Skip to content

মুক্তমনা নি-ধার্মিকদের সামাজিক সমস্যাঃ প্রতিকারের ভাবনা

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমাদের দেশে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য মুক্তমনা নিধার্মীকদের সংখ্যা কম নয়। বহু পূর্ব থেকে বিশেষ করে বাঙ্গালি রেনেসাঁর পর থেকে জ্ঞানের সর্বক্ষেত্রে যুক্তিবাদী, বস্তুবাদী, চিন্তা চেতনা এবং বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা শুরু হয়, পাশাপাশি সমাজে মুক্তমনা নিধার্মীকদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্কার যেমন বিধবা বিবাহের প্রচলন, বাল্য বিবাহ ও বহু বিবাহে প্রতিবন্ধকতা, বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ধর্ম নিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচলন ইত্যাদি প্রগতিশীল সংস্কারের পেছনে মুক্তমনা মনিষীদের অবদান রয়েছে ব্যাপক। বর্তমানেও সামাজিক ও রাজনৈতিক পশ্চাৎপদ যে কোন ইস্যুতে মুক্তমনা নি-ধার্মিক বুদ্ধিজীবীগণ ধারাবাহিকভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। বিভিন্ন প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুক্তমনা নি-ধার্মিক কর্মীদের অবদান যথেষ্ট। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট মুক্তবুদ্ধির চর্চার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে চলছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট তরুণ প্রজন্মের সামনে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও যুক্তির এক বিরাট দ্বার খুলে দিয়েছে। বিদেশী বিভিন্ন সাইট তো বটেই এমনকি দেশীয় এমন কিছু সাইট রয়েছে যেগুলো তরুণ সমাজের উপর মুক্তবুদ্ধি চর্চার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে। ব্লগিয় তর্ক বিতর্ক উন্মুক্ত করে দিচ্ছে ভাববাদী জড়বুদ্ধিতা। সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে নি-ধার্মিক মুক্তমনার।
এই বৃদ্ধি তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সদা প্রবহমান থাকবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু নি-ধার্মিকতার কারণে মুক্তমনাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিনিয়ত যে প্রতিকূলতার সন্মুক্ষীণ হতে হচ্ছে সেদিকে এখনো কোন দৃষ্টিপাত বা প্রতিকারের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। নতুন প্রজন্মের গায়ে হয়তো প্রতিকূলতার ছাপ সেভাবে পড়েনি কিন্তু প্রবীণ মুক্তমনাদের অবশ্যই সেগুলোর মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
আমাদের দেশে প্রবীণ অনেক মুক্তমনাই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্মীয় মৌলবাদীদের হুমকি এমনকি হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের স্বাধীন মতামত দেয়ার অধিকার বিভিন্ন সময়ে খর্ব করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে অনেকে হয়ে পরেছেন কোণঠাসা। রাজনৈতিক এই ধরণের প্রতিকূলতা তো রয়েছেই। সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে অনেকে ছিলেন জন বিচ্ছিন্ন বা নিঃসঙ্গ। সামাজিক অনেক আচার অনুষ্ঠানে তারা ধর্মীয় কারণে অংশ গ্রহণ করতে পারেন না। আত্মীয়তা বজায় রাখা তাদের পক্ষে হয়ে পরে কঠিন। সম মানসিকতার জীবন সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মুক্তমনাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই পারিবারিক ক্ষেত্রেও অনেক সময় ঐকমত থাকে না। সামাজিক কারণে এমন অনেক ধর্মীয় অনুশাসন মেনে নিতে হয় যেগুলোতে তিনি একমত নন। নিজের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে তাকে প্রতি পদে পদে আপোষ করে চলতে হয়। মুক্তমনা পরিবারের সন্তানরা বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ ধর্মীয় বিষয়ের বিপরীতে নি-ধার্মিক পরিবারের সন্তানদের জন্য কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয় অথবা সমাজের সকল ধর্মের পরিচয়মূলক কোন বিষয় পাঠ্যতালিকায় নেই। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষাঙ্গনে শিশুদের ধর্মের ভিত্তিতে পৃথক করে ফেলা হচ্ছে যা মুক্তমনা অভিভাবকদের পক্ষে মেনে নেয়া কষ্টকর। জীবিত অবস্থায় এধরনের হাজারো সমস্যার মধ্য দিয়ে পার হলেও মৃত্যুর পর সৎকার নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের পড়তে হয় এক বিব্রতর অবস্থায়। কয়েকজন নি-ধার্মিক মুক্তমনা বিজ্ঞানের কাজে নিজের দেহকে মেডিকেল ছাত্রদের জন্য দান করে গেলেও অধিকাংশ মুক্তমনাদের ক্ষেত্রে সে সুযোগ হয়না। মুক্তমনাদের সমন্বিত এমন কোন প্রচেষ্টাও নেই যাতে করে নিজেদের কোন সমাধিক্ষেত্রের ব্যবস্থা করা যায় এবং নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সমাধিস্থ করা যায়।
