বাংলায় নাম
আরিফ জেবতিক
পরিচিতি
সদর দরজা
শকুনের একদিন
এক.
আজকাল চাইনিজ ডুয়েল সিমের মোবাইল ফোনগুলো খুব চলে। কিন্তু আমি একটু সাবেকীই রয়ে গেলাম। ডুয়েল সিমের ব্যাপার স্যাপার ঠিক বুঝি না, সেখানে কি একটি সিমকে বন্ধ রেখে আরেকটা সিম চালু রাখা যায়? কে জানে। আমার তাই মোবাইল ফোন দুইটি। প্রথমটি একটি দামী সেট, এটির নাম্বার সবাই জানে। বিজনেস কার্ড থেকে শুরু করে তদবিরকারী থানার দালাল, সোর্স হিসেবে কাজ করা সচিবালয়ের অসন্তুষ্ট কর্মকর্তা, ফেসবুকের ওয়াল সবখানেই এই নম্বরটি দেয়া। কাজে অকাজে মানুষ এই নম্বরেই ফোন করে, তাই ইচ্ছে মতো ফোনটি অন-অফ করি।
দ্বিতীয় আরেকটি ফোন আছে, সস্তা ধরনের সেট, সেটার নম্বর জানে মাত্র ৩ জন। প্রথম জন আমার বউ, দ্বিতীয় আর তৃতীয়তে আছেন সম্পাদক আর চিফ রিপোর্টার। এই নম্বরটি চব্বিশঘন্টা খোলা থাকে, কিন্তু চব্বিশদিনেও একবার ফোন আসে কি না সন্দেহ। বলা আছে, প্রথমটি বন্ধ থাকলেই শুধু এই নম্বরে ফোন করা যাবে, তা-ও খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই নম্বরে ফোন করার দরকার নেই।
এবার এই দ্বিতীয় ফোনটিই বাজছে। আমি ব্যাগ হাতড়ে হাতড়ে ফোনের অস্তিত্ব খুজি। ব্যাগে রাজ্যের জিনিসপত্র, ফোনটি কোন তলায় পড়ে আছে কে জানে। বিরক্তিতে আমার ভুরু কুচকে যায়। সকাল থেকে ক্লাবে বসে ৪টা সংবাদ সম্মেলন কাভার করেছি। সবগুলোই গুরুত্বহীন। এই দেশে লোকজনের আজব আজব শখ আছে, এই শখগুলোর মাঝে একটি হচ্ছে প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করা। এরা ফটাফট প্রেসক্লাবের রুম ভাড়া করছে আর সাংবাদিক সম্মেলন করছে। অধিকাংশই ফালতু, ছাপা হয় না। কিন্তু পত্রিকার পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে একজন রিপোর্টারকে রোজই প্রেসক্লাবে হাজির থাকতে হয়। কাজ সহজ, কারণ এসব প্রেস কনফারেন্সের খুব কমই ছাপা হয় আমাদের পত্রিকায়। এমনিতে সমস্যা হয় না, কিন্তু মাঝে সাঝে কোনো সাংবাদিক সম্মেলনের খবর প্রকাশের জন্য উপর মহলের অনুরোধ আসে। হয়তো দেখা গেল মগডালে মুগডাল চাষী সমিতির সহ-সভাপতির বন্ধু হলেন আমাদের সম্পাদক কাম প্রকাশকের শালীর জামাই। তখন খবরটি লিখে দিতেই হয়, আর যদি কোনোক্রমে শালীর জামাইয়ের নাম বাদ পড়ে তাহলে কেলেংকারির শেষ থাকে না। এজন্যই যেদিন এখানে আমার ডিউটি পড়ে আমি সবগুলো সাংবাদিক সম্মেলনে একবার করে ঢু মারি। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টাতে বেশি। বিকেলেও থাকে কয়েকটা। কিন্তু দুপুরের দিকে এসব সম্মেলনওয়ালারা হাজির হন কম, তখন ক্লাবের ক্যান্টিনে খেয়ে একটা সোফা দেখে গুটিশুটি শুয়ে বেশ আয়েশ করা যায়। এখন তা-ই করছিলাম, চোখটা শুধু লেগে এসেছিল, এই সময়ে এই দ্বিতীয় ফোনটি বিপত্তি বাধিয়ে দিল।
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রিনে উঠা নাম্বারটা দেখি। চিফ রিপোর্টার।
'স্লামালেকুম সাখাওয়াত ভাই।' আমি গলায় যতদূর সম্ভব সতেজতা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি। কিন্তু সাখাওয়াতও ঘাগু। সে প্যাচ খেলে।
"কী করছিলা?"
