রাজাকার ফিরোজ মাহাবুব কামালের লাদি
লিখেছেন: নীড় সন্ধানী
রাজাকার ফিরোজ মাহবুব কামাল নিজের ওয়েব সাইটের বিষ্ঠাগুলো দেশব্যাপী ছড়ানোর জন্য বিভিন্ন নিকে নানান ব্লগে সক্রিয়। আমি তার অন্ততঃ দুটি নিকের সন্ধান পেয়েছি আমার ব্লগ ও প্রথম আলো ব্লগে।
সে আমারব্লগে লাদে carefullycareless নিক নিয়ে (http://amarblog.com/author/carefullycareless)
আর প্রথমআলোতে লাদে “একজন ব্লগার” নিক নিয়ে (http://prothom-aloblog.com/users/base/blogger)
নীচে তার লাদির কিছু অংশ তুলে দিলাম। তারপর যার যা খুশী দিতে পারেন তাকেঃ
***********************************************************
অধ্যায় ১: ইতিহাসের নামে মিথ্যাচারঃ
যারা দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত করলো,গণতন্ত্রকে পাঠালো নির্বাসনে এবং মানুষকে পাঠালো ডাষ্টবিনের পাশে কুকুরের সাথে উচ্ছিষ্ঠ খোঁজের লড়াইয়ে তাদেরকে আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বলা হচ্ছে বস্তুত সে পরিকল্পনারই অংশ রূপে। এ মিথ্যাচারের আরেক বড় লক্ষ্য,একাত্তরে বাংলার মুসলামানদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী বিভক্তি সৃষ্টি হল,সেটিকে স্থায়ী রূপ দেয়া। বিভক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচেছ। এ লক্ষ্যে একাত্তরে দালাল শব্দটির মত অতি বিষপূর্ণ শব্দের প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে। যারাই একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল তাদেরকেই দালাল বলে তীব্র ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে।
……………………………………
……………………………………
বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে ফজলুল কাদের চৌধুরি, আব্দুস সবুর খান,শাহ আজিজুর রহমান,নূরুল আমীন,ডাঃ আব্দুল মালেক (যিনি ৭১-এ পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ছিলেন) এবং আরো অনেক পাকিস্তানপন্থি নেতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের ভাগ্য পরিবর্তনে ১৯৪৭-এর পূর্বে ও পরে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অথচ তাদেরকে দালাল ও খুণি বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, ফজলুল কাদের চৌধুরি, আব্দুস সবুর খান, খাজা খয়ের উদ্দিন নাকি হুকুম দিয়ে মানুষ খুণ করিয়েছেন।
……………………………………
……………………………………
স্বাধীনতার হেফাজতে ভারতীয় হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তান দুই-দুইটি যুদ্ধ লড়েছে। আণবিক শক্তিধারি এ দেশটি এখনও তেমন লড়াইয়ে প্রস্তুত। কিন্তু সে সামর্থ কি বাংলাদেশের আছে? আর না থাকলে স্বাধীনতাই বা থাকে কতটুকু? স্বাধীনতার সুরক্ষায় অক্ষমতাই কি পরাধীনতা নয়?
অধ্যায় ১০: জেনেবুঝে রক্তপাতের পথ বেছে নেওয়া হয়ঃ
উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচিত এমপিগণ কি অধিকার রাখেন উত্তর বঙ্গকে বাংলাদেশের অন্য এলাকা থেকে আলাদা করে স্বাধীন করার? আওয়ামী লীগ বলে,১৯৭১-এর ২৫ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সে ঘোষণাটি তিনি দিলেন কোন ম্যান্ডেট অনুযায়ী?
……………………………………………………….
……………………………………………………….
কোথা থেকে তিনি অধিকার পেলেন পাকিস্তান ভেঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মানের? তবে কি তিনি সেটি স্বাক্ষর করেছিলেন জনগণকে এবং সে সাথে পাকিস্তান সরকারকে ধোকা দিতে? স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি কি তবে ধোকাবাজি? স্বাধীনতার ঘোষণা কি এজন্য যে, ২৫শে পাকিস্তান আর্মির হাতে ঢাকার অনেক বাঙালী মারা গিয়েছিল? ২৫ শে মার্চ রাতে যত জন মারা গিয়েছিল, মুজিব আমলে রক্ষি বাহিনীর হাতে তার চেয়ে বেশী মানুষ মারা গিয়েছিল উত্তরবঙ্গে। অনেক প্রাণহানী হয়েছিল একমাত্র আত্রাইয়ের একটি ক্ষুদ্র এলাকায়। সে কারণে কি উত্তরবঙ্গের এমপিগণ স্বাধীনতা ঘোষনা করবে?
