Skip to content

“বললে মা মার খায়, না বললে বাপ কুত্তা খায়”

ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

মাঝে মাঝে আমাকে ঘোড়া রোগে ধরে বসে। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা। অফিসের কলিকদের মোটর সাইকেলের মডেল চেঞ্জ করতে দেখে আমারও একটু শখ জাগে। কিন্ত সাধ জাগলেই তো হবে না সাধ্যও থাকতে হবে। একবার ভাবি পুরাতন মোটর সাইকেলটি বিক্রি করে নতুন একটা কিনি। কিন্তু ওটা বিক্রি করলে নতুন একটা কেনার অর্ধেক টাকাও পাওয়া যাবেনা। পুরাতন হলেও ততটা পুরাতন নয়। মাত্র পাঁচ বছর চালিয়েছি, মাইলেজ ১৩৫০০ মাত্র শো করছে। একটা পছন্দ হলো কিন্তু দুই বন্ধুর টানাটানিতে শেষ পর্যন্ত কারও ভাগ্যে জুটলো না। নগদ টাকাও নেই যে শোরুম থেকে একটা নিয়ে আসবো। সেকেন্ড হ্যান্ডই ভরসা। প্রথমে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড কিনেছিলাম, দ্বিতীয়টা ছিল ফার্স্ট হ্যান্ড। তাই বিক্রি করতেও মন চাচ্ছিল না। মাত্র ৪৮৫ কি.মি. চালানো একটা মোটর সাইকেলের খোঁজ পাওয়ার পর লোভ সামলাতে পারলাম না। কারণ বাজার দর থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা কম দামে দিতে চাচ্ছে। ২০ হাজার টাকা কমেও দাম ৯৫,৫০০/- টাকা, রেজিস্ট্রেশন করতে লাগবে ১৭,০০০/- টাকা মোট ১,১২,০০০/- টাকার মামলা। দরদাম ঠিক হলো, সময় নিলাম মাত্র দুই সপ্তাহ। এর মধ্যে মোটর সাইকেল বিক্রি করতে হবে। তারপরেও টাকা ধার করতে হবে।

১০ হাজার টাকা বায়না করলাম। মোটর সাইকেল বিক্রি করলাম ৫০,৫০০/- টাকায় পেলাম ৪৯,৫০০/- টাকা। কারণ মোটর সাইকেল বিক্রির পর দেখছি ব্লু বুকে ইঞ্জিন নম্বরে একটা ডিজিট বেশি লেখা হয়েছে তাও আবার শূন্য। ক্রেতার আপত্তির কারণে ব্লু বুক সংশোধন করতে হলো ৮০০/- টাকায় আর মোটর সাইকেল বিক্রিতে একজন সহায়তা করেছিল বলে তাকে দিলাম ২০০/- টাকা। ধার করলাম ১৫,০০০/- টাকা, নগদ ছিল ৩০,০০০/- টাকা। বাকী টাকা জোগাড় করার জন্য ভূট্টা আর গম বিক্রি করলাম। আর বিপত্তিটা এখানেই এসে বাধলো। ফসল বিক্রির টাকা সাথে সাথে পাচ্ছিলাম না বলে ভাবলাম এগুলো হাটে বিক্রি করেই অফিস যাব, একদিন একটু দেরিই না হয় হলো। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ভ্যান ডাকার জন্য রাস্তায় উঠতেই বেপারী ভ্যান নিয়ে এসে হাজির। তাকে বললাম আমার আজই টাকা দরকার তাই নিজেই হাটে যাচ্ছিলাম। এখনই টাকা দিব বলে ভ্যানে তুলে নিল ভূট্টার বস্তাগুলো। ভ্যানে আমিও উঠলাম টাকা নিয়ে আসার জন্য। আমার বাড়ির অদূরেই রাস্তার পাশেই তার বাড়ি, সর্ম্পকে আমার ফুফাতো ভাই।