এ ধরনের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা থাকা স্বত্বেও এখন পর্যন্ত নি-ধার্মিক মুক্তমনাদের প্রতিকারের ব্যাপারে কেমন যেন উদাসীন মনে হয়। এর পেছনে বেশ কিছু মানসিক সমস্যা কাজ করতে পারে। আমাদের দেশে বস্তুবাদী দর্শনের পথিকৃৎ যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই যুক্ত ছিলেন মার্ক্সবাদী রাজনীতির সাথে। তারা ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও নিজেদের নাস্তিকতার পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করতেন না। তারা মনে করতেন এই সমাজে পৃথক ভাবে নি-ধার্মিক নাগরিকদের অধিকার আদায়ের কোন প্রয়োজন নেই কারণ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন ঘটলে নি-ধার্মিক মুক্তমনারাও তাদের সামাজিক ভিত্তি খুঁজে পাবে। তাই জন-বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভয়ে তারা ধর্মীয় বিষয়গুলোকে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখতেন। অনেক বুদ্ধিজীবী নি-ধার্মিক তাত্ত্বিকভাবে নাস্তিক হলেও নিজের পারিবারিক ধর্মীয় সমাজের সদস্য হিসেবে থাকতেই পছন্দ করেন। এর দুটি সুবিধা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন একটি বৃহত্তর সমাজের সুবিধা ও নিরাপত্তা ভোগ করা যাচ্ছে, অপরদিকে সমাজে নিজেকে একজন প্রগতিশীল আধুনিক মানুষ হিসেবেও জাহির করা যাচ্ছে। নাস্তিক নন কিন্তু ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এরূপ ব্যক্তির সাথে উপরোক্ত বুদ্ধিজীবীর একটি মিল রয়েছে। তারা উভয়েই একটি নিরাপদ অবস্থানে থেকে নিজ ধর্মের সমালোচনা করতে পারেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মের সংস্কারও করতে পারেন। এক্ষেত্রে নাস্তিক বুদ্ধিজীবী হলেন একজন হিপোক্রেট এবং গোঁড়ামি মুক্ত ধার্মিক ব্যক্তিটি হলেন সৎ সংস্কারক।
আবার অনেক নি-ধার্মিক মুক্তমনা রয়েছেন যারা বিভিন্ন ধর্মের অযৌক্তিক বিষয়গুলো নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে সমালোচনা করে যাচ্ছেন। তারা মনে করেন এভাবে সমালোচনা করার মাধ্যমে সমাজ থেকে ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করা যাবে। কিন্তু এভাবে অন্য ধর্মের সমালোচনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নীতিকে ব্যাহত করে। এমন কি যার যার বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালনের অধিকারের প্রশ্নটিও এতে বিঘ্নিত হয়। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত না করে সাধারণভাবে ভাববাদী দর্শনের সমালোচনা করা যেতে পারে এবং ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিবর্তনবাদের সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলোকে তুলে ধরা যেতে পারে। কারণ একজন নি-ধার্মিক মুক্তমনা কোন ধর্ম সংস্কারক নন বরং তিনি একজন যুক্তিবাদী বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাকারী হতে পারেন। একটি পৃথক নি-ধার্মিক মুক্তমনা সমাজের সদস্য হয়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা এবং সে অনুযায়ী সামাজিক জীবনাচরণ পরিচালনা করাই হবে একজন দার্শনিক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সৎ নি-ধার্মিক মুক্তমনার সঠিক পথ।
একজন নি-ধার্মিক মুক্তমনাকে যদি তার দার্শনিক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির কাছে সৎ থাকতে হয় তাহলে তাকে অবশ্যই বাস্তব জীবনাচরণেও ধর্ম মুক্ত থাকতে হবে। এজন্য তাকে অবশ্যই তার পারিবারিক ধর্মীয় সমাজের সাথে নাড়ী ছিন্ন করে নি-ধার্মিক মুক্তমনাদের নিজস্ব সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
একটি ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে সকল নাগরিক শান্তিপূর্ণ ভাবে স্ব স্ব ধর্ম পালন করে যাবে, প্রয়োজন হলে ধর্মীয় সংস্কারের জন্য নিজ নিজ ধর্মের সমালোচনা করবে, এটাই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। একই ভাবে নি-ধার্মিক মুক্তমনারাও তাদের নিজস্ব সমাজে নি-ধার্মিক সামাজিক জীবনাচরণ করবে এবং তাদের যুক্তিবাদী মতামত প্রচার করবে, এতে আর অস্বাভাবিকত্ব কোথায়? এবং সেটাই করা উচিৎ।
২০/২/২০১২