"এই তো সাখাওয়াত ভাই, এক সোর্সের জন্য প্রেসক্লাবে ওয়েট করছি। ভালো একটা স্টোরি পাওয়া যাবে মনে হচ্ছে। ওয়াসার এক বড় মুর্গাকে সাইজ করব ইনশাল্লাহ।'
সাখাওয়াত ওয়াসার মুর্গা জবাইয়ে উৎসাহ দেখায় না। সরাসরি বলে,
'গলা শুনে তো মনে হয় চিৎ হইয়া ঘুমাচ্ছিলা। তোমার ঐ ফোনটা বন্ধ।'
আমি হালকা ভাবে নেয়ার মতো করে বলি, 'হা হা, কী যে বলেন? দিনে দুপুরে ঘুমায় নাকি কেউ?' মনে মনে বলি, হারামজাদা, আমি ঘুমালে তোর বাপের কী?
সাখাওয়াত কথা সংক্ষেপ করে, "শোনো, কাজে ফোন করেছি। তুমি আনোয়ারকে চিনো না? তোমরা একসঙ্গে তো পুর্বাশায় কাজ করতা।''
আমি বলি, 'হ, চিনি। পূর্বাশাতে আমরা একলগেই ছিলাম। যোগাযোগ নাই অবশ্য সাত-আট বছর। কেন, নিবেন নাকি আমাদের এইখানে?'
সাখাওয়াতের গলায় এবার স্পষ্ট ক্ষোভ টের পাই। বইয়ের বাসা বাদ দেয় সে। 'আইচ্ছা, তুমি কোথায় সত্যি করে বলো তো? ফোন বন্ধ কইরা কোথায় ডুব মারছ? সারা দুনিয়া জানে আনোয়ার আর তার বউ খুন হইছে, আর তুমি আমার সঙ্গে ফাজলামো করো?'
আমার বুকটা ধ্বক করে উঠে। বলে কী এসব। প্রেসক্লাবে নিশ্চয়ই এতক্ষণে সবাই জানে। না হয় ঘুমিয়েই ছিলাম, তাই বলে এতবড় খবরটা কেউ একজন তো আমাকে জাগিয়ে তুলেও বলতে পারত। আমি চুপ করে থাকি। এই মুহুর্তে কথা বলে লাভ নেই। এরকম হাতেনাতে ধরা পড়ার পরে কথা বলার কিছু থাকে না।
সাখাওয়াত ভাই ওদিক থেকে বলেন, 'আমার তো কানে আসে যে তুমি কাজকাম বাদ দিয়া সারাদিন প্রেসক্লাবের সোফায় ঘুমাও। পত্রিকার ইজ্জত তো আর রাখলা না মিয়া। যাই হোক, এইটা নিয়া তোমার সঙ্গে আমি পরে কথা বলব। এখন তুমি এক কাজ করো। আনোয়ারের মার্ডার নিয়া পাত্তা লাগাও। একটা এক্সক্লুসিভ কিছু করো। হাজারিবাগের ওসির সঙ্গে নাকি তোমার এক্সট্রা খাতির আছে কইছিলা সেদিন। এর লগে লাইন লাগাও। কেস ঐখানে। খালি চিৎ মাইরা ঘুমাইয়া থাকলে সাংবাদিকতা করন যায় না।''
চিফ রিপোর্টার ফোন রেখে দেন, আমার ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে। মনে হচ্ছে একটা এক্সক্লুসিভ কিছু করে ফেলতে পারলে এই যাত্রা রেহাই পাওয়া যাবে। তবে খবরটি শুনেই, আনোয়ারের জন্য আমার খারাপ লাগতে শুরু করে। হাসিখুশি ছেলে ছিল। বয়েসে কয়েক বছরের ছোট হলেও পূর্বাশায় থাকতে আমার সঙ্গে ভালো খাতির ছিল। তবে এখন মন্দের ভালো হচ্ছে, হাজারিবাগের ওসির সঙ্গে সত্যি সত্যিই আমার এক্সট্রা খাতির আছে। শিক্ষামন্ত্রীকে ধরে কয়েকদিন আগে তার ওসির এক মামাতো ভাইয়ের ট্রান্সফার করিয়ে দিয়েছি।
