‘প্রথম আলো ব্লগ’-এর নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি
লিখেছেন: নির্বাক হাসান

‘প্রথম আলো ব্লগ‘-এ আপনাকে স্বাগত জানাই। ‘প্রথম আলো ব্লগ’-এ নিবন্ধন করার সময় এর ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ আপনারা পড়ে নেবেন। কেউ ব্লগে নিবন্ধন করলে ধরে নেওয়া হবে তিনি ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ পড়ে তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ব্লগে প্রকাশিত লেখার বক্তব্য, মত ও স্বত্ব লেখকের নিজস্ব। এ ব্লগে প্রকাশিত লেখার আইনগত বা অন্য কোনো দায়দায়িত্ব প্রথম আলো বহন করে না। ‘প্রথম আলো ব্লগ’-এর উদ্দেশ্য মত প্রকাশের পরিসর বাড়ানো, সৃষ্টিশীলতাকে উৎসাহ দেওয়া, লেখক-পাঠক যোগাযোগের মাত্রা প্রসারিত করা। আমরা আশা করি, ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ মেনে ব্লগাররা ইতিবাচকভাবে এসব সুযোগ ব্যবহার করবেন।
নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি
১.
ক) বাংলাদেশে প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) কোনো লেখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত আইন-কানুন লঙ্ঘন করা যাবে না।
২.
ক) দেশীয় বা দেশের বাইরের কোনো জাতি, গোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্মের প্রতি অবমাননামূলক বা কারো অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) বিবদমান দুই বা ততোধিক জাতি, গোষ্ঠী ও ধর্মের মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষের উস্কানি দিতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
গ) ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস বা ভাষাকে কটাক্ষ বা অবমাননা করে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।
ঘ) প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুসারে শ্রদ্ধেয় কোনো ব্যক্তিকে হেয় করে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
ঙ) কোনো জাতি, জনজাতি, গোষ্ঠী, জাতি-উৎস, লিঙ্গপরিচয়, বয়স, শ্রেণীপরিচয়, শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা নিয়ে ঘৃণা বা অবমাননামূলক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা যাবে না।
চ) ধর্মগ্রন্থের বাণী ত্রুটিপূর্ণভাবে উদ্ধৃত করা যাবে না। এমনভাবে ধর্মগ্রন্থের বাণী উদ্ধৃত করা যাবে না, যাতে ধর্ম বা বাণীর অসম্মান হয়।
৩.
ক) নারীর প্রতি অবমাননা, আক্রমণ ও নিপীড়নমূলক কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) অশ্লীল ও অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ এমন কোনো শব্দ, বাক্য, ছবি, ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করা যাবে না, যা নারীকে হেয় করতে পারে।
গ) নারী ব্লগারদের সঙ্গে কটাক্ষমূলক আচরণ করা যাবে না।
ঘ) ব্লগে পোস্ট দিয়ে কোনো নারী বা পুরুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেম নিবেদন করা যাবে না। ব্যক্তিগত চিঠি দেয়া যাবে না।
৪.
ক) কোনো পর্নোগ্রাফিক ছবি, লেখা, তথ্য বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। কোনো পর্নোগ্রাফিক সাইটের লিংক দেওয়া যাবে না।
খ) এমন কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না যা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অশ্লীল বা অশালীন বলে বিবেচিত হতে পারে।
গ) অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ কোনো শব্দ, শব্দবন্ধ বা বাক্য ব্যবহার করা যাবে না।
ঘ) স্নায়বিক চাপ তৈরি করতে পারে এমন কোনো বীভৎস, ভয়ংকর, অরুচিকর ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
ঙ) কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া/গোপনে তোলা কোনো ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
চ) বিকৃত করে, জোড়া লাগিয়ে পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন করে কোনো ছবি প্রকাশ করা যাবে না।
৫.
ক) কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অবমাননামূলকভাবে কোনো প্রাণীবাচক নাম দেয়া যাবে না।
খ) সহব্লগারদের কিংবা ব্লগের বাইরের কাউকে গালিগালাজ করা যাবে না।
গ) কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না।
ঘ) এমন কোনো নাম বা ছদ্মনাম (ইউজার নেম বা নিক) ব্যবহার করা যাবে না যা অন্য ব্লগারের নামকে হেয় করে, সামাজিকভাবে কোনো প্রচলিত নামকে হেয় করে কিংবা সামাজিক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অশালীন মনে হয়।
ঙ) হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না।
চ) অন্য কারো জাতীয় পরিচয়পত্র, ক্রেডিট কার্ড, পাসপোর্ট নম্বর প্রকাশ করা যাবে না।
ছ) অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির ঠিকানা বা ফোন-ফ্যাক্স নম্বর ইত্যাদি প্রকাশ করা যাবে না।
জ) ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্র ধরে কারো ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের দুর্বল দিক ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না।
ঝ) কাউকে হত্যা, আঘাত বা আক্রমণের হুমকি দেয়া যাবে না। কোনো পরিস্থিতিতেই কাউকে ভয় দেখানো যাবে না।
ঞ) ব্লগে বা ব্লগের বাইরে অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে সংগঠিত হওয়া বা সংগঠিত হওয়ার প্রচারণা চালানো যাবে না।
৬.
ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে অবমাননা ও কটাক্ষমূলক কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) সমাজে বিতর্ক আছে এমন বিষয়ে মন্তব্য ও লেখা প্রকাশ করতে হলে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তা করতে হবে।
গ) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা-পরিস্থিতির বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে এমন লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
ঘ) রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রচার করা যাবে না।
ঙ) সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা যাবে না।
চ) প্রচলিত আইনে অপরাধ বলে গণ্য হয় এমন কোনো কাজের সমর্থনে প্রচারণা চালানো যাবে না।
৭.
ক) কোনো ভাইরাস, স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়ারের লিংক দেয়া যাবে না। হ্যাকিং এবং ক্র্যাকিং করার কোনো সূত্র বা এ সম্পর্কিত কোনো সফটওয়ারের লিঙ্ক ব্লগে প্রকাশ করা যাবে না। হ্যাকিং বা ক্র্যাকিংয়ে উৎসাহ দিয়ে কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।
খ) কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়নের নামে ব্লগ খোলা যাবে না। কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে ব্লগ খুলতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে নিবন্ধনকারীর ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হবে।
গ) কোনো ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে নেতিবাচক লেখা দেওয়া যাবে না।
ঘ) ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন, আলোচনা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পর্কিত কোনো বিজ্ঞপ্তি বাদে বাণিজ্যিক উদ্দেশে বিজ্ঞাপন প্রচারের আগে অবশ্যই ব্লগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
ঙ) ধূমপান, মাদক ও নেশাকে উৎসাহিত করে কোনো বিজ্ঞাপনমূলক লেখা, ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা যাবে না।
৮.
ক) একই ব্লগার জরুরি প্রয়োজন ছাড়া প্রথম পাতায় একটির বেশি পোস্ট করতে পারবেন না। এক সঙ্গে একটির বেশি লেখা দিলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত লেখা প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
খ) একই বিষয়ে একাধিক পোস্ট দেয়া হলে এবং সেগুলোয় বিষয়বৈচিত্র্য না থাকলে একটি রেখে বাকিগুলোকে প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
গ) কোনো খবর দিতে হলে প্রাথমিক উৎস থেকে তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে এবং তথ্যের সঙ্গে সে উৎস উল্লেখ করতে হবে। প্রকাশিত খবর মিথ্যা হলে ব্লগারকে বাতিল করা হবে।
ঘ) কারও বিরুদ্ধে একাধিক নাম বা ছদ্মনাম (ইউজার নেম বা নিক) ব্যবহার করে ব্লগে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার সকল ছদ্মনাম বাতিল করা হবে।
ঙ) হ্যাকিং বা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চ) অন্য কোথাও থেকে সরাসরি কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ উদ্ধৃতি, রেফারেন্স, আলোচনা, সমালোচনা ইত্যাদি প্রয়োজনে ব্লগে প্রকাশ করতে হলে লেখার উৎস ও লেখকের নাম উল্লেখ করতে হবে। স্বত্ত্ব সংরক্ষিত লেখার ক্ষেত্রে ব্লগে প্রকাশের আগেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।
৯.