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নিধার্মিক মানেই আমার কাছে মুক্তমনা। সে আস্তিক হতে পারে নাস্তিক হতে পারে। এখন কথা হচ্ছে মুক্তমনাদের কে আপনি সমাজে কি ভূমিকায় দেখতে চান?

তাদের ভূমিকা কি বৈপ্লবিক ( আমূল পরিবর্তনকামী) না সংস্কারক।

তাদের দলগত অবস্থান কি তাদের নিরাপত্তাজনিত কারনে দরকার নাকি অন্য কোন কারনে?
দলগত অবস্থান তাদের নিরাপত্তাকে বাড়াবে না কমাবে বলে আপনি মনে করেন।

যে সব সমাজ অপেক্ষাকৃত মুক্ত সেখানে মুক্তমনাদের ভূমিকা আছে নিশ্চিৎ, কিন্তু সে সব সমাজে মুক্তমনাদের দলগত অবস্থান সম্পর্কে ইতিহাসের ভাষ্য কি?

আমার কাছে সমাজ বিবর্তনটা নিঃশব্দ বিবর্তন মনে হয়। যুক্তি নিজেই তার অবস্থান পাকা করে নেয় কালের বিবর্তনে। এখানে সবাই যার যার অবস্থান থেকে চিন্তার প্রশারে কাজ করে যায়, যখন পরিমান একটা নিদৃষ্ট অবস্থা অতিক্রম করে তখন গুনগত পরিবর্তন আসে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আসবে আমাদেরও দিন....


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি এখানে মুক্তমনাদের এই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যেই একটি পৃথক সমাজ / কমিউনিটি গঠন করার কথা বলেছি যাতে তারা নিজেদের ধর্ম মুক্ত সামাজিক কর্মকান্ড করতে পারে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কেন আপনি সেইটা চান, সেইটাই ছিল আমার জানতে চাওয়া। smile :) :-)

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আসবে আমাদেরও দিন....


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ধরুন আমার পরিচিত একটি নাস্তিক মুক্তমনা পরিবার রয়েছে। পরিবারটির একটি মেয়ে বছর দুই হলো মাস্টার্স পাস করে চাকরি করছে। তার এখন বিয়ে দেয়া দরকার। আত্মীয় স্বজনেরা সব আস্তিক ছেলে আনছে। কিন্তু তার দরকার একজন নাস্তিক মুক্তমনা ছেলে। তাই তাকে বিয়ে দেয়া যাচ্ছে না। নাস্তিক মুক্তমনাদের যদি পৃথক সমাজ থাকতো এবং সবার সাথে যদি সামাজিক যোগাযোগ থাকতো তাহলে নতুন পাত্র / পাত্রী পাওয়া সহজ হত। আরো উদাহরন দিতে হবে?