আমি হুড়মুড় করে বেরিয়ে পড়ি। প্রেসক্লাবে এর মধ্যেই দেখি সাংবাদিক নেতারা চলে এসেছেন। এখন একটা মানবন্ধন হবে মনে হয়। সাংবাদিক সম্মেলনের মতো এই মানববন্ধনও আমাদের আরেক বদভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। কিছু করতে না পারলে একটা ব্যানার নিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকে।
আমি এসব নেতাদের পাত্তা না দিয়ে মোটরসাইকেল স্টার্ট দেই।
প্রথমেই থানায় যাওয়া দরকার।
দুই.
পৃথিবীতে সবচাইতে বেঈমান প্রজাতির নাম হচ্ছে পুলিশ। এরা উপকারীর উপকার কোনোদিনই স্বীকার করতে চায় না। উপকার পাওয়ার জন্য হাতে পায়ে ধরবে, কিন্তু কাজ শেষ হলেই চোখ উল্টে ফেলবে। কিন্তু দেখা গেল, হাজারীবাগের ওসি এরকম লোক না। অবশ্য সাংবাদিকদের সঙ্গে তো আর একবারের কাজ না, ঘুরে ফিরে দুজনকেই দুজনের দরকার, তাই খাতির রাখতেই হয়।
কিন্তু এই ওসি খাতির অল্পবিস্তর করেন নি, অনেকখানিই করে ফেলেছেন। তিনি আমাকে আনোয়ারের খালার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। আনোয়ারের ৫ বছরের বাচ্চাটি এখানেই আছে। সে-ই এই খুনের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। খুনিরা যখন আনোয়ার আর তার বউকে গুলি করে, ছেলেটি তখন আনোয়ারের আঙুল ধরেছিল। ছেলের জন্যই কিছু একটা কিনছিল আনোয়ার। এই সময়ে দুই খুনি এসে খুব কাছে থেকে গুলি করেছে।
আমি আনোয়ারের ছেলেটার দিকে তাকাই। ফুটফুটে ছেলে, কিন্তু চোখগুলো কেমন দেবে গেছে। কাদছে না ছেলেটা, আমি এই বাসায় আসার পরে একবারও ওকে কাদতে দেখিনি। হয়তো এখনও তার ক্ষতিটা বুঝতে পারেনি নয়তো একেবারে পাথর হয়ে গেছে। আমার ব্যাগে একটা ছোট ডিজিটাল ক্যামেরা থাকে, সবসময় তো ফটোগ্রাফারের সাহায্য পাওয়া যায় না, তখন চট করে ছবিটবি তুলতে হয়। আমি আলগোছে ক্যামেরাটা বের করে টেবিলের ওপর রাখি। তারপর ছেলেটার সঙ্গে হালকা কথা বলা শুরু করি।
'নাম কি তোমার বাবু?'
