বাংলায় নাম
বিপ্লব রহমান
পরিচিতি
সদর দরজা
দখলের থাবায় প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার...
দখলদারদের সন্ত্রাসে বিলুপ্ত হতে বসেছে কক্সবাজারের টেকনাফের প্রাচীন হ্নীলা বৌদ্ধবিহার (সেনপ্রু ক্যাং)। প্রায় ২০০ বছর আগে জমিদার রাপুয়া চৌধুরী এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে জানা গেছে, বৌদ্ধ বিহারটি দখলের নেপথ্য রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার থাবা।
ভাষাগত সংখ্যালঘু রাখাইন জনজাতির বৌদ্ধবিহারের ১১ একর জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে দফায় দফায় হামলা চালানো হচ্ছে। দখলদার-সন্ত্রাসীরা কয়েক দফায় মন্দিরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, কাঠের সিঁড়ি ও অবকাঠামো খুলে নিয়ে গেছে। চুরি হয়েছে মন্দিরের ২০টি প্রাচীন বুদ্ধ মূর্তির মধ্যে ১৮টিই। কোনো রকমে এখন টিকে আছে কয়েকটি নড়বড়ে খুঁটির ওপর মন্দিরের টিনের চালাটি। মন্দিরটি বিলুপ্ত করতে এর খুঁটিগুলোর ওপরে চালানো হয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাত!
এছাড়া বিহার এলাকার বড় বড় গাছও কেটে ফেলেছে দখলদাররা। অরক্ষিত এলাকাটিতে এখন রাখাইন জনজাতির লোকজন দিন-দুপুরেও যেতে ভয় পান।
ছবি: বিপন্ন বিহার-০২।
অন্যদিকে, দখলের অংশ হিসেবে বিহারের জমিতে একে একে গড়ে উঠছে নতুন নতুন মাটির ঘর ও বসতি।
রাখাইন নেতারা অভিযোগ করে এই লেখককে বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মাদ আলী ২০০১ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে চুক্তি করে বিহারের প্রায় ১০ একর জমি ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেন। দেবোত্তর সম্পত্তি ইজারা দেওয়া বেআইনি বলে এক বছর পর ওই চুক্তি বাতিল করা হয়। কিন্তু দুই বছর ধরে বিহারের জমি দখলের চেষ্টার অংশ হিসেবে মোহাম্মাদ আলী ও তাঁর ছেলে রাশেদ মোহাম্মাদ আলী সদলবলে মন্দিরের সম্পদ লুঠপাট করে চলেছেন।
মোহাম্মাদ আলী এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি। তিনি এই লেখকের কাছে দাবি করে বলেন, প্রয়াত মন্দির পুরোহিত (ভান্তে) অধ্যক্ষ উপঞা বংশ মহাথেরোর কাছ থেকে বৈধভাবে বিহারের জমি ইজারা নিয়ে তিনি সেখানে ফলদ ও বনজ গাছের আবাদ করছেন। তার ভাষ্য মতে, মন্দিরের সম্পদ লুটপাটের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ছবি: বিপন্ন বিহারে রাখাইন গ্রামবাসী-০১
রাখাইন-মারমা সংঘ কাউন্সিল চেয়াম্যান ভেন উ পণ্ডিত মহাথেরো অভিযোগ করে এই লেখককে বলেন, মোহাম্মাদ আলী বিহারের জমি দখলের জন্য দফায় দফায় সেখানে লুঠতরাজসহ নানা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছেন। নিরাপত্তার অভাবে সেখানে পুরোহিত দেওয়া যাচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা কয়েক দফায় বিহারের তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তা প্রহরীদের মারপিট করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।
ভেন উ পণ্ডিত মহাথেরো জানিয়েছেন, প্রায় ২০০ বছর আগে জমিদার রাপুয়া চৌধুরী ওই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর প্রথম পুরোহিত বা ভান্তে ছিলেন উ কাওয়ানা মহাথেরো। বিভিন্ন সময় পাঁচজন ভান্তে সেখানে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
হ্নীলা বৌদ্ধবিহার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ক্য জ' অং এই লেখককে জানান, বিহার এলাকায় দুই বছর ধরে মাটির ঘরবাড়ি তুলে চার-পাঁচটি পরিবার বসতি গড়ে তুলেছে। তারা বিহারের জমিতে চাষবাসও করছে।
তার মতে, বিহারের জমি ও মন্দির রক্ষায় সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠা করা না গেলে শিগগিরই প্রাচীন মন্দিরটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বিহারের জমিও পুরোপুরি বেদখল হয়ে যাবে।
স্থানীয় কৃষক মো. ইদ্রিস এই লেখককে বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে রাখাইনরা এখন বিহার এলাকায় ঢুকতে ভয় পায়। আগে এখানে রাখাইন ছেলেমেয়েরা নিয়মিত লেখাপড়া করত। বিহারে নানা ধর্মীয় উৎসবও হতো।
ছবি: বিপন্ন বিহারে রাখাইন গ্রামবাসী-০২
পরে আলাপচারিতায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জয়নুল বারী ও জেলা পুলিশ সুপার সেলিম মো. জাহাঙ্গীর এই লেখককে বলেন, কোনোক্রমেই ধর্মীয় সম্পত্তি বিক্রি বা ইজারা হয় না। তারা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারটি রক্ষা ও পুনর্নির্মানে সব ধরণের উদ্যোগের কথাও বলেন।
সারাদেশে ভাষগত সংখ্যালঘুর জমি-জমা-জলা, অরণ্য-পাহাড়, ঘর-বাড়ি, মন্দিরসহ অন্যান্য উপাসনালয় দখলের যে মহোৎসব চলছে, সেখানে কক্সবাজার প্রশাসনের ওই আশাবাদ কতটুকু কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
---
ছবি: সংগৃহিত।
---
সংযুক্ত: দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন।
- ক্যাটেগরি:
- বিপ্লব রহমান-এর ব্লগ
- মন্তব্য প্রদানের জন্য লগইন অথবা রেজিস্টার করুন
- ১৪১ বার পঠিত
Twitter-এ প্রকাশ করুন


মন্তব্য
এইসব লেখালেখি বাদ দিয়ে আপনিও এইবার নিজের পথ খুজেন। দখল ফখল শুরু করেন।
------------------------------------------------
স্বাধীনতার ৪০ বছর পরেও কি স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করার কেউ আছে?..আমার তো মনে হয় না কোন পাগল ছাড়া কেউ এখন স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে! - ফারুক ভাই
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
-----------------------------------------------------------------
অমৃতের পুত্র আমি পঞ্চম, ক্ষয়ের আনন্দে চাইনা অমরত্ব।
দেহধাম ছেড়ে পাবো হয়তো স্বর্গ বা নরক; হাহ হাহ হাহ:
দেখো! মহাকাশ ডেকেছে লং-মার্চ, কেনা-বেচার ধরাধামে আমি আজন্ম এক ফুটপাথ।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
=============================
অন্তহীন আমি
হুমম...