……………………………………………………….
……………………………………………………….
কোন দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কি সে দেশের সংখ্যালঘুদের থেকে আলাদা হয়? আলাদা হতে চায়নি ইসলামপন্থিরাও। কিন্তু এজন্য কি তাদের যুদ্ধাপরাধী বলা যায়? মুসলিম উম্মাহর শক্তিহানির লক্ষ্যে শত্রু-পক্ষ সব সময়ই মুসলিম দেশের অভ্যন্তরে সহযোগী মিত্র খুঁজে। এসব শত্রুরাই বিশেরও বেশী টুকরায় বিভক্ত করেছে অখন্ড আরবভূমিকে
……………………………………………………….
……………………………………………………….
শেখ মুজিব ও তার সহযোগিরা পাকিস্তান আমলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত এ ষড়যন্ত্রে জড়িত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বাংলাদেশ সৃষ্টির পর এটিকে নিজেদের জন্য অহংকার রূপে জাহির করেন। পাকিস্তান ভাঙ্গার সে ষড়যন্ত্রকে প্রচার করেন দেশপ্রেম রূপে।
……………………………………………………….
……………………………………………………….
বহু সাধারণ মানুষ, মুসলিম ও জামায়াত কর্মী, মাদ্রাসার ছাত্র, অন্যান্য পাকিস্তানপন্থি দলের রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থক সেদিন অস্ত্র হাতে দেশের অফিস, রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট পাহারা দিয়েছে। বহু হাজার নিহতও হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতি তাদের অঙ্গিকার এতই অটল ছিল যে ভারতীয় বাহিনীর বিজয়ের পর হাত-পা বেঁধে তাদের উপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে এবং জয়বাংলা শ্লোগান বলতে বলা হয়েছে,জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে তাদের গায়ে জয়বাংলা লেখা হয়েছে,কিন্তু তারপরও সে শ্লোগান তারা উচ্চারণ করেনি।কালেমা শাহাদত পড়তে পড়তে তার মুক্তিবাহিনীর বেয়নেট চার্জে নিহত হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পনের পরও কিশোরগঞ্জের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আতাহার আলী ও তার হাজার হাজার সমর্থক পাকিস্তানের পতাকা নামাতে অস্বীকার করেছিলেন।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণকে তিনি হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন।ইসলামে চেতনাসমৃদ্ধ প্রতিটি ব্যক্তিদেরকে স্যেকুলার রাজনৈতিক নেতা ও বুদ্ধিজীবীগণ আজও যে কারণে রাজাকার বলে তা তো সে অভিজ্ঞতা থেকেই। কারণ তারা নিজেরাও ভাবতে পারে না,ইসলামি চেতনাসমৃদ্ধ কোন ব্যক্তি পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ সৃষ্টির সমর্থক হবে। বাংলাদেশের সৃষ্টি যে নিছক সেকুলার প্রজেক্ট,সেটি তারা নিজেরাও বুঝে।
অধ্যায় ১১: রক্তপাত হয়েছে তিনটি পর্যায়েঃ
২৫শে মার্চ রাস্তায় নামে সামরিক বাহিনী। তখন শুরু হয় হত্যাকান্ডের নতুন পর্ব। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা বা ক্যান্টনমেন্ট আছে এমন শহর গুলোর উপর দখল জমালেও অধিকাংশ মফস্বল জেলা ও মহকুমা শহর আওয়ামী লীগ বাহিনীর দখলে চলে যায়। ঢাকাতে সামরিক অ্যাকশনে বহু বাঙ্গালী নৃশংস ভাবে মারা যায়। কিন্তু মফস্বল শহরগুলোতে সামরিক বাহিনী পৌছতে পারিনি। ফলে বিভিষিকা নেমে আসে সেখানে অবস্থানরত অবাঙ্গালীদের উপর। এমন কি মফস্বল শহরগুলোতে সে সময় যে সব পাকসেনা ছিল তারা সবাই মারা পড়েছিল।
……………………………………………………….