ভ্যান হাটে না গিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে দাঁড়ালো ভাবলাম হয়তো আরও কিছু হাটে নিবে। ভ্যান থেকে নামার পর আমাকে বললো তুই বাড়ি যা আমি সকাল ৯ টার ভিতরে তোর টাকা বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি। আমি সরল বিশ্বাসে বাড়ি চলে এলাম আর ভাবলাম আজ না দিলে হয়তো আগের মতোই দুই/তিন দিন পর দিবে। এরপর প্রায় ছয়মাস চলে গেল টাকাটা আর দিল না, কয়েকবার সময় নেওয়ার পরেও। অবস্থাটা এমন যে “বললে মা মার খায়, না বললে বাপ কুত্তা খায়”। নিজেদের আত্মীয়স্বজনরা এমন প্রতারণা করতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবিনি কখনো।

মন্তব্য


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

Sad এই কথাটার রেওয়াজ যশোর অঞ্চলে। আপনের বাড়ী কই ?

----------------------------------------------------------
ছাগু আর ছাগু নাই। বিবর্তনের ধারায় এরা শুয়োর হয়ে গেছে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

রাজশাহী


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

একটা কাজ করতে পারেন ঐ আত্নীয়রে নিয়া হোন্ডায় চড়বেন, কিছুক্ষণ পর একটা ব্রিজ খুজে নিয়ে উনাকে সহ পড়ে যাবেন ।

________________________________________________________________________

একটা হাতিয়ার দাও
আমি সূর্য্যটাকে লুট করবো,
অতবড় ছায়াদানব, আজ প্রকাশ্যে
হাতিয়ার নেই আজ হাতের কাছে...........।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পরামর্শ ঠিক আছে। মরে গেলে ভাল আর যদি না মরে তাহলে চিকিৎসা খরচ আমাকেই বহন করতে হবে।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

পর মানুষে দু:খ দিলে দু:খ মনে হয় না
আপন মানুষ দু:খ দিলে মেনে নেওয়া যায় না

_______________________________________
বাঘ গুলো মরেছে স্বাধীনতার কালে
বিলাইরা বেচেঁ আছে গণতন্ত্রের কালে


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

খুবই সুন্দর ও সত্য কথা বলেছেন ভাইজান।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

ওর একটা গরু ধরে নিয়ে এসে বেধে রাখেন। যদি সেইরাম হেডম থাকে smile :) :-)

****************************
ঘৃণার চাষাবাদ জারি থাকুক প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।মানবতা মানুষের জন্যই সংরক্ষিত থাক।পশুদের জন্য বরাদ্দ থাক শুধুই উগ্র ঘৃণার দাবানল।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

সারা বাংলাদেশে ওর নিজস্ব বলতে আর কিছুই নাই। এক সময় খুবই সচ্ছল ছিলেন। স্কুল শিক্ষক ছিলেন, চাকুরী ছেড়ে বাস কিনেছিলেন দুইটা, সেখান থেকেই পতন শুরু। উনি মারা গেলে সরকারী গোরস্থানে দাফন করতে হবে। নিজের এবং শ্বশুরবাড়ীতে যে জায়গা পেয়েছিলেন তাও বিক্রি করে খেয়েছেন। এখন সম্পূর্ণ প্রতারণার উপরে চলছেন। শুধু প্রতারণা করেই আর পেনশনে সামান্য কয়টা টাকা দিয়ে তিনি ৫ সদস্যের পরিবারের ভরণ-পোষণ করছেন। চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। চেহারা পোশাকে অত্যন্ত ভদ্রলোক তিনি। তার স্ত্রী, সন্তান সবাই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কথা বলেন এবং কৃতকর্মের জন্য অনুসোচনা করেন, আবার একই অপরাধ করেন।


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

লেখা চালিয়ে যান -

“বললে মা মার খায়, না বললে বাপ কুত্তা খায়”
মানে কি??

______________________________________
'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমিই মুজিব'


ব্লগারের প্রোফাইল ছবি

যে কথা বলাও যায়না আবার না বলেও থাকা যায় না এরকম পরিস্থিতি বুঝাতে এটা বলা হয়। এটা একটা প্রবাদ বাক্য।

glqxz9283 sfy39587p07