Skip to content

আগুনঝরা ফাল্গুনে মানুষের জাগরণ

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন না কি ? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
(আরেক ফাল্গুণ- জহির রায়হান)
---------------------
---------------------

ফাল্গুন সবসময়ই বিপ্লব ও নবজাগরণের প্রতীক। শীতের রাজত্বের পতন ঘটিয়ে প্রকৃতিকে নতুন করে সাজায়, গাছে গাছে ফুল ফোটায়, প্রাণের উদ্যোমের নব জোয়ার আসে সর্বত্র- যেন দানবের হাত থেকে বন্দী রাজকন্যাকে মুক্তির স্বাদ দিতে এল ফাল্গুন নামের দূরন্ত রাজকুমার। আমাদের জাতীয় জীবনেও ফাল্গুনকে দেখি টগবগে তরূনের রূপে- যার প্রতিটি স্পর্শে আন্দোলন ও রক্তের ইতিহাস মিশে আছে।

বায়ান্নর ফাল্গুণে রাজপথ কেঁপেছিল ভাষার দাবিতে, রক্ত ঝরেছিল বরকত-জব্বার-শফিউর-সালাম-রফিকের দেহ থেকে, বাতাসে গর্জে উঠেছিল "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই" দাবী। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুলিশের গুলিতে রাজপথে লুটিয়ে পড়ে দেশমাতৃকার দামাল ছেলেরা, আমার ভাইএর রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারির করূণ সুর বেজে ওঠে আপামর বাঙ্গালীর হৃদয়ে, কন্ঠে সে গান কঠোর স্লোগান হয়ে ওঠে।
উল্লেখ্য যে, আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত ও শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুরের "আমার ভাই এর রক্তে রাঙ্গানো" গানটি একুশের সংগীত হওয়ার পূর্বে ১৯৫৩-১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের "ভুলবো না ভুলবো না, একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না" ছিল একুশের প্রভাতফেরির গান।

ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে−রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচুড়া
গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য−বাংলার জন্য।

যারা গুলি ভরতি রাইফেল নিয়ে এসেছিল ওখানে
যারা এসেছিল নির্দয়ভাবে হত্যা করার আদেশ নিয়ে
আমরা তাদের কাছে
ভাষার জন্য আবেদন জানাতেও আসিনি আজ।
আমরা এসেছি খুনি জালিমের ফাঁসির দাবি নিয়ে।
(কাঁদতে আসিনি, ফাঁসীর দাবি নিয়ে এসেছি- মাহবুব উল আলম চৌধুরী)

"সেদিন শেষ দুপুরে (এলিস কমিটির ভাষ্যমতে বেলা তিনটা বিশ মিনিটে) গুলি চালানোর পর যে দৃশ্যের জন্ম তার সবটাই ভয়ানক এক আবেগে গড়া ছবি- ক্রোধ কান্না আর শাসক-বিদ্বেষী আবেগের ঢেউ। এই ব্যারাকেরই জনৈক ছাত্র নিচু হয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ রফিকুদ্দিনের ছিটকে পড়া মগজ সযত্নে স্ট্রেচারে তুলে রাখছে শহীদ ছাত্রটির শিয়রে; সে এক অদ্ভুত অনুভব। তেমনি আরো কয়েকজন ছাত্র বিশ নম্বর ব্যারাকের সামনে থেকে গুলিবিদ্ধ জব্বারকে ধরাধরি করে নিয়ে যাচ্ছে এমারজেন্সিতে, তার লুঙ্গি রক্তে ভেজা। অন্যরা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে আবুল বরকতকে বারো নম্বর ব্যারাকের বারান্দা থেকে, রক্তে প্যান্ট ভেজা।" (আহমদ রফিক- ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা)