ক) প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় ‘নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি’ পরিবর্তনের অধিকার রাখে।
লেখার দায় ও স্বত্ব
১. ব্লগে একটি নাম (ইউজার নেম) ও সংকেতমালা (পাসওয়ার্ড) ব্যবহার করে লেখা সকল লেখায় দায় সংশ্লিষ্ট ব্লগারের ওপর বর্তাবে। নাম ও সংকেতমালা সংরক্ষণ করার দায়িত্ব ব্লগারের। প্রকাশিত লেখার মত ও তথ্য ব্লগারের ব্যক্তিগত মত ও তথ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. ব্লগে প্রকাশিত ছবি, তথ্য ও লেখার স্বত্ব ব্লগারের বলে গণ্য হবে। কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে কোনো ছবি, তথ্য ও লেখা প্রকাশ করা যাবে না। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ ব্লগে প্রকাশিত লেখার স্বত্ব দাবি করে না। তবে ব্লগে প্রকাশিত পোস্ট প্রয়োজনে প্রথম আলোর অন্য কোনো সংস্করণ বা মাধ্যমে ব্লগারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লেখাটি জমা দেয়া যাবে না। ব্লগার প্রথম আলোর নিয়ম অনুসারে লেখার সম্মানী পাবেন।
৩. ব্লগে প্রকাশিত পোস্ট ও মন্তব্যে রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তার দায় ব্লগারকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করতে হবে। আইন লঙ্ঘনের পরবর্তী দায়দায়িত্বও তার ওপরই বর্তাবে।
৪. কোনো পোস্ট দেশীয় বা আন্তর্জাতিক আইন কিংবা সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হলে ব্লগ প্রশাসন ব্লগারকে আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বা না দিয়ে ব্লগটি অপসারণ করতে পারে।
৫. কোনো ব্লগারের অবৈধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য যদি প্রথম আলো মামলার সম্মুখীন হয় তবে মামলার সম্পূর্ণ খরচ উক্ত ব্লগারকে বহন করতে হবে।
৬. আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক প্রথম আলো যে কোনো সময় কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বা না দিয়ে যে কোনো ব্লগারের লেখা অপসারণ করতে পারে।
৭. ব্লগে প্রকাশিত লেখা সংরক্ষণের দায় প্রথম আলো বহন করে না।
ব্লগের নীতিমালা লঙ্ঘিত হলে
১. যে কোনো ব্লগার ব্লগের নিয়ম লঙ্ঘন করলে, কেউ কাউকে আক্রমণ করলে বা কেউ আক্রান্ত বোধ করলে ই-মেইলে বা ব্লগের অভিযোগ বাটনের সাহায্যে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো পোস্ট না দিয়ে ব্লগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই কার্যকর পদ্ধতি বলে গণ্য হবে। ব্লগ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুসারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
২. কেউ ব্লগের নীতিমালা লঙ্ঘন করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শিয়ে বা না দর্শিয়ে নীতিমালা ভঙ্গকারী লেখা প্রয়োজনে প্রথম পাতা থেকে অপসারণ করতে পারে, প্রথম পাতায় ব্লগারের লেখা প্রকাশের অধিকার রুদ্ধ করতে পারে কিংবা বিভিন্ন মেয়াদে ব্লগারকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
৩. ব্লগার একই বা ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
৪. কর্তৃপক্ষ যে কোনো ব্লগ ও ব্লগারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করার অধিকার রাখে।






আজকের প্রথম আলোতে এই বিষয়ক খবর (কিছু ছুশীল ব্লগারগো নাম খৈয়াল কইরা)
বাংলা ব্লগ: নিজের ভাষায় নিজের মত
জাবেদ সুলতান পিয়াস
শুরুতে নাম ছিল ওয়েবলগ। কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে গেল ব্লগ। ইংরেজি ভাষার উইলিয়াম যেভাবে হয়ে যায় বিল, ঠিক সেভাবেই। অল্প সময়ে জনপ্রিয়তাও পেল শব্দটা। ব্যস, চালু হয়ে গেল হরেক রকম ব্লগ। পাঠক এল, লেখক এল। জমজমাট যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত হলো ব্লগ। ব্লগ শব্দটা ব্যবহারগুণে প্রায় অনুবাদের অযোগ্য একটা শব্দ। বলা চলে, ইন্টারনেটের দিনপঞ্জি। দিনপঞ্জি বললে অবশ্য প্রথমেই একান্ত ব্যক্তিগত কোনো প্রসঙ্গ বলে মনে হয়। দিনের কোনো এক নিজের একান্ত সময়ে নিভৃতে বসে চামড়ায় বাঁধানো ডায়েরির পাতা খুলে কোনো নীরব অনুভুতির কথা লিখে আবার ডায়েরিটি চন্দনকাঠের বাক্সে তালাবদ্ধ করে রাখার মতো কোনো ছবিই চোখে ভাসে। ব্লগের শুরুতেও তেমনি ব্যক্তিগত ওয়েব ডায়েরির ধারণা কাজ করেছিল। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব যখন নানা বর্ণের পাখা মেলে আকাশে বিস্তৃত, তখন ব্যক্তিগত ও নৈর্ব্যক্তিকের সীমা ভেঙে গেল। বাঁধ যখন ভাঙল তখন দেখা দিল দিনপঞ্জির নানা রূপ, নানা রং। ফুটল সহস্র ফুল। একসঙ্গে সহস্র কন্ঠ কথা বলে উঠল।