'আমার ভালো নাম খালেদ আনোয়ার চৌধুরী। ডাকনাম দীপ্ত।' ছেলেটা মুখস্তের মতো বলে। বাচ্চারা এভাবেই তাদের নাম বলে, হয়তো স্কুলে শেখায়।
আমি বলি, 'তোমার বাবা-মা'র কী হয়েছে?'
ছেলেটা একবার আমার দিকে তাকায়, তারপর তাকায় তার দাদুর দিকে-আনোয়ারের খালা, যার কোলে সে বসে আছে। তারপর স্বাভাবিক গলায়ই বলে,
'বাবা মরে গেছে। মা মরে গেছে।'
বাচ্চাটা মৃদু গলায় কথা বলছে, ভয়েস পাওয়া যাবে কী না কে জানে।
'কীভাবে মরল?' আমি প্রশ্নের ফাকে মিনি টেপ রেকর্ডারটা আরেকটু কাছে ঠেলে দেই। ভয়েসটা পাওয়া দরকার, নইলে হারামজাদা চিফ রিপোর্টার বিশ্বাস করবে না।
ছেলেটা থতমত খেয়ে যায়। বলে, ' ঐ লোকটা একটা পিস্তল দিয়ে...' কথা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সে কথা হাতড়ায়, মনে হয় ঠিক মতো বলতে পারছে না।
আমি কথা জুগিয়ে দেই, 'গুলি করল?'
ছেলেটা কথা ফিরে পেয়ে বড় করে মাথা দোলায়। 'হ্যা, হ্যা, গুলি করল।'
'কাকে আগে গুলি করল? বাবাকে নাকি মা'কে?'
ছেলেটা এবার নিশ্চিত, 'বাবাকে।'
তারপর ঝড়ের বেগে আমার প্রশ্ন চলতেই থাকে।
'যে গুলি করল, তার কি গোফ ছিল?'
'চেকের শার্ট?'
'পিস্তলটা কি বাম হাতে ধরা ছিল নাকি ডান হাতে?'
'বাবা তখন কী বলল?'
'মা কিছু বলল?'
আনোয়ারের ছেলেটা সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারে না। মাঝে মাঝে এই কথা বলে তো কখনো ঐ কথা। গোফ ছিল কি না বলতে পারল না। অবশ্য এত ছোট বাচ্চা এত কম সময়ের দেখায় বলতে পারার কথাও নয়।
একসময় আমার প্রশ্ন থামে। ভালোই কাজ দাড়িয়েছে। সবাই যখন পুলিশের ভাষ্য দিবে, আমরা কালকে বক্স নিউজ করে দেব বাচ্চাটার সাক্ষাতকার। ছবিগুলোও ভালো এসেছে। ক্লোজ শট আছে কয়েকটা। তবে চোখে জল থাকলে আরেকটু টাচি হতো, কিন্তু বাচ্চাটা যখন কাদছেই না, তখন কী আর করা। ফটোশপে হয়ত একটু টাচ দিতে পারে অফিসে।
আমি সন্তুষ্ট মনে ব্যাগ গুছাতে থাকি। বাচ্চাটা উসখুশ করে খানিক্ষণ। মনে হয় আমাকে কিছু বলতে চায়। আমি বলি, 'কিছু বলতে চাও দীপ্ত?'
ছেলেটা বলে, 'তুমি কি আমার বাবার অফিসে চাকরি করো?'
আমি বুঝি ছেলেটা ঠিকই আমাকে সাংবাদিক হিসেবে চিনেছে। মাথা দুলিয়ে বলি, 'হু, আমি তোমার বাবার অফিসে চাকুরি করি।'
ছেলেটা এবার বলে, 'বাবা অফিস থেকে কখন আসবে? আমাকে কখন নিয়ে যাবে?'
আমি কিছু না বলে এক দৃষ্টিতে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকি।
আমার দ্বিতীয় মোবাইলটা বাজছে। চিফ রিপোর্টার নিশ্চয়ই একটা এক্সক্লুসিভ নিউজটার অবস্থা জানতে চাইছে...