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পাত্র নিয়ে আসা, পাত্রী দেখা, তারপর হ্যা/না বলা ব্যাপারটার মধ্যে আত্মসন্মানহানীর ব্যাপার আছে। এটা একটা ফিউডাল প্রথা। মুক্তমনাদের উচিৎ পরিবারের উপরে না চাপিয়ে নিজেদেরই পাত্র-পাত্রী খুঁজে নেয়া। মুক্তমনা নাস্তিকের নিরেট কোন মান আছে বলে আমার মনে হয় না, আছে আপেক্ষীক মান। আপনি যে পরিবারটার কথা বলছেন সেটার মধ্যে গোড়ামি ঢুকে পড়েছে। তারা ভুলে গেছে যে তারাও কোন ধর্মানুভূতিশীল পরিবারে বেড়ে উঠেছে।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আসবে আমাদেরও দিন....


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মুক্তমনারা নিজেরাই নিজেদের জীবনসঙ্গী খুঁজে নিবে এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বর্তমানে মুক্তমনাদের সংখ্যা এমন নয় যে খুব সহজেই পরস্পরকে খুঁজে পাবে। এই জন্যই প্রয়োজন মুক্তমনাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগের ব্যবস্থা করা অর্থাৎ একটি সমাজ গঠন করা। বাস্তবতার নিরিখে মুক্তমনাদের সামাজিক সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করুন। না হয় বিকল্প প্রস্তাব দিন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নিধার্মিক মানে কী? যে কোন ধর্ম স্বীকার করে না, না কি যে ধর্মে বিশ্বাস করলেও মেনে চলে না? মানে যাই হোক, নিধার্মিক হলেই যে কেউ মুক্তমনা হবে তা মানতে আমি নারাজ। আর যারা ধর্মকে অস্বীকার করে, তারা যদি আবার 'কমিউনিটি' গড়ার উদ্যোগ নেয়, সেটা আরেক ধর্মের রূপ নিবে।

__
দুই ধরন ধরণীর অধিবাসীর--
যাদের বুদ্ধি আছে, নাই ধর্ম,
আর যাদের ধর্ম আছে, অভাব বুদ্ধির।
--একাদশ শতকের অন্ধ আরব কবি আবুল 'আলা আল-মা'আররি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Freethinker এর বাংলা 'মুক্তমনা' করায় অন্য এক লেখায় বড় মুশকিলে পড়েছিলাম। 'মুক্তমনা'র ব্যাখ্যা বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে করেন। তাই এখানে আলাদা বিশেষণ লাগিয়েছিলাম। বুঝেছি এতেও কোন কাজ হয়নি। যাহোক, আমার মূল বক্তব্য ছিলো 'মুক্তমনা'দের একটি পৃথক সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। আপনি বলেছেন তাহলে সেটা আরেক ধর্মের রূপ নিবে। ধর্ম আসে মানুষের অযৌক্তিক বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে। সেগুলো নিশ্চয়ই 'মুক্তমনাদের' দ্বারা হবে না।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নি-ধার্মিক মুক্তমনা এবং নাস্তিক -এর মধ্যে পার্থক্য কি?

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি এখানে পার্থক্য বুঝাইনি। নি-ধার্মিক বলতে যারা কোন ধর্মে বিশ্বাস করে না তাদের বুঝাচ্ছি। আর নাস্তিক বলতে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না। আর মুক্তমনা বলতে যারা অযৌক্তিক কোন কিছুই মেনে নেন না এবং যারা বস্তুবাদী।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ বোনো গান,

প্রথমে শিরোনামে বলা হয়েছে- মুক্তমনা-নিধার্মিক। নিধার্মিক বলতে সাধারণ অর্থে আমরা বুঝি, যিনি ধর্ম মানেন কিন্তু নিয়মিত চর্চা করেন না। এখানে নিধার্মিক বলতে যদি আস্তিক কিংবা নাস্তিকও বুঝানো হয়, তখনও বলবো এর কোনটাই মুক্তমনা বুঝায়না।

নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত না করে সাধারণভাবে ভাববাদী দর্শনের সমালোচনা করা যেতে পারে এবং ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও বিবর্তনবাদের সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলোকে তুলে ধরা যেতে পারে।


মুক্তমনারা নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে কথা বলেন না, তাদের কাছে সকল ধর্মই অর্থহীন। সাধারণভাবে ভাববাদী দর্শনের সমালোচনা করা আর ধর্মের সমালোচনা করার মধ্যে পার্থক্যটা কী?