কে কোথায় বসে লিখছে সেটা আর বড় কথা নয়। কোন বিষয়ে লিখছে সেটাও নয়। অনেক লোকের অনেক কথার মধ্যে নিজের কথা ছড়িয়ে দেওয়ার আনন্দে বিভোর ব্লগের জগৎ। আজ কী করলাম তার বিবরণ শুধু নয়, ব্লগ হলো জনরবের প্রতিটি স্বরকে কন্ঠস্বর দেওয়ার মাধ্যম। ফলে তাতে এসে ঢুকল ব্যক্তি-সমাজ-রাষ্ট্রের সবটুকু। আর কয়েক বছরের মধ্যেই ব্লগ হয়ে পড়ল নাগরিকদের মতপ্রকাশের বলিষ্ঠ মাধ্যম।
২০০৫ সালের আগে ব্লগ ছিল, লেখার মতো মানুষও ছিল। ছিল না বাংলা ভাষায় ব্লগ লেখার অবারিত সুযোগ। সীমিত আকারে ইউনিকোড ব্যবহার করে কিছু বাংলা লেখার চল ছিল বটে, কিন্তু তাকে কোনো ধারা হিসেবে চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে এল বাংলা ভাষার প্রথম গোষ্ঠীবদ্ধ ব্লগ সামহোয়্যারইনব্লগ (www.somewhereinblog.net)। বাংলা ইউনিকোড, মুক্ত সফটওয়্যার, ওয়েব উৎসগুলোতে বাংলা নিয়ে গবেষণা ও কাজেও নতুন গতি এল। গড়ে উঠল বাংলা ভাষার ব্লগারদের নতুন একটি গোষ্ঠী। ব্লগের বৃহত্তর পরিসরে বাংলার স্বর শোনা গেল। এল সচলায়তন (www.sachalayatan.com), আমার ব্লগ (www.amarblog.com)। বাংলা ব্লগের ধারাটিকে আরেকটা নতুন মাত্রা দিতে আসছে নতুন আরেকটি ব্লগ। প্রথম আলোর দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ৪ নভেম্বর সবার জন্য উন্নুক্ত হবে ব্লগটি। তার আগে এ সপ্তাহে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে প্রথম আলো ব্লগ (www.prothom-aloblog.com)। ব্লগসাইট প্রকাশের প্রাਆালে ১৩ অক্টোবর ব্লগারদের এক সমাবেশ ঘটেছিল ঢাকায় প্রথম আলো কার্যালয়ে। প্রথম আলো ব্লগে কী চান−তা তো ব্লগাররা বলেছেনই, পাশাপাশি সে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলা ব্লগ নিয়ে তাদের ভাবনাগুলো।
অকপট কথার সংস্কৃতি
যত মত তত পথ। যত মানুষ হয়তো ততই মত। একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখার ভঙ্গিতে মিল থাকে না। আবার কখনো এমন হয়, অনেক মতের অনেক মানুষ একই স্বরে কথা বলতে থাকে। বন্ধু যেমন বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে, তেমনি শত্রুর সঙ্গেও কথা হয় পথ চলতে চলতে। ব্লগে এর সবই আছে। কখনো কোনো ছদ্মনামের আড়াল থেকে, কখনো নিজের নামে বলার মতো কথাটা বলে ফেলার একটা অবারিত সুযোগ থাকে। ফলে অনেক মানুষের ভিড়ে যে লাজুক মানুষটি ঠিকমতো কথা গুছিয়ে বলতে পারেন না, তিনিই হয়তো ব্লগে একটা জ্বালাময়ী লেখা দিয়ে ফেলেন; তর্কেবিতর্কে মেতে ওঠেন। কারণ ইচ্ছামতো, অকপটভাবে লেখার জন্য মাধ্যমটা খুবই সহায়ক। যেকোনো বিষয়ে আপনার নিজের কথা স্বাধীনভাবে তুলে ধরা যায়। চিন্তার পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত উঠে আসতে এতটুকু দেরি হয় না। নিজের চিন্তা অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করা, এমনকি সমসাময়িক চিন্তার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখার এমন সুযোগ মেলা ভার। ব্লগ বলতেই রাজনীতি, সমাজ নিয়ে জমজমাট কথার আসর নয় শুধু; মাধ্যমটিকে কাজে লাগিয়ে ফুটবল থেকে ফ্যাশন, রূপসজ্জা থেকে সাহিত্য−সব বিষয়েই লেখা যায়। গল্প, কবিতা, উপন্যাস, দর্শন, খবর, সংবাদ বিশ্লেষণ−সব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকে ব্লগে। কেউ হয়তো লিখলেন দুপুরের জ্যামে আটকে পড়ে থাকার গল্প। তার পাশেই হয়তো একজন নায়াগ্রা প্রপাতের সামনে বসে সুর্যাস্ত দেখার গল্প বলে চলেছেন।
বৈচিত্র্যময় অকপট কথার এ সংস্কৃতিতে কথা বলার কিছু নিয়ম আছে। সেটুকু মানলে আত্মপ্রকাশ শাণিত হয়, পরিশীলিত হয়, আর পারস্পরিক সান্নিধ্যও উপভোগ্য হয়। ব্লগ লিখে প্রকাশ করা ই-মেইলের মতো সহজ। বাংলা লেখা জানলে তো কথাই নেই, না জানলেও ভার্চুয়াল বা ফোনেটিক কি-বোর্ড ব্যবহার করা সম্ভব। আর যদি সেসবের কিছুতেই মন না যায়, তবে পড়ার জন্য এমন জীবন্ত বিষয় আর কী হতে পারে? বাংলা ব্লগ মানে এক টুকরো বাংলাদেশ। ওয়েবে বাংলাদেশের আনন্দ-বেদনার সে স্পর্শ বাঁচিয়ে চলার কোনো মানে আছে?