"মেডিক্যাল হোস্টেল কম্পাউন্ডের ভেতরে অ্যাসেম্বলি হলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় দেখতে পেলাম রাস্তা থেকে প্রথম ব্যারাকটির বারান্দায় একটি লোক চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এগিয়ে গিয়ে দেখি, লোকটি অজ্ঞান। তাঁর একটি পায়ের পাতা গুলির আঘাতে রক্তাক্ত। ওখান থেকে রাস্তার পাশে এসে দাঁড়ালাম। এমন সময় এমএলএ আলী আহমেদ হেঁটে অ্যাসেম্বলির দিকে যাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে চিনতাম না। আমার পাশ থেকে একজন তাঁকে সম্বোধন করে বলে উঠল, 'হে আলী আহমেদ, এদিকে আসেন, দেখে যান।' আলী আহমেদ সাহেব ফিরে হোস্টেলের গেটের দিকে এলে আমরা কয়েকজন দৌড়ে গিয়ে গেটের কাছ থেকে তাঁকে নিয়ে দ্বিতীয় ব্যারাকের বারান্দায় নিয়ে গেলাম, যেখানে আবুল বরকতের জমাটবাঁধা রক্ত ছড়িয়ে আছে। আলী আহমেদ সাহেব স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। একজন ছাত্র, যতটুকু মনে আছে ফিজিকসের ফজলে আলী, বরকতের কিছু রক্ত তুলে আলী আহমেদ সাহেবের বাম কাঁধে কালো শেরওয়ানিতে মাখিয়ে দিয়ে বলল, 'এই চিহ্নটুকু অ্যাসেম্বলি হলে নিয়ে যান।' ওখান থেকে আলী আহমেদ সাহেবকে প্রথম ব্যারাকের বারান্দায় নিয়ে গেলাম। তিনি তাও দেখলেন এবং বললেন, তিনি যা দেখেছেন, তা অ্যাসেম্বলিতে গিয়ে বলবেন।" ( সূত্র- ভাষাসৈনিক ডঃ জসিমুদ্দীন )

পরদিন শুক্রবার ঢাকা একদিকে যেমন হয়ে ওঠে স্লোগান আর মিছিলের শহর তেমনি একই সাথে শোকের শহর, কালোপতাকা আর কালোব্যাজের শহর হয়ে ওঠে। তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকরা লাশ নিয়ে মিছিল করতে দেবে না, জনতাকে উত্তেজিত হওয়ার সূযোগ দেবে না তাই মাঝরাতে চোরের মতন সবার অজ্ঞাতে লাশ নিয়ে গিয়ে কবর দিয়ে দেয়। পরদিন একুশের চেতনায় জাগ্রত জনতা লাশের অনুপস্থিতে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি হাতে নেয়। টানা চারদিন শহরের দোকানপাট গাড়িঘোড়া বন্ধ রাখা হয়, টাউন সার্ভিস ব্যাংক, সিনেমা হল, স্টেশন, ঢাকা রেডিও বয়কট করে বাঙ্গালীরা। শহরের সর্বত্র ছিল সৈন্য বোঝাই ট্রাক, দৈনিক আজাদের ভাষায় "গোটা শহর যেন সামরিক ছাউনি"। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে প্রথম শহীদ মিনার তৈরী করা হয় যার নেতৃত্বে ছিলেন গোলাম মাওলা, বদরুল আলম, সাইদ হায়দার, আহমদ রফিক, শরফউদ্দীন প্রমুখ।

এ-কোন মৃত্যু? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন,
শিয়রে যাহার ওঠে না কান্না, ঝরে না অশ্রু?
হিমালয় থেকে সাগর অবধি সহসা বরং
সকল বেদনা হয়ে ওঠে এক পতাকার রং
এ-কোন মৃত্যু? কেউ কি দেখেছে মৃত্যু এমন,
বিরহে যেখানে নেই হাহাকার? কেবল সেতার
হয় প্রপাতের মহনীয় ধারা, অনেক কথার
পদাতিক ঋতু কলমের দেয় কবিতার কাল?