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
শুধুমাত্র সংখ্যালঘু না, দুর্বলদের ওপর সব যায়গাতেই একই চিত্র।
~-^
উদ্ভ্রান্ত বসে থাকি হাজারদুয়ারে!
ঠিক। আর সংথ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে ভাষা/ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন তো আছেই।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
বিপ্লব সাহেব রেফারেন্স ছাড়া এভাবে সব বিষয়ে উসকে দিচ্ছেন কেন? আপনার উদ্দেশ্য কি? কি বলতে চান আপনি?
"সারা দেশে" কথাটা বাদ দিন।
--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........
আপনার সবিনয় উপস্থিতি খুবই প্রেরণাদায়ক।

তবে আপনার অনুরোধ রাখতে পারলাম না বলে দুঃখিত। যা বলার এই লেখাতেই খুব স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। এইখানে ক্লিক করে দেখুন তো, হয়তো আপনার কাঙ্খিত রেফারেন্স পেলেও পেতে পারেন।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
এর আগেও আপনাকে বলেছি। ঘটনাগুলো কোন বৈষম্য, সংখ্যালঘু, উপজাতি, ধর্মের ভিত্তিতে হয় না।
বাংলাদেশ সহ পৃথীবি ব্যাপি এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে যাচ্ছে।
গতকাল দুইটা ছাগু কে ইহকাল পার করা হয়েছে। কোন ভিত্তিতে?
--------------------------------------------------------
সোনালী স্বপ্ন বুনেছি
পথ দিয়েছি আধারী রাত ........
@ জিনিয়াস, তাই? আপনার 'খুঁজে পাওয়া যাবে না' সহ ভিন্নমত বহাল রইলো। অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
দুঃখজনক বিষয়। মনটাই খারাপ হল সব জেনে।
**********
স্বপ্নের কারিগর
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
গোটা পৃথিবীতেই একই চিত্র, মন খারাপ করে দ্যায়। দখলবাজরা নিপাত যাক !
******************************************************************
লাল-দাড়ি , কলমা পড়া, সুন্নতের যাঁরা দেন দোহাই...সেইসব ছাগুদের সেলাম
( সাইদীর ওয়াজ বাজিয়ে বাজিয়ে কান খেয়েছে কাঠমোল্লা )
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
পাহাড়ি নির্যাতন বন্ধ হওয়া উচিত। পাহাড়িদের উচিত পাহাড়িদের সাথে করা শান্তিচুক্তিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনাকে চাপ দেওয়া।
এ ক ম ত। অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
সরকার আসে যায় কিন্তু আদিবাসীদের জীবনধারার কোন উন্নয়ন নেই। অথচ ওদের কিঞ্চিত যা কিছু আছে সেটা গিলে খাওয়ার জন্যই সরকার দলের লোকেরা উৎপেতে থাকে। ওদের দেখার যেন কেউ নেই। মাঝে মাঝে ভাবি আমাদের সরকার আসলে চায় কি? দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী নাকি ওদের থাকার একখন্ড জমি।
অনেক ধন্যবাদ। আগামীতেও সঙ্গে থাকার বিনীত অনুরোধ। চলুক।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
আপনার পাহাড়ি জনপদ নিয়ে লেখাগুলো আমার ভালই লাগে, জানতে পারি অনেক কিছু। কিন্তু এ সমস্যাগুলো মিটবে কেমন করে সেটাও একটা কথা।
পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের একটি পন্থা বলা হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ভূমি সমস্যার সমাধানসহ চুক্তির মূল শর্তগুলো গত দেড় দশকেই বাস্তবায়ন হয়নি। অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -
"ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে,
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।
তাথৈ তাথৈ থৈ দ্রিমী দ্রিমী দং দং
ভূত পিশাচ নাচে যোগিনী সঙ্গে।
দানব দলনী হয়ে উন্মাদিনী,
আর কি দানব থাকিবে বঙ্গে।।"
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ই-বুক :: রিপোর্টারের ডায়েরি: পাহাড়ের পথে পথে
শ্রেনী বিভক্ত সমাজে যেখানে মানুষের পরিচয় তার অর্থ বৈভব সেখানে দখল হবেই! মন্দির-মসজিদ-গীর্জা সব দখল হবে।
_____________________
ক্ষুদ্র স্বার্থ ভুলে মুক্তির দাঁড় টান।