যেমন চাই প্রথম আলো ব্লগ
গোষ্ঠীবদ্ধ ব্লগিং বা কমিউনিটি ব্লগিং বাংলা ভাষার ব্লগারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যেহেতু প্রথম আলো ব্লগ আসছেতাই ব্লগারদের সমাবেশে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে ঢের। এ সাইটে দেশের নেটিজেন, ব্লগার, প্রথম আলোর লেখক-পাঠক পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে, ভাববিনিময় করতে পারবেন। ব্লগারদের একটি অংশ মনে করেন, প্রথম আলো ব্লগ হোক মুক্ত মতপ্রকাশের মাধ্যম। সবার লেখার ও কথা বলার স্বাধীনতা সেখানে থাকুক। আবার ভালো লেখার একটা জায়গাও হোক সেটা; আবশ্যিকভাবে নিয়ন্ত্রণ নয়, কিন্তু ভালো লেখা নির্বাচনের একটা ব্যবস্থা থাকুক তাতে। সমাবেশের শুরুতে প্রথম আলোর উপসম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ব্লগারদের আশ্বস্ত করলেন, ব্লগে স্বাধীন মতপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা প্রথম আলোর নেই। তবে দেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ আছে। সেদিকে খেয়াল রেখে আমরা একটি নীতিমালা ও ব্যবহারবিধি তৈরি করেছি। আমরা আশা করব নীতিমালা মেনে ব্লগাররা স্বাধীনভাবে তাদের মতপ্রকাশ করবেন। প্রথম আলো ব্লগের বিভাগীয় সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, বড় গণমাধ্যম হিসেবে প্রথম আলো মতপ্রকাশের পরিসর প্রসারিত করার জন্য ব্লগ সাইটের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলা মূলধারার গণমাধ্যমের ইতিহাসে এটি একটি বড় ঘটনা। সাংবাদিক-লেখক-পাঠকের মধ্যে অংশগ্রহণমূলক যোগাযোগের নতুন মাত্রাগুলো এতে উন্েনাচিত হবে। প্রথম আলো ব্লগসাইটের কারিগরি নির্মাতা হাসিন হায়দার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যমান বাংলা ব্লগগুলোর চেয়ে অনেক বেশি সেবা ও সুবিধা দিতে; একই সঙ্গে ব্লগ লেখাকে সহজ ও সাবলীল তৈরি করতে।’
নিয়ন্ত্রণ চাই না, কিন্তু ব্লগের পাতা পরিচ্ছন্ন থাকুক−ব্লগারদের অনেকেই কথাটা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। স্বাধীন মতপ্রকাশের নামে গালাগালি, ব্যক্তিগত আক্রমণ চাই না, আবার আমার মত অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করুক সেটিও চাই না। যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়ে ব্লগারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও যোগাযোগের ভিত্তিতেই ব্লগ গড়ে উঠুক। এ রকম নানা গুরুত্বপূর্ণ মতের সঙ্গে সঙ্গে উঠে এল কিছু আশাবাদ। ব্লগার মিলটন বলেন, ব্লগের পরিবেশটা ভালো হওয়া চাই। কোনো ভাবেই ব্লগে গালাগালি দেখতে চাই না। ব্লগার সুমন রহমান বলেন, কিছু একটা লিখতে তার দায়টাও নিতে হবে ব্লগারকে। স্বাধীন মত প্রকাশ মানে এই নয় যে তা অন্য কাউকে আঘাত করবে। ব্লগের সুন্দর পরিবেশের ব্যাপারে একমত ছিলেন সবাই। তার পরও সবাই চান তাঁর লেখায় যেন কোনো খবরদারি না থাকে। আবার নাম-পরিচয়হীন অপরিচিত কোনো ব্লগারের রুচিহীন বিষয়ও তাঁরা দেখতে চান না ব্লগে। সে জন্যই ব্লগে নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি চলে আসে।
চাই নিয়ন্ত্রিত নিয়ন্ত্রণ