এক্ষেত্রে নাস্তিক বুদ্ধিজীবী হলেন একজন হিপোক্রেট এবং গোঁড়ামি মুক্ত ধার্মিক ব্যক্তিটি হলেন সৎ সংস্কারক।


গোঁড়ামি মুক্ত ধার্মিক কারা?


একজন নি-ধার্মিক মুক্তমনাকে যদি তার দার্শনিক বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির কাছে সৎ থাকতে হয় তাহলে তাকে অবশ্যই বাস্তব জীবনাচরণেও ধর্ম মুক্ত থাকতে হবে। এজন্য তাকে অবশ্যই তার পারিবারিক ধর্মীয় সমাজের সাথে নাড়ী ছিন্ন করে নি-ধার্মিক মুক্তমনাদের নিজস্ব সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।


এটা একেবারে সমাজবিজ্ঞান বহির্ভুত, সমাজ-সংস্কার পরিপন্থি কথা হয়ে গেলো।

নি-ধার্মিক মুক্তমনারাও তাদের নিজস্ব সমাজে নি-ধার্মিক সামাজিক জীবনাচরণ করবে এবং তাদের যুক্তিবাদী মতামত প্রচার করবে। এখানে মুক্তমনাদের এই সমাজ ব্যবস্থার মধ্যেই একটি পৃথক সমাজ / কমিউনিটি গঠন করার কথা বলেছি যাতে তারা নিজেদের ধর্ম মুক্ত সামাজিক কর্মকান্ড করতে পারে।


এ তো সাম্প্রদায়ীকতার আরেক রূপ। সমাজে বিভক্তি কেন?

আমাদের দেশে বস্তুবাদী দর্শনের পথিকৃৎ যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই যুক্ত ছিলেন মার্ক্সবাদী রাজনীতির সাথে। তারা ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও নিজেদের নাস্তিকতার পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করতেন না। তারা মনে করতেন এই সমাজে পৃথক ভাবে নি-ধার্মিক নাগরিকদের অধিকার আদায়ের কোন প্রয়োজন নেই কারণ রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন ঘটলে নি-ধার্মিক মুক্তমনারাও তাদের সামাজিক ভিত্তি খুঁজে পাবে।


কথাটা তো ঠিকই আছে। আপনি এটাকে সুবিধাবাদী অবস্থান বলেছেন। শেষ করেছেন এই বলে-
এক্ষেত্রে নাস্তিক বুদ্ধিজীবী হলেন একজন হিপোক্রেট এবং গোঁড়ামি মুক্ত ধার্মিক ব্যক্তিটি হলেন সৎ সংস্কারক।


আচ্ছা, তারপর-
ধরুন আমার পরিচিত একটি নাস্তিক মুক্তমনা পরিবার রয়েছে। পরিবারটির একটি মেয়ে বছর দুই হলো মাস্টার্স পাস করে চাকরি করছে। তার এখন বিয়ে দেয়া দরকার। আত্মীয় স্বজনেরা সব আস্তিক ছেলে আনছে। কিন্তু তার দরকার একজন নাস্তিক মুক্তমনা ছেলে। তাই তাকে বিয়ে দেয়া যাচ্ছে না। নাস্তিক মুক্তমনাদের যদি পৃথক সমাজ থাকতো এবং সবার সাথে যদি সামাজিক যোগাযোগ থাকতো তাহলে নতুন পাত্র / পাত্রী পাওয়া সহজ হত। আরো উদাহরন দিতে হবে?



মাস্টার্স পাস চাকুরিজীবী মেয়ে, মুক্তমনা, দুই বছর ঘরে বসে আছে, নাস্তিক ছেলে পায়না, আত্মীয়রা আস্তিক ছেলে আনে! হুম, ডাল মে কুচ কালা লাগতা হ্যায়। নাস্তিক আর মুক্তমনা শব্দ দুটো একসাথে লিখেন কেন?