-----------------
গল্পের বাইরের অংশ:
সাগর আর রুনি মারা গেছে। তাদের ছেলে 'মেঘ' এর বয়েস মাত্র ৫ বছর। এই বাচ্চা ছেলেটার ইন্টারভিউয়ের পেছনে ঘুরছেন আমাদের সাংবাদিকরা।
আমি ভোর পৌনে পাচটায় এই লেখাটি লিখছি।
আমিও সাংবাদিক মানুষ। আর আমার মেয়েটার বয়েস প্রায় ৪ বছর। সেও ফটফট করে কথা বলে...।
- ক্যাটেগরি:
- আরিফ জেবতিক-এর ব্লগ
- মন্তব্য প্রদানের জন্য লগইন অথবা রেজিস্টার করুন
- ১৪৭০ বার পঠিত
Twitter-এ প্রকাশ করুন

মন্তব্য
-------------------------
সর্বংসহা ধরিত্রী মাঝে মাঝে হিংস্র হয়ে ওঠে
বাঙালি আবার জেগেছে জামাত-শিবিরকে রুখতে ...
জয় বাংলা।
অযথা।
কে করবে সমাধান?
কে লড়বে সময়ের সাথে?
কে বলবে জাগো বাহে.......সে নেই সে নেই।
____________________
ঘর ছেড়ে ধন খুঁজিস কেন বনে বনে?
না কাদলে মাও দুধ দেয় না। জানাতে হবে তবেই না সমাধান।
✪✪✪✪✪
লাফাই ঝাপাই,
আকাস বাতাস কাপাই
আমি তালপাতার সেপাই
বিদ্র : দেশ রাজাকার মুক্ত করতে না পারি, ঘৃণা করা ঠেকায় কে?
http://www.kalerkantho.com/?view=details&type=gold&data=University&pub_no=790&cat_id=1&menu_id=13&news_type_id=1&index=2
___________________
------------------------------
শ্লোগান আমার কন্ঠের গান, প্রতিবাদ মুখের বোল
বিদ্রোহ আজ ধমনীতে উষ্ণ রক্তের তান্ডব নৃত্য।।
দূর্জয় গেরিলার বাহুর প্রতাপে হবে অস্থির চঞ্চল প্রলয়
একজন সূর্যসেনের রক্তস্রোতে হবে সহস্র নবীন সূর্যোদয়।।
নীতির কথা শুনাতে একটা কাহিনী বলি।
বাংলাদেশ থেকে পড়তে একটা ছেলে এই শহরে এসেছিল ২ বছর আগে। এক সকালে গেছে চুল কাটাতে। সেলুনের মেয়ে চুল কাটার আগে চুল ভেজাতে গেলে ঐ ছেলে বাধা দিয়ে বলছে আমার চুল ভেজানোর দরকার নাই। আর নাপিত মেয়ের কথা চুল ভেজানো ছাড়া তার পক্ষে চুল কাটা সম্ভব না, কারণ চুল কাটার স্কুলে তাকে এভাবেই শেখানো হয়েছে। মেয়ের এককথা, যেভাবে আমি আমাকে শেখানো হয়েছে আমি এর বাইরে যেতে পারব না। দুইজনের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ কথা বার্তার পরে ঐ ছেলেকে চুল না কেটেই বাড়ি যেতে হয়েছিল।
বাংলাদেশে আমরা প্রায় সবকিছুই দেখে, শুনে শিখতে চাই। পড়ে শেখার লোক খুব কম। ব্যবসাটাই সবার কাছে মুখ্য।
------------------------------------
আগামিতে ব্লগ লিখতে হলে সবাইকে ইন্টার্নেটসর্দার, নেটিজেনশিক্ষাগুরু খালিদী ভাইয়ার ব্লগে শিক্ষানবিশী করে আসতে হবে- তাই ব্লগ লেখা বন্ধ আছে
বাচ্চাটার কথা ভাবলেই মাথা ঘুরে উঠছে।
~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!