ইটের মিনার ভেঙেছে, ভাঙ্গুক. একটি মিনার গড়েছি আমরা
চার কোটি কারিগর
বেহালার সুরে, রাঙ্গা হৃদয়ের বর্ণলেখায়।
পলাশের আর
রামধনুকের গভীর চোখের তারায় তারায়
দ্বীপ হয়ে ভাসে যাদের জীবন, যুগে যুগে সেই
শহীদের নাম
এঁকেছি প্রেমের ফেনিল শিলায়, তোমাদের নামে।
তাই আমাদের
হাজার মুঠির বজ্র শিখরে সূর্যের মতো জ্বলে শুধু এক
শপথের ভাস্কর। (আলাউদ্দিন আল আজাদ)


---


একটি কবিতা লেখা হবে, তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে
লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে
ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে: ‘কখন আসবে কবি?’

তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হূদয়ে লাগিল দোলা,
জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার সকল দুয়ার খোলা।
কে রোধে তাঁহার বজ্রকণ্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর
অমর কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের। (নির্মলেন্দু গুণ)


এই ফাল্গুণেই আমাদের মুক্তির ডাক আসে, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের সূচণা ঘটে। ফিরে যাই সেই একাত্তরের উত্তাল মার্চে। তারিখটা সাত। রৌদ্রজ্জ্বল এক বিকালে সোনালী যুবরাজ ময়দানে নিয়ে এলেন স্বাধিকারের বার্তা, দৃঢ় প্রত্যয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে পাকিস্তানী শাসকের বিরুদ্ধে রণের ঘোষণা দিলেন।
সেদিনের ভাষণের মূল কয়েকটি দিক-
* সামগ্রিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা ;
* নিজ ভূমিকা ও অবস্থান ব্যাখ্যা ;
* পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিকদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত ;
* সামরিক আইন প্রত্যাহারের আহবান ;
* অত্যাচার ও সামরিক আগ্রসন মোকাবিলার হুমকি ;
* দাবী আদায় না-হওয়া পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানে সার্বিক হরতাল চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা ;
* নিগ্রহ ও আক্রমণ প্রতিরোধের আহবান।


"৭ মার্চ। আমার জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ৭ মার্চের সকাল থেকেই আমি ছিলাম বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সঙ্গে। ঠিক হলো তিনটি গাড়ি আমাদের সঙ্গে রেসকোর্সে যাবে। দুইটি গাড়িতে থাকবে যাদের গোঁফ আছে এবং তাদের পরণে থাকবে পাঞ্জাবি। চুল থাকবে ব্যাক ব্রাশ করা। সামনের গাড়িতে আমরা। ঠিক দুইটার সময় ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে বের হন বঙ্গবন্ধু।
আমি অত্যন্ত চিন্তিত ছিলাম। কোনো অঘটন ঘটে কিনা! তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র চারদিকে। বলা হয়েছিল-কমান্ডো অ্যাটাক করে হত্যা করা হবে। আকাশে হেলিকপ্টারও ঘুরছে। অ্যাটাক হলে বাঁচানো যাবে না।
৩২ নম্বর থেকে এলিফ্যান্ট রোড, তৎকালীন পিজি হাসপাতালের পাশ দিয়ে রেসকোর্সে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যাওয়ার কথা।
যাত্রার শুরুতেই তাৎক্ষণিকভাবে আগের সব পরিকল্পনা বদলে ফেলি। আমি কৌশলটা নিলাম-যেভাবে যাওয়ার কথা ওভাবে যাবো না। বঙ্গবন্ধুকে আমাদের গাড়িতে তুললাম। গাড়ির ভেতরে বঙ্গবন্ধুকে রেখে আমরা এমনভাবে দাঁড়ালাম যাতে তাকে দেখা না যায়।
এবার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রওনা দিলাম নিউমার্কেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে হাইকোর্টের পাশ দিয়ে রেসকোর্সের পথে। বিশাল জনতার ঢেউয়ের মধ্যে সোজা মঞ্চে উঠলেন তিনি। পিছনে দাঁড়িয়ে মহিউদ্দিন, আমি আর গাজীউল হক। সমাবেশে কোনো সভাপতি ছিল না।
গিয়েই বঙ্গবন্ধু আমাকে বলেন, “মাইকটা দে।”
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু-স্লোগান দুটি দিতে দিতেই বঙ্গবন্ধুকে মাইক দিই।
এর পরের ঘটনাতো ইতিহাস। ১৭ মিনিটে ঐতিহাসিক ভাষণটি শেষ করেন তিনি।
লাখ-লাখ মানুষ দাঁড়িয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন প্রতিটি কথা। আর আমার প্রতিটি মুহুর্ত ছিল আশঙ্কার। কারণ, মাথার উপরে তখনো হেলিকপ্টার ঘুরছে।
ওই ভাষণেই সব নির্দেশনা পেয়ে গেলাম আমরা। জাতির জনক ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, ডাক দেন স্বাধীনতা সংগ্রামের। মনে হল, আজকে থেকেই আমরা লডাই শুরু করে দিলাম। দেশ স্বাধীন হবেই। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।" ( আব্দুর রাজ্জাকের স্মৃতিচারণ )