ধর্ম আসে মানুষের অযৌক্তিক বিশ্বাস ও কুসংস্কার থেকে। সেগুলো নিশ্চয়ই 'মুক্তমনাদের' দ্বারা হবে না।
আপনি একজন বিশ্বাসী মুসলমান। এ লেখাটি মানুষের প্রতি আপনার ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কঠিন বিশ্লেষণ..

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

________________________
বিজ্ঞান হলো প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চলমান প্রক্রিয়া।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Wink

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@আকাশ মালিক,

উপসংহার টা ছাড়া আপনার বাকি আলোচনা মোটামুটি ঠিক আছে। এখানে লেখকের সমস্যা বোধ হয় নির্ধামিকের জীবনে আনুষ্ঠানিকতা না থাকা জতিন শূন্যতাবোধ। আর আছে কমিউনিটির অভাববোধ।

জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে মুক্তমনারা কোন কাজে আসবে না। আমার ব্যাক্তিগত মত হচ্ছে জনগনের মধ্যে থেকেই তারা তাদের চারপাশকে যুক্তিবোধের ও সুন্দরের উপলব্ধিবোধ জাগ্রত করতে বেশি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

আর নির্ধামিক বলতে আমার কাছে এমন চিন্তা বুঝায় যা প্রচলিত ধর্মমত গুলিকে বাতিল করে কিন্তু
আদি কারনকে ধরে নেয় ব্যাখাতীত।

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আসবে আমাদেরও দিন....


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ আমি বাঙ্গাল,

এখানে লেখকের সমস্যা বোধ হয় নির্ধামিকের জীবনে আনুষ্ঠানিকতা না থাকা জতিন শূন্যতাবোধ। আর আছে কমিউনিটির অভাববোধ।



উনি দাসের পায়ে ঘুঙ্গুর বা নারীর পায়ে মল পরায়ে সমাজকে দেখাতে চান, ওরা নীচ, অচ্ছুত, সমাজ ধিকৃত, ঘৃণীত আলাদা প্রাণী। লেখাটা আরেকবার পড়ুন, সুক্ষ প্রতারণা ধরতে পারবেন। উনার মানসিকতা বুঝতে আমি ভুল করিনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Laughing out loud

আমারো মনে হয়েছে যে অধিকাংশ লোকেই লেখার মর্মার্থ ধরতে চরম ভাবে ব্যার্থ হয়েছেন।

------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ আদিল মাহমুদ,

উনি এখন নীরব কেন? আরো কিছু কথা তার মুখ থেকে বের করতে পারলে আসল অন্তর্জ্বালাটা ষ্পষ্ট বেরিয়ে আসতো। যাক, উনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-

You can fool some of the people all the time, and all of the people some of the time, but you cannot fool all of the people all the time. (Abraham Lincoln)


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আমি নীরব কারণ আপনাদের আক্রমণ দেখে মনে হচ্ছে আমি কোন অপরাধ করে ফেলেছি। আমার লেখার পেছনে আপনারা গোপন ষড়যন্ত্রের রহস্য খুঁজে পাচ্ছেন দেখে আমি নিজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছি যে তাহলে কি আমার ভেতরে গোপনে কোন শয়তান ঢুঁকে পড়লো? আমি আপনাদের লেখার সাথে অনেক পরিচিত এবং সব সময় মনে মনে আপনাদের শ্রদ্ধা করে এসেছি। নিজেকে আপনাদের দলভুক্ত বলে মনে করেছি। তাই আমার ঊপর আপনাদের আক্রমন দেখে আমি কথা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি আমার দোষ স্বীকার করে নিচ্ছি। আমার লেখাতে নিশ্চয়ই কোন মূর্খামি রয়েছে যার ফলে আপনাদের এই ক্ষোভের কারণ। আমি একজন সাধারণ আপাদমস্তক নাস্তিক। বস্তুবাদী। আপনাদের কথায় আমি মুক্তমনা হতে পারি না, সুতরাং সেই দাবী আমি করব না। আমি শুধু মনে মনে নাস্তিক নই। আমি আমার কর্মে, আচরণে, চিন্তায়, মননে নাস্তিক। আমার কর্মস্থলে, সমাজে, পরিবারে, পরিচয়ে সবাই আমাকে নাস্তিক বলেই জানে। তারা এখন আমাকে আর তাদের গোত্রভুক্ত মনে করে না। তারা এখন আর আমাকে তাদের সমাজে গ্রহণ করে না। আপনারাও বলছেন আমার গোত্রভুক্ত থাকার অভিলাষের পেছনে নাকি কোন ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে! অথচ আমি আপনাদের গোত্রের একজন সদস্য হতে চেয়েছিলাম। এর পেছনে আমার কোন ষড়যন্ত্র নেই। আমি শুধু গোত্র বিচুত্য আমার কিছু সামাজিক সমস্যার কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। সেই সমস্যা সমাধানের একটা উপায় হিসেবে গোত্রচুত্য আমার মত নাস্তিকদের নিজেদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলাম মাত্র। কিন্তু আমার পরিস্কার জলটাকে এমনভাবে ঘোলা করা হল যে সেই ঘোলা জলে আমিই এখন কিছু দেখতে পাচ্ছি না!