বাংলা ব্লগগুলোর মধ্যে সসম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রিত ব্লগ যেমন আছে, আছে একেবারে নিয়ন্ত্রণহীন ব্লগও। দুটি বিষয় নিয়েই বিতর্ক আছে ব্লগারদের মধ্যে। ব্লগার রাজ্জাক বলেন একেবারে সম্পাদনা না করায় অনেক সময় খুব বিব্রতকর লেখা চলে আসে। সেগুলো সম্পাদনা না করলে ব্লগের পরিবেশ নষ্ট হবে। সেই সঙ্গে বেনামে অ্যাকাউন্ট খুলে যা ইচ্ছা তা-ই লেখার ব্যাপারটাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্লগার জামাল ভাস্কর বলেন, ‘নিয়ন্ত্রিত ব্লগের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে আমোদের। আবার একেবারে ছেড়ে দিলেও অনেক সময় বিব্রত হতে হয়।’ ব্লগার অন্যমনস্ক শরৎ বলেন, ব্লগে কী লেখা থাকবে, কী থাকবে না তা নিয়ে বাধা ধরা নিয়ম না থাকলেও চলবে। ব্লগাররাই এসব বিষয় ঠিক করবেন। নিয়ন্ত্রণের এই বিষয়টিতে পাঠক তথা ব্লগারদের সঙ্গেই পরিপক্বতা আসবে। ব্লগার একরামুল হক শামীম বলেন এ জন্যই ব্লগ সাইটে নিয়ন্ত্রিত নিয়ন্ত্রণ দরকার। আর সেই সঙ্গে ব্লগারদের দাবি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন কোনো বিশেষ ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থ রক্ষা করা না হয়। ব্লগ সাইটের পরিবেশটা একটু সুস্থ রাখতে হলে যতটুকু নিয়ন্ত্রণ দরকার, ঠিক ততটুকু সম্পাদনা হলেই চলবে। এর একটা ভালো সমাধান দেন সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বলেন, আসলে ব্লগাররা কখনো উল্টাপাল্টা লিখে ব্লগের পরিবেশ খারাপ করেন না। যারা এটা করে তারা ব্লগার না, মাঝে মধ্যে ঢিল ছুঁড়তে আসে ব্লগ সাইটগুলোতে। ব্লগারদের স্বার্থেই এসব বিষয় খেয়াল রাখা হবে প্রথম আলো ব্লগে।
ভালো ব্লগ তৈরি করতে ব্লগারদেরই সম্মিলিতভাবে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করতে হবে। আর মতপ্রকাশের নাগরিক মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, ব্লগারদের এগিয়ে আসতে হবে।’ এ সমাবেশে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন মৃদুল মাহবুব, সফেদ ফরাজী, মাহমুদ শাওন, কৌশিক আহমেদ, মেহরাব শাহরিয়ার, ফারহান দাউদ, তারিক টুকু, ইফতেখার ইনান, নুরুন্নবী হাছিব, তাওহিদ মিলটন, ফেরদৌস আহমেদ তানিনসহ অনেকে।
যা থাকবে প্রথম আলো ব্লগে
মতবিনিময়ে নানা প্রসঙ্গে উঠে এল প্রথম আলো ব্লগের নানা সুবিধার কথা। সম্পুর্ণ বাংলা ইউনিকোডভিত্তিক এ সাইটটিতে থাকবে প্রচলিত প্রায় সব কি-বোর্ডে লেখার সুবিধা। পশ্চিম বাংলার ব্লগারদের জন্য উপযোগী কি-বোর্ডও থাকবে। কম্পিউটারে যারা বাংলা লিখে অভ্যস্ত নয় তাদের জন্য থাকবে ফোনেটিক কিংবা ভার্চুয়াল কিবোর্ড। অ্যাজাক্সভিত্তিক এ সাইটটি ধীরগতির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য সহজগম্য হবে। থাকবে ব্লগারদের মধ্যে বাংলা ভাষায় ই-মেইল ব্যবহারের সুবিধা। ব্লগারদের জন্য ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন প্রচারের সুবিধা। প্রথম আলোতে প্রকাশিত লেখা নিয়ে অবাধ মতপ্রকাশের সুযোগ। প্রত্যেক ব্লগারের জন্য থাকবে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিগত পাতা সাজানোর আয়োজন। থাকবে বিষয় অনুসারে ভালো লেখা বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা। সঙ্গে অন্য বাংলা ব্লগের নানা সুবিধা তো থাকবেই। সব মিলিয়ে সবার জন্য ভালো একটি ব্লগ সাইটের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছে প্রথম আলো ব্লগ।
ঠিক আছে, পড়ে রাখলাম।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৭:৩৯ পুর্বাহ্ন
ওকে
(F)পড়লাম,ক্লিক-সহ।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৭:৩৪ পুর্বাহ্ন
মামা নামগুলান দেখছেন??
