হিতে বিপরীত হয়। আর স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে পুলিশ বাহানীর কোন গ্রহনযোগ্যতা ছিল না, পুলিশ বাহিনীর সিংহভাগ সদস্য পাকিস্তান সরকারের অধীনেই চাকুরী করার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশের পক্ষে তখন তেমন কিছু করা ছিল অসম্ভব ব্যাপার।

_____________
কবে কোন প্রদোষকালে
এসেছিলে হেথা হে প্রাকৃতজন
এ বিলের জেলেদের জালে
পেয়েছিলে কবে সে রুপকাঞ্চন


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ড: জাফর ইকবালের মা আয়েশা ফয়েজের লেখা "জীবন যে রকম" রকম বইয়ে রক্ষী বাহিনীর পরিচয় পাওয়া যায়।
http://amarblog.com/%E0%A6%AC%E0%A7%81-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%A6/posts/139109

ছয় সন্তান নিয়ে বিধবা সেই মহিলা স্বামী হত্যার বিচার তো পাননি বরং স্বাধীন দেশে শহীদ পরিবার হয়েও চরম জিল্লতির শিকার হয়ে ছিলেন পাঠকদের জন্য লজ্জাজনক সেই বর্ণনা তুলে ধরা হলো।
“একজন সুবেদার মেজর (রক্ষীবাহিনীর) এসে জিজ্ঞেস করল, এ বাড়ি আপনি কোথা থেকে পেলেন? আমি বললাম, সরকার আমাকে দিয়েছে। আমার স্বামী যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন তাই। সুবেদার মেজর কিছু না বলে চলে গেল। আমার মনের ভেতর হঠাৎ করে একটা খটকা লেগে গেল, হঠাৎ করে রক্ষী বাহিনী আসছে কেন? খানিকক্ষণ পর হঠাৎ করে আরেকজন সুবেদার মেজর হাজির। সে একা নয়, তার সাথে এক ট্রাক বোঝাই রক্ষীবাহিনী। সবার হাতে অস্ত্র। সুবেদার মেজরের নাম হাফিজ, ভেতরে ঢুকে বলল, এই বাড়ি আমার। শেখ সাহেব আমাকে দিয়েছেন।

আমি বললাম, সে কি করে হয়? আমার কাছে বাসার অ্যালটম্যান্ট রয়েছে- সে কোনো কথা না বলে টান দিয়ে ঘরের একটা পর্দা ছিড়ে ফেলল। সাথে আসা রক্ষীবাহিনীর দলকে বলল, ছেলেমেয়েদের ঘার ধরে বের কর। আমি এতদিনে পোড় খাওয়া পাথর হয়ে গেছি। রুখে দাঁড়িয়ে বলেছি, দেখি
তোর কত বড় সাহস। ...কাজল মুহসীন হলে ছিল, খোঁজ পেয়ে এসেছে,তাকেও ঢুকতে দিলো না। সারা রাত এভাবে কেটেছে। ভোর হতেই আমি বের হলাম। পুলিশের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইলাম। তারা বললো, আমরা গোলামীর পোশাক পড়ে বসে আছি! রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা কি করব?
বঙ্গভবন , গণভবন এমন কোনো জায়গা আমি বাকি রাখলাম না সাহায্যের জন্য। কিন্তু লাভ হলো না। আমি তুচ্ছ মানুষ, আমার জন্যে কার এত মাথাব্যথা। রাতে ফিরে এসেছি। আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেবে না, অনেক বলে ভেতরে ঢুকেছি। রাত আটটার সময় রক্ষীবাহিনীর দল হঠাৎ করে লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেল। ইকবাল আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়েছে, একজন বেয়োনেট উঁচিয়ে লাফিয়ে এলো। রাইফেল তুলে ট্রিগারে হাত দিয়েছে, চিৎকার করে কিছু একটা বলছে, গুলি মেরে ফেলবে আমাদের? আমি ছেলেমেয়েদের হাত ধরে বের হয়ে এলাম। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমাকে প্রথমবার গৃহহারা করেছিল। বাংলাদেশ সরকারের রক্ষীবাহিনী আমাকে গৃহহারা করল। (প্রাগুক্ত, পৃ.৯২-৯৩)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ভাল উদ্যোগ, আর জানতে চাই। আর তথ্যবহুল লেখা দরকার। পিয়াল ভাইয়ের লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আসবে আমাদেরও দিন....

glqxz9283 sfy39587p07