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যুক্তি দাঁড় করিয়ে দেওয়াকে আক্রমন ভাবছেন কেন? না কি পিছলাইতেছেন চিপায় পড়ে?
বিনোদিত হইলাম আপনার এই অবস্থা দেখে।

-----
বয়সটা বেড়ে গেছে! চাঁদকে দেখে নির্জীব পাথরই মনে হয়। ফুলকে দেখে মনে হয় মৃত কাগুজে শরীরে লেখা শেষ কিছু কথা। কারও কোমল হাত, কারও অধর, এগিয়ে এলে মনে হয় কোষ বিভাজনের কথা। অথচ কতবার ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে আমার ধূপ হয়ে জ্বলার গল্প। ...
-----


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

নি-ধার্মিকদের নিজস্ব সমাজ তৈরী কেনো করতে হবে, সেইটার স্বপক্ষে আপনার কোন যুক্তিই মাথায় ঢুকলো না। আপনি আপনার লেখায় সুক্ষভাবে মুক্তমনাদের ভিন্ন গোত্রভুক্ত হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন, যার স্থুল বক্তব্য সহজেই বোধগম্য।

--------------------------------------------------------------------------------------------
যেসকল বিএনপি সমর্থক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, তারা একটু গু খাইয়া আসেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

'মুক্তমনারা' যদি নাস্তিক হয়ে থাকেন তাহলে তারা তো একই সাথে ধর্মীয় গোত্রগুলো থেকে বিচুত্য হয়ে পড়েছেন! মুসলমানেরা আপনাদের কাফির বলে তাড়িয়ে দিবে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানেরা আপনাদের সমাজচুত্য করবে। এই অবস্থায় ভাসমান না থেকে নিজেদের একটা সমাজ গড়ে তোলাই তো বুদ্ধিমানের কাজ। আর মানসিক ভাবে যদি নিজেকে এখনো পরিত্যাক্ত ধর্মের গোত্রভুক্ত মনে করে থাকেন, তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভুমিকা হবে ভেড়ার পালে ছদ্মবেশী নেকড়ের মতো। আর মুক্তমনাদের পৃথক সমাজের উদাহরন যে বিশ্ব নেই তা তো নয়। যেমন, Society of Freethinkers


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হে হে হে, ভাইজান কিছু প্রশ্নের জবাব দেন তো দেখি।
১) অন্ধকার কি আলোর কোনও রুপ ?
২) টিভির অফ বাটনটা কি কোনও চ্যানেল ?
৩) মৌণতা কি কোনও ধরণের সঙ্গীত ?

___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

কমেন্টে বিপ্লব।

--------------------------------------------------------------------------------------------
যেসকল বিএনপি সমর্থক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চান, তারা একটু গু খাইয়া আসেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

@ বোনো গান,

আমি একজন সাধারণ আপাদমস্তক নাস্তিক। বস্তুবাদী। আপনাদের কথায় আমি মুক্তমনা হতে পারি না, সুতরাং সেই দাবী আমি করব না। আমি শুধু মনে মনে নাস্তিক নই। আমি আমার কর্মে, আচরণে, চিন্তায়, মননে নাস্তিক।


আর নীচের কথাগুলো কার?