……………………………………………………….
একাত্তরে কোন পক্ষে কতজন এবং কাদের হাতে কত জন মারা গেল সে হিসাবটি জেনেবু্ঝেই নেয়া হয়নি।সে হিসাবটি নেওয়া হলে জানা যেত,বেশী হত্যাকান্ড ঘটেছিল কাদের হাতে।সম্ভবতঃ বেশীর ভাগ হত্যাকান্ড হয়েছিল আওয়ামী-বাকশালীদের হাতে,আর সে সত্যটি লুকাতেই হত্যাকান্ডের কোন রেকর্ডই রাখা হয়নি।
……………………………………………………….
……………………………………………………….
নয় মাসের যুদ্ধে যে মুক্তি বাহিনী পুরা বা আধা বাংলাদেশ দুরে থাক একটি জেলা শহরকেও অধিকারে নিতে পারেনি তাদেরকেই বিজয়ের মূল নায়ক রূপে হাজির করা হচ্ছে। তবে এটি সত্য,উপমহাদেশে মুসলমানদের শক্তি খর্বকরণে এবং মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দুর্বল করতে শেখ মুজিব ও তার অনুসারিগণ যা করেছে ইতিহাসে তার তুলনা বিরল। এজন্যই মুসলিম দুষমন সকল ব্যক্তি ও শক্তির কাছে তিনি অতিশয় পুজনীয় ব্যক্তি।
***************************************************************************






একটা সুখবর!!!
আমার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এইমাত্র প্রথমআলো ব্লগে ব্যান করা হয়েছে “একজন ব্লগার” নিকের রাজাকার ফিরোজ মাহবুব কামালের বাচ্চারে।
http://prothom-aloblog.com/users/base/uniresources/24
গেদু চাচা ১৮/১১/০৮ ১২:৪৬ অপরাহ্ন
অনেক অনেক ধণ্যবাদ নিড়দা
মামোর শুভ বুদ্ধির উদয় হইছে তাইলে দেখা যাচ্ছে। আমরা তো মুলত এইগুলোই বলতে চাই, কিন্তু ব্যান এর ভয় দেখায়।
নীড় সন্ধানী ১৮/১১/০৮ ১২:৫০ অপরাহ্ন
ধরা শক্ত আছিল। সংবিধান নিয়া ধরছি তো?
গেদু চাচা ১৮/১১/০৮ ১২:৫২ অপরাহ্ন
হুমমম , বুঝতে পারছি। ধন্যবাদ আপনাকে।
মলিকিউল ১৮/১১/০৮ ১২:৫২ অপরাহ্ন
কংগ্র্যাটস নীড়দা। এইটা খুব ভালো একটা কাম করছেন। হেগো কষ্ট হইছে, তবুও মুখ রক্ষার্থে ব্যান করলো আর কি!
নীড়দা ইগনোর করেন এইটারে।
কেউ না পড়লেই এর আর প্রচার হইবো না।
নীড় সন্ধানী ১৮/১১/০৮ ১:১০ অপরাহ্ন
ইগনোর তো কইরাই চলি। কিন্তু মুশকিল হইল শালারা সামনে পড়ে ক্যা? সামনে পড়লে তো লাথি না দিয়া উপায় থাকে না। আমি ওদের বলি তোরা পেচালিতে গিয়া মর। নয়াদিগন্তে গিয়া মর। তবু আমাদের এখানে আসিস না। এত লাথি দেবার বয়স এখন নাই। বয়সকালে বহুত লাইথথাইছি।
কিন্তু শালারা নির্লজ্জ। দেখেন না আমারব্লগে ব্যানের সিষ্টেম নাই বলে ইচ্ছা মত কপি পেষ্ট মারতাছে।
এই হারামি গুলা ভাইরাসের মত।
ইগনোর করলেও ্যায় না।
ট্র্যাকব্যাকঃ
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!
আমার মেনু
নীড় সন্ধানী
এই পর্যন্ত 200 টি ব্লগ লিখেছেন
প্রিয় পোস্ট
1 জন ব্যবহারকারি এই পেইজটি পড়ছেন!
1 জন অতিথি
সদস্যরা হলেনঃ