---

বাঙ্গালী স্বাধীনতা আদায় করে নেয় একাত্তরের পৌষে। কিন্তু এর এক যুগের ভেতরই আরেক ফাল্গুণে আবার বাঙ্গালী জনতাকে আন্দোলনে নামতে হয়, কন্ঠে আবারও অন্যায়ের প্রতিবাদে স্লোগান ধরে বুকে গুলি খেতে হয় রাজপথে।
সালটা ১৯৮৩, ১৪ ফেব্রুয়ারী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ছাত্র জমায়েত। মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দী মুক্তি ও জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে এই ছাত্র জমায়েত। সেটাই পরিণত হল বুট ও বুলেটের দমনে পিষ্ট জনতার এক বিরাট প্রতিরোধে। জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালীসহ সারাদেশে প্রাণ দিল ১০ জন। সেই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ চেতনার দিন। দিনটি পালিত হতো 'স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস' হিসাবে। স্বাধীন দেশে স্বৈরশাসকের অপশাসণের পতন ঘটাতে চেয়েছিল বাংলার কিছু তরুণ।

"রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরপরই এরশাদপ্রবর্তিত অধ্যাদেশ মোতাবেক তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন।এরশাদ সরকার শুরু থেকেই ইসলাম ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার ও কলুষিত করছিলেন,যার প্রতিফলন শিক্ষানীতিতেও পড়ে।একই সঙ্গে শিক্ষার ব্যপক বাণিজ্যীকরণ করা হয় এবং শিক্ষাব্যয় বাড়ানোর সাথে সাথে শিক্ষাখাতে সরকারি ভর্তুকি ও কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।১৭ই সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি জানিয়ে শুরু হয় মজিদখান শিক্ষানীতি বিরোধী আন্দোলন।সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করে।সাথে চলে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত গড়ে তোলার কাজ।ছাত্রদের এই কর্মকান্ড কে দমাতে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ নেতা ও তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুক কে গ্রেফতার করলে ছাত্ররা আরো ফুঁসে উঠে।১৯৮৩ সালের ২৭ ও ২৮শে জানুয়ারি সারাদেশে ছাত্রধর্মঘট ও ১৪ই ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেয়া হয়।
কি হয়েছিলো ১৪ই ফেব্রুয়ারি?
ঘেরাও কর্মসূচির মিছিল সচিবালয় অভিমুখে যাত্রাপথে হাইকোর্ট গেট ও কার্জন হল এলাকায় ব্যারিকেডের সামনে পড়লে মিছিলের সম্মুখে থাকা শতাধিক ছাত্রী ও সাধারণ ছাত্র রা রাস্তায় বসে পড়ে এবং ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতা রা বক্তৃতা দেয়া শুরু করেন।হঠাৎ ব্যারিকেড সরিয়ে সরকারি রায়ট কার মিছিলে গরম রঙিন পানি ছিটাতে শুরু করে,সাথে পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ।ছাত্রদের পাল্টা ইট-পাটকেলের জবাবে পুলিশ গুলি করতে শুরু করে।এ সময় গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল নামের এক ছাত্র।পরে তাঁকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে পুলিশ।একই সময় শিশু একাডেমীর অনুষ্ঠানে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মারা যায় দীপালী সাহা নামের এক শিশু,যার লাশ পরবর্তীতে গুম করে ফেলা হয়।এই সময় চট্টগ্রামে মিছিলে গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কাঞ্চন।
পুলিশ সেদিন হত্যা করেই স্থির থাকে নি,পুরো ক্যাম্পাসে আর্মি-বিডিআর এক যুদ্ধপরিস্থিতির সৃষ্টি করে।অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে হামলা ও ছাত্রনেতাদের গণগ্রেফতার,কলাভবন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলা,হলে হলে ঢুকে ছাত্রদের প্রহার ও গ্রেফতার।সেইদিন দুই সহস্রাধিক ছাত্র ছাত্রী,ঢাবি শিক্ষক আ খ ম জাহাঙ্গীর কে গ্রেফতার হন। ছাত্রদের আন্দোলনে উৎসাহ ও সহযোগিতা করার দায়ে গ্রেফতার হন অনেক জাতীয় নেতৃবৃন্দ। পরে ১৯৮৩ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি মজিদখান শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন স্তগিত ঘোষণা করা হয়।" (সূত্র- চতুর্মাত্রিক, পাপতাড়ুয়ার ব্লগপোস্ট )