কি বলবো, মনটা ভীষণ খারাপ।
--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........
আরিফ ভাই, ওয়ারিশনামা করে রাখেন। কখন কাজে লাগে ....
______________________________________
নিজেকে কখনও একা ভাবতে নেই......
*************************************************************************************
আমি অতো তাড়াতাড়ি কোথাও যেতে চাই না;
আমার জীবন যা চায় সেখানে হেঁটে হেঁটে পৌঁছুবার সময় আছে,
পৌঁছে অনেকক্ষণ বসে অপেক্ষা করবার অবসর আছে।
আমি মেঘের জন্য খারাপ ফিল করছি, অনেক অনেক খারাপ।
তার জীবনটা বিভীষিকা হয়ে গেল। এতিম অনেক থাকে, অনেক আছে, অনেক হয়, কিন্তু নিজের রক্তাক্ত বাবা-মার পাশে একলা বসে মেঘ!!! আমি শুধু ভাবছি, তার মানসিক চাপ কোন পর্যায়ে পৌছেছে।
*
অ,টঃ "ডানোর পট" মানে বেকুব, ভোদাই, তেল চুকচুক, হোঁতকা, ফার্মের মুরগী, নিজের ঘড় ছাড়া বাহিরের কিছু জানে না, আশৈশব বাবা মার আদরে কোলে কোলে পালিত, সকল বিপদ আপদে সুট করে পালিয়ে যাওয়া, মায়ের দুধের বদলে ডানোর দুধের পটের দুধ খেয়ে রিষ্ট পুষ্ট এক আধা মানব।
লেখাটা পরে চোখে পানি এসে গেল
বাচ্চাটার কথাই কেবল ভাবছি কাল থেকে । এ কোন সমাজ এ কেমন মানুষ এদের কি কোন বোধ নেই? এই শিশুটার সাথে এসব হচ্ছেটা কি ! ব্যবসার কথা বলবে অনেকেই তারপরও আমাদের জাতি হিসেবে মানবিক বোধ এর স্তর এখনো অতি নিম্ন স্তরে থেমে আছে
খবরটা পড়ে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
ছেলেটা যখন বুঝতে পারবে যে তার বাবা-মা আর কখনো ফিরে আসবে না তখন চোখের পানি শুখাবে না। জীবন ভর ঝরতে থাকবে। যদি এখন তার চোখের পানি ঝরতো তা হলে সারা জীবন ঝরাতে হত না।
~***********************~
//যার সাথে সংসার করা সম্ভব নয় তার সাথে পিরিতের কথা বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।\\
এক কথায় যদি বলি তবে বলতে হবে ছুঁয়ে গেলো!
মাঝে মাঝে ভাবী কেন এমন হয়; কেন এমন হবে!
গোঁফ আছে অথবা নেই কিংবা পিস্তল ডান না বামহাতে ছিল এসব প্রচলিত প্রশ্নের ঝাঁপিতে সমাজ বাস্তবতাকে খুব করে নাড়া দিয়ে যায়।
এখানে কতটা বাস্তবতা আর কতটা প্রশ্নের যৌক্তিকতা আছে তা নিয়ে খুব বলার কিছুই নাই।
দৃশ্যে থেকে দৃশ্যের অন্তরালে যাবার এ প্রবণতার ব্যাখ্যা কী তা জানা নাই।
গল্পে সমাজ বাস্তবতা আর এর ব্যবচ্ছেদের রূপ ফুটে উঠেছে এখানে আমি নিঃসন্দেহ।
শুভকামনা
ছোটগল্প পড়া ও লেখা দুটোই আমার খুব প্রিয়। একটা সুপাঠ্য গল্প কত সহজে পড়ে ফেলি অথচ একটা গল্পকে সুলিখিত করতে কতইনা পরিশ্রম। আপনার গল্পটা পড়ে মনে হল এতটুকু কষ্টকর প্রয়াস ছাড়াই আপনি অসাধারণ আবেদনময় একটা গল্প আমাদের উপহার দিলেন। শেষের লাইনটা পড়ে বেদনায় বুকটা মুচড়ে উঠল; এখানেই গল্পকারের সার্থকতা, এখানেই গল্পের নাটকীয়তা যা কোন গল্পকে ছোটগল্প হয়ে ওঠার শর্ত পূরণে সহায়তা করে।