নেতিমালায় চোখ বুলাইলাম, কী কী করা যাইব এরকম কোনো ইতিমালা দেয় নাই?
৫. কোনো ব্লগারের অবৈধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য যদি প্রথম আলো মামলার সম্মুখীন হয় তবে মামলার সম্পূর্ণ খরচ উক্ত ব্লগারকে বহন করতে হবে।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৮:০৪ পুর্বাহ্ন
প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ ব্লগে প্রকাশিত লেখার স্বত্ব দাবি করে না। তবে ব্লগে প্রকাশিত পোস্ট প্রয়োজনে প্রথম আলোর অন্য কোনো সংস্করণ বা মাধ্যমে ব্লগারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রকাশ করা হতে পারে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পত্রিকায় প্রকাশের জন্য লেখাটি জমা দেয়া যাবে না। ব্লগার প্রথম আলোর নিয়ম অনুসারে লেখার সম্মানী পাবেন।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৮:৪৯ পুর্বাহ্ন
কি কি করা যাবে, সেটাই বুঝতেছি না!
এখন লোকালটকের কি হবে রে কালিয়া!
সুশান্ত ২৪/১০/০৮ ৯:২৫ অপরাহ্ন
কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অবমাননামূলকভাবে কোনো প্রাণীবাচক নাম দেয়া যাবে না।
কিছুই তো বাকি রাখে নাই!
হাত পা বাইন্ধা এইবার কইতেছে সাতরাও…………..।
নীতিমালার শেরাদ্ধ করি………।
ঐটাতে পুতু-পুতু করা মানুষ নাইলে বাচ্চা পোলাপাইন যাক… এছাড়া এক অক্ষর লেখতেও তো বারবার নীতিমালা পড়তে হইবো………।
আসলেও….. যত গর্জে তত বর্ষে না………
রেজিস্ট্রেশন কেমনে করতে হইবো আমারে কু একটু কইয়া দেন। আমি রেজি: করুম।
আমার দম বাইরুইয়া যাইতাছে গিয়া।
নকীব ২৪/১০/০৮ ১০:২৬ পুর্বাহ্ন
চাচাজান…রেজিঃ করার সিষ্টেমটা বুঝলে ওইটা লইয়া একটা পোষ্ট দিয়েন
গেদু চাচা ২৪/১০/০৮ ১০:২৯ পুর্বাহ্ন
পুলাপান চালাক হইয়া গেছে রে………..।
কথা মাটিত পড়বার আগেই বুইঝা ফালায়।
আমি রেজিঃ করুম কিন্তু এতসব নিয়ম কানুন মাইনা ব্লগামু কেমনে? এত ঢাক ঢোল পিটাইয়া শেষে কিনা এই অবস্থা।
দেখা যাক, আরেকটা বাংলা ব্লগ- ব্লগ সংস্কৃতিরই অগ্রযাত্রা।
রেজিঃ করতে হইলে ইনভাইটেশন কোড লাগে
নকীব ২৪/১০/০৮ ১০:০৫ পুর্বাহ্ন
ইনভাইটেশন কোড কেডা দিবো???
ব্লুজ ২৪/১০/০৮ ১০:১২ পুর্বাহ্ন
হেডাতো কয় নাই। বোধহয় হেগো লগে যোগাযোগ করন লাগব।
মলিকিউল ২৪/১০/০৮ ১০:১৭ পুর্বাহ্ন
ঐটাই! চেহারা সুরুত পছন্দ হইলে কোড দিবো। মানে হইলো তেল মর্দন প্রথম থাইকাই শুরু………..।
নকীব ২৪/১০/০৮ ১০:২৫ পুর্বাহ্ন
ব্লগটা মনে হয় প্রতম আলো গং দের নিজস্ব লোকদের জন্য………………………
নকীব ২৪/১০/০৮ ১০:২৯ পুর্বাহ্ন
এইটা ৪ই নভেম্বর উন্মুক্ত করা হবে জন সাধারণের লাইগা………………………
লোকালটকের লাইগা দুষ্ক হইতাসে, বেটা তো নিজের ব্লগে ডেইলি ব্যান খাইবো
ওরে বাবা……………এতো আরেক সংবিধান!!!!!!!
লেখক ভাই, আপনি কিছু জানেননি কেমনে রেজি: করতে হইবো?
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৯:২৪ অপরাহ্ন
৪ তারিখে থেকই সবাই পারবো..এইডা এখন ক্লোজড ব্লগ
তাইলে ছাগুরামের লিগাই সব হইলো!!!