--- ---

আমার আত্মার স্বর বীক্ষণের প্রতিভা ছড়াবে অমাবস্যা-নিমগ্ন
প্রাণের শিকড়ে শিকড়ে,
প্রমিথিউসের গানের মতো আমার গলার রৌদ্রজ্জ্বল চিৎকার
কাঁপিয়ে দেবে এই পৃথিবীর আকাশ-বাতাস,
খসে যাবে তোমাদের রাত্রির দীপ্তিমাণ তারা, দিনের সূর্য।

তোমরা কুচি কুচি করে করে ছিঁড়ে ফেলো আমার হৃৎপিন্ড-
যে হৃৎপিন্ডে ঘন ঘন স্পন্দিত হচ্ছে আমার দেশের গাঢ় ভালবাসা (শামসুর রাহমান)



বিষন্ন পিপাসা
নিয়ে তারা ছড়িয়েছে
কী দূরন্ত কৃষ্ণচূড়া মেঘ
ঝড়ের আবেগ
তারা জুড়ে আছে এ দেশের সমস্ত হৃদয়
তাই তারা বিস্মৃতির ইতিহাস নয়। (মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান)


---

সবশেষে, আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ভালবাসতে মানা নেই, ভালবাসায় বাঁধা নেই। প্রিয়জনকে হয়ত একটি ফুল উপহার দিয়ে খাঁটি বাংলায় বলবেন "আমি তোমাকে ভালবাসি"। বলুন, যতবার ইচ্ছা বলুন। কিন্তু একটু ভালবাসা এই দেশের জন্য রাখুন, এই মাটির জন্য রাখুন, এই মায়ের জন্য রাখুন, এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের জন্য রাখুন। একবার চিৎকার করে শুধু বলুন "জয় বাংলা", একবার মৃদুস্বরে গুণগুণ করুন "ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা",
একবার দাঁড়িয়ে অন্তর থেকে গেয়ে উঠুন "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি"।
আগুণঝরা ফাল্গুণের এত দেশপ্রেমিক শহীদের রক্তেভেজা মাটি, তিরিশ লাখ মানুষের রক্তের দামে কেনা মাটি, কোটি মানুষের অশ্রুর নোনাজল শুঁষে নেয়া আমাদের দুখিনী মা এইটুকু ভালবাসা কি পেতে পারে না ?