তবে গল্পের বাস্তবতার চেয়ে আমাদের বাস্তবের বাস্তবতা বোধহয় আরো বেশি রূঢ় কারণ গল্পের বাস্তবতা শিল্পোত্তীর্ণভাবে পরিবেশিত হলে তা আমাদের মনে আনন্দরস যোগায় কিন্ত বাস্তবের বাস্তবতা আমাদের জীবনকে ফালা ফালা করে টুকরো টুকরো মরুভূমিতে পরিণত করে।
লেখকের জন্য শুভকামনা, অনেক বড় লেখক হয়ে উঠুন( হয়ত ইতোমধ্যে হয়ে গেছেন।)
aparajita
পড়ার পরে চোখ মুছতে হল। হৃদয় ছোয়া লেখা।
=============================
অন্তহীন আমি
----------------------------------------------------------
ছাগু আর ছাগু নাই। বিবর্তনের ধারায় এরা শুয়োর হয়ে গেছে
দুঃখজনক,,,,,,,,
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
" যারা পাকিস্তানের সাথে রিকন্সিলিয়েশন এর ধুয়া তোলে , থুথু ছিটাই সেসব বেজন্মাদের মুখে "
যাঁরা এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হবেন না জেনেও লিখবার চেষ্টা করেন; মৌণ নুপুর বাঁজিয়ে জ্যোৎস্নার স্নানে শুদ্ধতায় অবগাহন করেন তারা হয়তো মেঘ-রোদ্দুরের মতোই কুশলী হন শান্ত মুর্ছনার কল্লোলে; তাঁরা হয়তো এমনই। তাঁরা হয়তো পাওয়া-না পাওয়ার দ্বন্দে প্রেমাষ্পদ ব্যগ্রতার ভাষায় বিশেষ রূপেই থাকেন। শ্রদ্ধা তব তাহাদের জন্যে।
কেন যে ক্যালেন্ডারের পাতায় ঝুলে থাকেন ঈশ্বর!!!!
-----------------------------------------------------------------
অমৃতের পুত্র আমি পঞ্চম, ক্ষয়ের আনন্দে চাইনা অমরত্ব।
দেহধাম ছেড়ে পাবো হয়তো স্বর্গ বা নরক; হাহ হাহ হাহ:
দেখো! মহাকাশ ডেকেছে লং-মার্চ, কেনা-বেচার ধরাধামে আমি আজন্ম এক ফুটপাথ।
কি লিখব আমার ছেলের বয়স ৩ বছর তবে ভয় পাচ্ছি না
mmt
শুধু্ই দীর্ঘশ্বাস
-----------------------
The road to success is always under construction....
ভয়াবহ একটা ধাক্কা দিলো আপনার লেখাটি। আমরা বোধহয় আর মানুষ নেই, পশুতে পরিনত হয়ে পড়েছি
_________________________________________________________________________________
ঢিল মারি তোর টিনের চালে...
কিসব?????
'''''' Man is mortal.''''''''' so be all people careful.''''''''''''''''''''
সারাদিন মনটা ভীষণ খারাপ, মেঘের মুখটা বারবার ভেসে উঠছে মনে
শিশুটার জীবনটা নরক করে দিল হায়েনারা
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ন্যায়ের কথা বলতে আমায় কহ যে
যায় না বলা এমন কথা সহজে
-----------------------------------------------------
আমি পথ চেয়ে আছি মুক্তির আশায়...
_____________________
ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।
খুবই দুঃক্ষজনক
**********************************************
"Do not make any decisions when you are angry And never make any promises when you are happy."
ভাল লেখা।