আল্লহ-র প্রতি আমাদের ঈমান খুবই সুদৃঢ়। কিন্তু অনেকগুলো ভায়ার উপর আমাদের ঈমান দাঁড়িয়ে আছে। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পূর্বে আমাদের অনেকগুলো ভায়ার উপর ঈমান আনতে হচ্ছে, যা অনেকটা শরিকি গুনাহের মতো! আমরা সরাসরি আল্লাহর আনুগাত্য স্বীকার করছি না! আমরা ইহজাগতিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর পিএইচডি করেছি, বিভিন্ন ডিগ্রী নিতে গিয়ে শত শত পুস্তক অধ্যয়ন করেছি কিন্তু আল্লাহকে সরাসরি জানার জন্য তাঁর নাজিল করা কোরআনের মাত্র একশত চৌদ্দটি সুরার অর্থ বুঝে অধ্যয়ন করতে পারিনি!
.

নাস্তিক হয়ে রোজা রাখা নিয়ে কোরানের আয়াত সম্বলিত প্রবন্ধ লিখেন কেন?

মানুষের সাথে বেতমিজির, ইতরামির একটা সীমা থাকা উচিৎ।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

হাসতেই আছি। ফাটা বাঁশের চিপায় পড়া একেই বলে। পোস্টের লেখক মনে হয় কল্পনাও করেননি এমনতর চিপায় পড়বেন।

-----
বয়সটা বেড়ে গেছে! চাঁদকে দেখে নির্জীব পাথরই মনে হয়। ফুলকে দেখে মনে হয় মৃত কাগুজে শরীরে লেখা শেষ কিছু কথা। কারও কোমল হাত, কারও অধর, এগিয়ে এলে মনে হয় কোষ বিভাজনের কথা। অথচ কতবার ইতিহাসের পাতায় লেখা আছে আমার ধূপ হয়ে জ্বলার গল্প। ...
-----


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

এখানে আপনি আমার আগের দুটি পোস্ট উল্লেখ করে আমাকে বে তমিজ বলেছেন। কিন্তু আমি মানুষকে যথেষ্ট সন্মান করি এবং যতটুকু সম্ভব তমিজের সাথেই কথা বলি। আমার সমস্ত পোস্টগুলির কোন বাক্যেই আমি অসন্মানসুচক কোন শব্দ ব্যবহার করিনি। আমি আমার আগের মন্তব্যেও আপনাদেরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। হয়তো আমি যথেষ্ট 'মুক্তমনা' হতে পারিনি সেই স্বীকারুক্তিও আমি করেছি। যাহোক উপরুক্ত দুই পোস্টে আমি সাধারণ মুসলমানদের 'শোনা কথায় মুসলমান' না হয়ে তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন করে তারপর মুসলমান হতে বলেছি। সেখানে আমি ফার্স্ট পারসনে কথা বলেছি, কারণ নাস্তিক পরিচয় দেয়া সেখানে প্রাসঙ্গিক ছিল না, বক্তব্যটাই ছিল প্রধান। কারণ আমি মনে করি কেউ যদি তাদের ধর্মগ্রন্থ মনোযোগ দিয়ে পাঠ করে তাহলে তাদের বিশ্বাসের অনেক অসংগতিই তাদের কাছে ধরা পরবে। নাস্তিক হয়ে আমি কোন ধর্মগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করতে পারব না তাত নয়। আমি তো আর সেই ধর্ম নিয়ে কোন 'বে-তমিজ' কথা বলিনি। বলিনি কারণ আমি তথাকথিত 'মুক্তমনা' হতে পারিনি।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

আবাল লেখা।
যুক্তিবাদিরা অন্ধভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামীকে পশ্রয় দেয় না দিবেও না।
ধর্মীয় গোড়ামী আর কুসংস্কারকে বর্জন করা মানে নিধার্মিক বা নাস্তিকতা নয়।

------------
অকিঞ্চন
banglaydebu.blogspot.com

glqxz9283 sfy39587p07