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দারুন পোস্ট। প্রিয়তে নিলাম।
Star Star Star Star Star


-----------------------------------------------------

আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধইন্যাপাতা Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আল্লাহর ৩৬৫ দিনই হোক ভালোবাসা দিবস

(স্বাক্ষরঃ দিশাহারা পূটকি লাল)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হোক, তবে এক চিলতে ভালবাসা থাকতে হবে বাংলাদেশ নামক লাল-সবুজ ভূখন্ডের জন্য

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খাইছে,ব্যাপক পোস্ট।প্রিয়তে

----------------------------------------------------------
ছাগু আর ছাগু নাই। বিবর্তনের ধারায় এরা শুয়োর হয়ে গেছে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পোস্ট তো বিভিন্ন জায়গা থেকে কপিপেস্ট মাইরা বানাইছি, মূল বক্তব্য নিচের কয়টা কথা। এইটা বেপক হয় কেমনে ?

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সরাসরি প্রিয়তে।

____________________
ঘর ছেড়ে ধন খুঁজিস কেন বনে বনে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দুইটাই ভালো পোষ্ট। প্রিয়তে রাখলাম

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জনতার সংগ্রাম চলবেই
আমাদের সংগ্রাম চলবেই
চলবে...


সংগ্রামী দিনগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। Star


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাকেও ধন্যবাদ

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনার এই পোস্টের আইডিয়াখানা চমৎকার হয়েছে দেশের গৌরবউজ্জ্বল আন্দোলনগুলা ইতিহাস এক জায়গায় একত্র করেছেন , ভবিষ্যৎতে রেফারেনস হিসাবে কাজে লাগানো যাবে অনেক জায়গায় ।

____________________________________
একটা টাইম মেশিন দরকার ছিল, কেউ কি ধার দিবেন ?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আপনাদের কাজে লাগলেই আমি স্বার্থক Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star

*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

গুড জব বস

১০০% হালাল কমেন্ট
( বিএসটিআই অনুমোদিত )
BSTI : BDS 0103:2010


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

তোমার কি অবস্থা ? অনেকদিন দেখিনা, কাহিনি কিতা ?

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সংগ্রহে রাখার মত পোষ্ট। পাঁচ তারা

_________________________________________________________________________________

ঢিল মারি তোর টিনের চালে...


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

অনেক তথ্য একত্র করার জন্য অনেক ধন্যবাদ
প্রিয়তে

======================
শিশু অপরাধ করে না ভুল করে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

টন টন ধইন্যা

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

প্রিয়জনকে হয়ত একটি ফুল উপহার দিয়ে খাঁটি বাংলায় বলবেন "আমি তোমাকে ভালবাসি"। বলুন, যতবার ইচ্ছা বলুন। কিন্তু একটু ভালবাসা এই দেশের জন্য রাখুন, এই মাটির জন্য রাখুন, এই মায়ের জন্য রাখুন, এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের জন্য রাখুন। একবার চিৎকার করে শুধু বলুন "জয় বাংলা", একবার মৃদুস্বরে গুণগুণ করুন "ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা",
একবার দাঁড়িয়ে অন্তর থেকে গেয়ে উঠুন "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি"।
আগুণঝরা ফাল্গুণের এত দেশপ্রেমিক শহীদের রক্তেভেজা মাটি, তিরিশ লাখ মানুষের রক্তের দামে কেনা মাটি, কোটি মানুষের অশ্রুর নোনাজল শুঁষে নেয়া আমাদের দুখিনী মা এইটুকু ভালবাসা কি পেতে পারে না ?


জয় বাংলা

--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

জয় বাংলা

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

দ্রোহ -- দারুন পোষ্ট ভাই !!!

অন্তত আজকের এই দিনে আমরা যেখানে উচ্ছ্বাসে মাতি ব্যক্তি ভালবাসা নিয়ে --- সেখানে তোমার চিন্তাধারা কত আলাদা--- সেলুট তোমার ব্যক্তিত্য কে --- শ্রদ্ধা তোমার চিন্তা-চেতনাকে

অনেক অনেক শুভকামনা রইল তোমার জন্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আরে কি যে বলেন না আপু :Cool

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Star Star Star Star Star


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।

glqxz9283 sfy39587p07