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৬:৪৪ অপরাহ্ন
বলতে..অলরেডী ব্যানা-ব্যানি শুরু হইছে
আমারমনে হয় এখন রেজিঃ করা যাইবো না.এইটা পরীক্ষামূলক সংস্করন.হুদাই গুতায়া লাভ নাই……………
যে যে শর্ত মানুম না…
১.ব্লগে পোস্ট দিয়ে কোনো নারী বা পুরুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেম নিবেদন করা যাবে না।
২.কর্তৃপক্ষ যে কোনো ব্লগ ও ব্লগারকে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাতিল করার অধিকার রাখে।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৯:২৩ অপরাহ্ন
ঠিক…৪ তারিখের পর ওপেন হইবো
ওরে কত বড় নীতিমালা রে! ভ পাইছি!
প্রথম আলো এসব জরুরি বিধিমালা থেকে চুরি করছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর চরম হস্তক্ষেপ।
বাউল ২৪/১০/০৮ ১১:৫৪ পুর্বাহ্ন
প্রথম আলোর চিঠিপত্রের কলামের নাম দিছে ব্লগ
গেদু চাচা ২৪/১০/০৮ ৪:৪০ অপরাহ্ন
সেকেন্ড ম্যান এর মন্তব্য এ বছরের সেটা মন্তব্য।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৯:২৩ অপরাহ্ন
“ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে অবমাননা ও কটাক্ষমূলক কোনো লেখা প্রকাশ করা যাবে না।”…………এই লাইনটাই আমার কাছে সব থেকে ভালো মনে হইছে……ড়াজাকার নো-এন্ট্রি
জাহাজ ২৪/১০/০৮ ৯:৪৬ অপরাহ্ন
রাজাকাররাও এখন ভাল ভাল কথা কয় … আসের কাসুন্দি ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, মিলে মিশে দেশ গড়ার আহ্বান জানায়। সুতরাং এই নীতিমালা মেনেই তারা আরামে ব্লগিং করবে এবং করছে।
কয়দিন পর তো বলবে তারাই দেশ স্বাধীন করেছে। — এইটাকে কী অবমাননার পর্যায়ে ফেলা যাবে?
জামাত শিবিরের প্রশংসা করবে …. এর জন্য তো নীতিমালার এই ধারা ভঙ্গ হবে না।
রাজাকারদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবে … এর জন্য তো নীতিমালার এই ধারা ভঙ্গ হবে না।
অর্থাৎ সামান্য কিছু ছাড় দিয়ে (গন্ডগোলের বছর না বলে) তাদেরকে পেট্রোনাইজ করা যাবে।
এমনকি রাজাকারকে রাজাকার বলে গালি দিলেও তথ্য প্রমান থাকতে হবে যে সে ধর্ষন করেছে … প্রমাণ করবেন কীভাবে? ছবি তূইল্যা তো আর রাখি নাই … রাখা যায়ও না … রাখা উচিতও না। একজন ধর্ষিত নারীকে ঘটনার বর্ণনা দিতে বলাটা ধর্ষনের চেয়ে কম অত্যাচার নয়।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ১১:৪০ অপরাহ্ন
ভাত্য রাইসুরে ধরেন
এত কথা মনে রাখন লাগবো? আমি রেজি করমু কেম্নে?
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ১:১৪ পুর্বাহ্ন
আফা এইডা ৪ তারিখের পর ওপেন হইবো
বস, যে লিখবে তাকে হাজার বার ভাবতে হবে কি লিখছি। এই বিধিবিধান কি লিখুনির উপর হাতকরা লাগাচ্ছে না? আমি আমার মত লিখা পাঠাব, পরের দায়িত্ত প্রথম আলোর। তারা ব্লগে দিক বা নাদিক, আমি নিশ্চই ওদের মত লিখা পাঠাব না। আর যদি ওদের মত লিখি তাহলে আমার নিজস্বতা থাকলো কোথায়?
নিয়মটা কি একটূ বেশি হয়ে জাচ্ছে না?
ঠিক বুঝতে পারছিন……………।।
>>> মাকড়শা<<< ২৪/১০/০৮ ৮:৩৭ অপরাহ্ন
ঐতিহাসিক নীতিমালা!
হালারা আমারে মন্তব্য করতে দিচ্ছে না
ট্র্যাকব্যাকঃ
আপনাকে অবশ্যই লগইন করতে হবে মন্তব্য করার জন্য!
আমার মেনু
নির্বাক হাসান
এই পর্যন্ত 116 টি ব্লগ লিখেছেন
প্রিয় পোস্ট
1 জন ব্যবহারকারি এই পেইজটি পড়ছেন!
1 জন অতিথি
সদস্যরা হলেনঃ